বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
ঢাকা সময়: ২৩:৪৭

হৃদয়ের এ অনুভূতি আওয়ামী লীগের নামে

হৃদয়ের এ অনুভূতি আওয়ামী লীগের নামে

  • আশেক মাহমুদ সোহান
বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাসে ২৩শে জুন তারিখটি খুবই গুরুত্ব বহন করে,কারণ ১৭৫৭ সালে এই দিনে পলাশীর আম্রকাননে ভাগীরথী নদীর তীরে নবাব সিরাজের পতনের মাধ্যমে বাংলা তার স্বাধীনতা হারায়; পরবর্তীতে ইংরেজ ও পাকিস্তানি শাষকেরা বাংলাকে আর তার স্বকীয়রুপে ফিরতে দেয়নি। ইংরেজরা যেমন নীল বিষে আমাদের ফসলের জমি ধ্বংস করে নিজেরা প্রাসাদ গড়েছে,পাকিস্তানি শাসকেরাও আমাদের কষ্টার্জিত পয়সায় কেনা অস্ত্রে আমাদেরকেই আঘাত করেছে। তবে দেশভাগের পর ১৯৪৯ সালে আরেকটি ২৩শে জুন বাঙালির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে। সেদিন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সাজানো ফুলের বাগানে আরেকটি গোলাপ ফুল ফুটে, যা পরবর্তীতে ছড়ায় বাঙালির স্বাধীনতার সৌরভ,ফুলটির নাম ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’।বিখ্যাত লেখক ফ্রান্ৎস কাফকা বলেছেন ‘Everything you love will probably be lost, but in the end, love will return in another way’. পলাশীর সেই ২৩শে জুনে হারিয়ে যাওয়া বাংলার স্বাধীনতা,দু’শ বছর পর ২৩শে জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তা ফিরে পাওয়ার শুভসূচনা হয়।
 
মূলত শাসক-শোষক তকমাকে ছাপিয়ে বাংলার কোটি আওয়ামের দল প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েক দশক জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ধাপে ধাপে জয়ী হয়ে দলটি আমাদের চুড়ান্ত বিজয়ের দিকে পৌছে দেয়।আওয়ামী লীগ আমাদের কি দিয়েছে, মহান একাত্তর তার সাক্ষ্য বহন করে। এই সংগঠনের রক্ত ঘামে ভাষা আন্দোলন,৬ দফা, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুথান, সত্তরের নির্বাচন এবং বাঙালির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধে জয়ের মতো প্রাপ্তি সম্ভব হয়েছে।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যেমন আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে,ঠিক তেমনি বুদ্ধিদীপ্ত পেপারওয়ার্কেও বিশ্ব জনতাকে বুঝিয়ে দিতে পেরেছে আমরা পারি, বাঙালির ম্যাগনাকার্টা ৬ দফা এর বাস্তব প্রমাণ। আওয়ামী লীগের এই সাত দশকের বেশি সময় ধরে চলা বন্ধুর পথকে লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে এবং প্রবল আত্মবিশ্বাস ও ত্যাগের দ্বারা মসৃণ করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি সোনার বাংলা গড়তে আজীবন সোনার মানুষ খুঁজে বেড়িয়েছেন; সেসকল মানুষকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত তথা দেশকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করেছেন। বাংলাদেশ নামে একটি দেশের স্বকীয় রুপ তিনি বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন। তবে নির্দ্বিধায় বলতে পারি বঙ্গবন্ধু যে সোনার মানুষ খুঁজেছেন, সেই সোনার মানুষ হিসেবে আওয়ামী লীগের সর্বোৎকৃষ্ট রিক্রুটমেন্ট জাতির পিতার কন্যা বর্তমান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। পচাত্তরের পর যখন দেশকে আবারও পাকিস্তানিকরণ করার প্রচেষ্টা চলছিল তখন তিনিই ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে আলোকবর্তিতা হাতে সমগ্র দেশজুড়ে সোনার মানুষ খুঁজতে নেমে পড়েন এবং আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের যে স্বপ্নের সোনার বাংলার কথা বলেছিলেন,শেখ হাসিনাও সে পথে এগিয়ে চলছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশের ১৮ কোটি জনতাকে সাথে নিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নডিঙায় চড়ে।
 
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদ,দেশের দল মত জাতি নির্বিশেষে সমানাধিকার, ন্যায্যতা সৃষ্টির জন্য ধর্মনিরপেক্ষতা,গণতন্ত্র ,সমাজতন্ত্র এই ধারণাগুলি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই যুগ যুগ ধরে চর্চা করে এদেশের মানুষকে মেধা মনন ও মানবিক দিক থেকে ইতিবাচক করে তোলার চেষ্টা করছে এবং বাঙালির উন্নত জীবনমান নিশ্চিতে সর্বোচ্চ পরিশ্রমের মাধ্যমে নানা অসাধ্য কাজ তারা সম্পন্ন করছে। বাংলার সকল মানুষের সমন্বিত কণ্ঠস্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।প্লাটিনাম জয়ন্তীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে ভালবাসা,শুভেচ্ছা ও অভিবাদন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
 
 
লেখকঃ শিক্ষার্থী (স্নাতকোত্তর পর্ব),বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK