‘গোলাপি’ টেস্টের উদ্বোধনীতে যা যা থাকছে     ইডেনে আজ গোলাপি টেস্টে ঘণ্টা বাজাবেন প্রধানমন্ত্রী     খেলার মাঠে মুখোমুখি হবেন মমতা-হাসিনা     ইডেনে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী     বঙ্গবন্ধুর নামে হবে আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী     দেশের মানুষ ভালো আছে, এটি অনেকের সহ্য হচ্ছে না : প্রধানমন্ত্রী     রোহিঙ্গা গণহত্যা : আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের নেতৃত্বে সু চি     রাজধানী মার্কেটের আগুন তদন্তে কমিটি    

‘গীতি চন্দ্রাবতী’ মঞ্চস্থ

  অক্টোবর ৩০, ২০১৯     ২৩     ১২:৪১     আরও
--

উত্তরণবার্তা ডেস্ক : রাজারবাগের বরদেশ্বরী কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মঞ্চায়ন হল সংস্কার নাট্যদল প্রযোজিত নাটক ‘গীতি চন্দ্রাবতী’। দুইদিনের ‘ত্রি-নয়নী নাট্যোৎসব’র সমাপনী সন্ধ্যায় মঙ্গলবার মঞ্চায়ন হয় এই নাটকটি।

নয়ন চাঁদ ঘোষের রচনা থেকে নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন ইউসুফ হাসান অর্ক। বাল্যকালে চন্দ্রাবতীর বন্ধু ও খেলার সাথী ছিল জয়ানন্দ নামের এক অনাথ বালক। কৈশোর উত্তীর্ণ হলে স্থির হয় বিয়ে করবে তারা। ঠিক হয় বিয়ের দিন। এরই মাঝে জয়ানন্দ প্রেমে পড়ে এক মুসলিম নারী আসমানীর।

জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয় এবং বিয়ে করে আসমানীকে। যেদিন জয়ানন্দ বিয়ে করে সেইদিনই চন্দ্রাবতীর সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা।

বধূ সাজে সজ্জিত চন্দ্রাবতী জানতে পারে জয়ানন্দ বিয়ে করেছে অন্যত্র। ব্যথাতুর চন্দ্রাবতী প্রতিজ্ঞা করে কুমারী থেকে শিবের সাধনায় জীবন কাটাবে। বাবার কাছে অনুমতি চাইলে চন্দ্রাবতীকে তিনি পরামর্শ দেন রামায়ণ লেখার।

চন্দ্রাবতী শুরু করে শিব স্তুতি ও সাহিত্য সাধনা। এর মাঝে কেটে যায় বেশ কিছুকাল। এক সময় জয়ানন্দ উপলব্ধি করে আসমানীর প্রতি তার টান মোহ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে চন্দ্রবতীকেই ভালোবাসে সে। বুঝতে পারে তার বড় ভুল হয়ে গেছে।

ভুল শোধরাতে জয়ানন্দ সন্ধ্যার দিকে এসে পৌঁছায় চন্দ্রাবতীর মন্দিরে। চন্দ্রাবতী তখন রুদ্ধদ্বার ধ্যানমগ্ন। জয়ানন্দ মন্দিরের দরজায় এসে ডাকাডাকি করে অনেক বার, কড়াও নাড়ে।

কিন্তু ধ্যান ভাঙেনি চন্দ্রাবতীর। ব্যর্থ জয়ানন্দ মন্দিরের দরজায় একটি কবিতা লিখে বিদায় নেয় চিরদিনের মতো। ধ্যান ভাঙলে চন্দ্রাবতী মন্দির পরিষ্কার করার জন্য নদীর ঘাটে যায় জল আনতে। সেখানে গিয়ে দেখে, জয়ানন্দের নিথর দেহ ভাসছে নদীর জলে। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকটির কাহিনী।

বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনামী ইসলাম কনক : বাপ্পী সাইফ, ফাতেমা তুজ জোহরা ইভা, আশিকুর রহমান, নাবা চৌধুরী, খন্দকার রাকিবুল হক, মাসুদ কবির, হুমায়রা তাবাসসুম নদী, রাকিবুল ইসলাম রাসেল, মেছবাহুর রহমান, জান্নাত তাসফিয়া বাঁধন, ইগিমি চাকমা, মোস্তফা জামান সৌরভ, উষ্মিতা চৌধুরী, নির্ঝর অধিকারী, মায়ান মাহমুদ, টুটুন চাকলাদার, মোস্তাফিজুর রহমান মফিজ, সানাউল্লা সান্টু, সেলিম রেজা স্বপন প্রমুখ।

অন্যদিকে উৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় আরও মঞ্চায়ন হয় ঢাকা পদাতিক প্রযোজিত নাটক ‘পাইচো চোরের কিসসা’।

শিল্পী কালিদাস কর্মকারকে স্মরণ : শিল্পের ভুবনের অনন্য প্রতিভা কালিদাস কর্মকার। অল্পসময়ে ছবি আঁকার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার।

পৃথিবীর যেখানেই গেছেন রংতুলির ছোঁয়ায় সেখানেই তুলে ধরেছেন নিজের দেশ, মানবিকতা ও বাংলা সংস্কৃতিকে। শিল্পরসিকদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কালিদাস, কিন্তু তার শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন গুণী এই শিল্পী।

কালিদাসকে নিয়ে এমন মূল্যায়নই করলেন তার বন্ধু, সুহৃদ ও স্বজনরা। শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদের সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকালে একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই স্মরণানুষ্ঠান।

এতে কালিদাস কর্মকারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বরেণ্য শিল্পী হাশেম খান, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, পাখি বিশেষজ্ঞ এনাম আল হক, শিল্পী জাহিদ মুস্তফা, কীরিটি রঞ্জন বিশ্বাস, আশরাফুল আলম পপলু, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। পরিবারের পক্ষে স্মৃতিচারণ করেন দুই কন্যা কেয়া কর্মকার ও কঙ্কা কর্মকার ও দুই ভাই প্রশান্ত কর্মকার ও দীলিপ কর্মকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী কালিদাসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

উত্তরণবার্তা/এআর



পুরনো খবর