যুক্তরাজ্যে মেডিকেল চেকআপ শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি     তার মুখে দুর্নীতি নিয়ে কথা মানায় না : ওবায়দুল কাদের     নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম : প্রধানমন্ত্রী     ফ্রান্সে আনন্দ-উৎসব চলছেই     উচ্চতর ডিগ্রির আসা জাগালো কারিগরির ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী     এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন যেভাবে     দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় মিষ্টি কুমড়া     বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও তার ব্যবহার    

এক হচ্ছে অননেট অফনেট কলচার্জ

  জুলাই ০৩, ২০১৮     ২৩০     ১১:০৪ পূর্বাহ্ন     শিক্ষা
--

উত্তরণবার্তা তথ্যপ্রযু্ক্তি ডেস্ক : এক হচ্ছে মোবাইল ফোনের অননেট ও অফনেটের কল রেট। চলতি মাসের শেষদিকে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) এ ঘোষণা দেবে। ঘোষণার দিন থেকেই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

তবে বহুল প্রতীক্ষিত অফনেট (এক অপারেটরের নম্বর থেকে অন্য অপারেটরের নম্বরে কল করা) ও অননেটের (নিজ অপারেটরের নম্বরে কল করা বা গ্রহণ করা) কল রেট নিয়ে চলমান বৈষম্য নিরসনে সরকারের নতুন উদ্যোগে দ্বিধাবিভক্ত অপারেটররা।

শীর্ষ তিন অপারেটরের দুটিই চাইছে অফনেট এবং অননেটের বিষয়টি তুলে দিয়ে এক রেট করা হোক। অপরদিকে মার্কেট লিডার বলছে, এটা চলুক।

টেলিকমমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলছেন, তারা এক রেট চালু করবেন। এতে বাজারে চলমান বৈষম্য দূর হবে। তিনি বলেন, ‘এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি) চালুর আগেই এক রেট করা হবে। এতে করে এমএনপির গুরুত্ব বাড়বে।

সেবার মান বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনেও প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।’ সরকারের ডেডলাইন অনুসারে চলতি মাসের ৩১ তারিখ থেকে এমএনপি সেবা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই অফনেট ও অননেট সেবার কল রেট এক করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলছেন, ‘টেলিকম নেটওয়ার্ক অপারেটরদের অফনেট, অননেট কলের জন্য ‘এক রেট’ নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। গ্রাহক স্বার্থেই এটা করা হচ্ছে।’

মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য প্রতিযোগিতা প্রবিধান চূড়ান্ত না করায় দেশের টেলিকম বাজারে অসম প্রতিযোগিতা চলছে। বিটিআরসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন, এই প্রবিধান করা থাকলে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হতো।

তিনি বলেন, ক’দিন আগে নরওয়ে সরকার তাদের সরকারি অংশীদারিত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান টেলিনরকেও প্রতিযোগী প্রবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে ৯৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে।

নিউজ ইন ইংলিশ জানিয়েছে, নরওয়ের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিনরকে ২১ জুন ৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে। টেলিনরের সিংহভাগ মালিকানা নরওয়ের।

ওই দেশটিতে যেন তৃতীয় কোনো মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা পেতে না পারে এ জন্য টেলিনর তার বাজার আধিপত্য অপব্যবহার করে প্রতিযোগীদের ঠেকিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ সংস্থাটির।

দেশে এখন বিটিআরসি নির্ধারিত সর্বনিু চার্জ অননেট প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা, অফনেট ৬০ পয়সা। সর্বোচ্চ চার্জ প্রতি মিনিট দুই টাকা। অর্থাৎ অপারেটরদের ২৫ পয়সা থেকে দুই টাকার মধ্যে কল চার্জ নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

গ্রাহকরা অপারেটরভেদে অননেটে প্রতি মিনিট ৩০ পয়সা থেকে ৩৯ পয়সায় এবং অফনেটে ৯১ পয়সা থেকে এক টাকা ৪০ পয়সায় কল করার সুযোগ পাচ্ছেন। নতুন এক কলরেট প্রথা চালু হলে এ পার্থক্য থাকবে না।

সূত্র জানায়, বর্তমানে গ্রামীণফোনের ৯০ শতাংশ কল অননেটেই বা জিপি টু জিপিতেই হয়ে থাকে। রবি ও বাংলালিংকের গ্রাহকদের ৭০ শতাংশ অননেটে এবং ৩০ শতাংশ অফনেটে কল করে থাকে। এ ক্ষেত্রে টেলিটকের অবস্থা হতাশাজনক।

টেলিটক থেকে টেলিটকে কল যায় মাত্র ১০ শতাংশ, বাকিগুলো যায় অন্য অপারেটরে। বর্তমানে অননেট (একই নেটওয়ার্ক) কলের জন্য অপারেটররা প্রতি মিনিটে ৩৫ পয়সা থেকে ৪০ পয়সা এবং অফনেট (অন্য নেটওয়ার্ক) কলের জন্য ৯১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫ পয়সা চার্জ নিয়ে থাকে।

জানা গেছে, বিটিআরসিকে দেয়া বাংলালিংকের সুপারিশ অনুসারে প্রতি মিনিট কল রেটের মূল্য ৪৫ পয়সা এবং রবি ৫৫ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। কিন্তু পুরো ধারণাটির বিরোধিতা করেছে গ্রামীণফোন। কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংস্থাটি অননেট কল ৩০ পয়সা এবং অফনেট কল ৫০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে।

গ্রামীণফোনর চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একক কলরেট চালু হলে কলের পরিমাণ কমে যাবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক অপারেটরের ক্ষেত্রেই ৬৪ শতাংশ কল আসে নিজেদের নেটওয়ার্ক থেকে।

তার মতে, অননেট কলের সর্বোচ্চ রেট বৃদ্ধি পেলে অপারেটরদের মুনাফাও কমে যাবে। মাহমুদ হোসেনের মতে, শুধু গ্রামীণফোনই নয়, একক কলরেটের কারণে অন্য অপারেটরদেরও লোকসান হবে।

তবে অন্য দুই অপারেটর বাংলালিংক ও রবি বলছে, এক রেট না করা হলে এমএনপি চালু করে কোনো লাভ হবে না। এতে করে বাজারে ছোট অপারেটরদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।

বিটিআরসির হিসাবে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত মোট মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা ১৫ কোটি ৭ লাখ ২৭ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ৬৮ দশমিক ৫৯৪ মিলিয়ন, রবি ৪৫ দশমিক ০২৯, বাংলালিংক ৩৩ দশমিক ৩৪৬ মিলিয়ন এবং টেলিটক ৩ দশমিক ৭৫৭ মিলিয়ন গ্রাহক নিয়ে সেবা দিচ্ছে।

উত্তরণবার্তা/এআর
 



রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি

  জুন ০৬, ২০১৮     ৩৯৭২

আমের কেজি ৭ টাকা

  জুন ২৭, ২০১৮     ১৪৭৬

পুরনো খবর