বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
ঢাকা সময়: ২৩:৫১

বঙ্গবন্ধু হত্যা-ষড়যন্ত্র : নেপথ্য কথা - ২য় পর্ব

বঙ্গবন্ধু হত্যা-ষড়যন্ত্র : নেপথ্য কথা - ২য় পর্ব

  • ড. নূহ-উল-আলম লেনিন

উল্লিখিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০বি/৩০২/৩৪/১৮৯/ ৩২৪/৩০৭/২০১/৩৮০/২০১ ধারা অপরাধের অভিযোগপত্র/চার্জশিট দাখিল করে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়। মৃত ব্যক্তির বিচারের বিধান না থাকায় খন্দকার মোশতাক ও মাহবুব আলম চাষীসহ ৪ জন বিচার থেকে অব্যাহতি পান। জর্জকোর্টে ১৫ ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আসামি তাহের উদ্দিন ঠাকুর, অনারারী ক্যাপ্টেন আবদুল ওয়াহাব জোয়ারদার, দফাদার মারফত আলী এবং এলডি আবুল হাশেম মৃধার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহ, তীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের মামলা হতে মুক্তি দেয়। আসামি জোবায়দা রশিদ রিভিশন মামলায় হাইকোর্টের আদেশে এই মামলা হতে অব্যাহতি পান। এই পাঁচজন ব্যতিরেকে অন্য ১৫ জনকে জজকোর্ট ‘বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সংঘটিত হত্যা মামলায়’ দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর নাজিমউদ্দিন রোডস্থ ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিশেষ এজলাসে বঙ্গবন্ধু-হত্যা মামলায় বিচারক মো. কাজী গোলাম রসুল ১৭১ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায় পাঠ করে শুনান।
পরবর্তীতে জজকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আসামিগণ আপিল করেন। শেখ হাসিনার প্রথম সরকার তখনও ক্ষমতায়। আমাদের স্বাধীন উচ্চ-আদালতের একাধিক বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু-হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স-এর নিষ্পত্তি করতে বিব্রতবোধ করেন। অর্থাৎ তারা তাদের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি করতে অপারগতা জানান। পরে অবশ্য ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিচারপতি রহুল আমিন ও বিচারপতি খায়রুল হককে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বিভক্তি রায় দেন। বিচারপতি রুহুল আমিন ৫ জন আসামিকে খালাস দেন এবং বিচারপতি খায়রুল হক ১৫ জনের মৃত্যু দণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। অবশেষে ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল বিচারপতি ফজলুল করিমের একক বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্সের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে। অভিযুক্ত ৩ জনকে খালাস দেন এবং ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
স্বভাবতই আসামিরা সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন। ইতোমধ্যে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোট জয়লাভ করে। জোটের পাঁচ বছর এবং ২০০৭ ও ২০০৮-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২ বছর মোট ৭ বছর আপিল বিভাগে মামলাটি ঝুলে থাকে। রাষ্ট্রপক্ষ মামলা নিষ্পত্তির কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোট ও তিন-চতুর্থাংশ আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ ও তার মহাজোট ক্ষমতায় আসে।
শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত রায় দেয়। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। এই রায়ের পরই আটক খুনি ফারুক রহমান-সহ অন্যদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়। যে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়, তারা হলেন কারাবন্দি- (১) সৈয়দ ফারুক রহমান (২) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান (৩) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি) (৪) বজলুল হুদা ও (৫) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার)। মৃত্যুদণ্ডাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন (৬) খন্দকার আবদুর রশিদ (৭) শরিফুল হক ডালিম (৮) এএম রাশেদ চৌধুরী (৯) এমএইচএম বি নূর চৌধুরী (১০) আব্দুল মাজেদ (১১) রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। আর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় বিদেশের মাটিতে মারা যায়।
দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামিই সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য। কোনো বেসামরিক ব্যক্তি শাস্তি পাননি। খন্দকার মোশতাক ও মাহবুব আলম চাষী অবশ্য মামলা শুরুর পূর্বেই মারা যায়।
 
হত্যা-ষড়যন্ত্রের কুশীলবগণ
আমরা আলোচনাটি এখানেই শেষ করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের শুরুর প্রশ্নের জবাব আমরা এখনও পাইনি।
প্রথমত, আমাদের কাছে এখন নানান দালিলিক প্রমাণ রয়েছে যাতে বঙ্গবন্ধুর সরকার উৎখাত এবং তাকে হত্যার পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্রে অনেকেরই সক্রিয় থাকার সাক্ষ্য মিলেছে। আমরা আগেই বলেছি, মামলাটি ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড’ সম্পর্কে। অর্থাৎ মামলাটি দৃশ্যত ‘রাষ্ট্রদোহিতা’ এবং সেনাবাহিনীতে ‘মিউটিনি’-এর জন্য ছিল না। এই মামলা প্রসঙ্গে ঢাকা জজকোর্টের বিচারক কাজী গোলাম রসুল তার রায়ের শুরুতেই বলেন, ‘বিচারকার্যের ইতিহাসে এই জাতীয় হত্যার মামলা বিরল হইলেও নজিরবিহীন নহে। এই হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা সত্ত্বেও বিচার কার্যের ক্ষেত্রে আদালতের কাছে অন্যান্য হত্যা মামলার ন্যায় ইহাও কেবল একটি হত্যা মামলা।’ কারণ-
 
We have to dispense justice in accordance to our law and not according to our moral conviction with regard to the occurence. The strict requirement to law is that the onus lies on the prosecution to prove its case beyond reasonable doubt. When human life pends in the scales, caution becomes the primary duty of any tribunal called upon to assess the evidence of the case, having regared of this statutory rule of caution.
 
বিচারকার্যের এই অবিস্মরণীয় নীতি অনুসরণ করেই উভয়পক্ষের উপস্থাপিত মৌখিক, দালিলিক, তথ্যগত অবস্থাগত সাক্ষ্য ও আলামতের ভিত্তিতে এই মামলায়ও সুচিবার নিশ্চিত করার সাধ্যমতো প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
আদালতের বিচারক কোনো রাখ-ঢাক না করেই মানদণ্ডটি ব্যাখ্যা করেছেন। তার অভিমত ‘আদালতের কাছে অন্যান্য হত্যা মামলার ন্যায় ইহাও কেবল একটি হত্যা মামলা।’ অতএব বঙ্গবন্ধু-সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত দেশি-বিদেশি কেউই এই মামলার তদন্তের আওতায় ছিল না বা তাদের আসামি করা হয়নি। এ কথা তো এখন বিশ্ববাসী জানে যে, বঙ্গবন্ধু-সরকারের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত সেনা-কর্মকর্তারা ছাড়াও দেশের ভেতরের অনেকেই গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। উদাহরণ হিসেবে কয়েকজনের নাম এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে :
(১) খন্দকার মোশতাক আহমেদ (২) তাহেরউদ্দিন ঠাকুর (৩) শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (৪) মাহবুব আলম চাষী প্রমুখ।
খন্দকার মোশতাক যে শেখ মুজিবকে যৌবনের শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতেন, সে-কথা শেখ মুজিবের চেয়ে আর কেউ বেশি জানে না। মোশতাক ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭১-এর পূর্বে বহু প্রশ্নে দলের সঙ্গে বিশেষত, শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এক বা একাধিকবার দল থেকে পদত্যাগও করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি মাহবুব আলম চাষী (পররাষ্ট্র সচিব)-কে নিয়ে গোপনে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ মোশতাক ও মাহবুব আলম চাষীর কর্মকাণ্ড জানতে পেরেছিলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে এ তথ্য বেরিয়ে আসে যে, খন্দকার মোশতাক ও মাহবুব আলম চাষী কলকাতায় মার্কিন কনসুলেটরের সাথে গোপনে যোগাযোগ করেছেন। মোশতাকের এই বেআইনি গোপন তৎপরতা জানার পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ খন্দকার মোশতাককে কার্যত নিষ্ক্রিয় করেছিলেন।
মোশতাক মুক্তিযুদ্ধকালে লিফলেট বিতরণ করে বঙ্গবন্ধুর জীবনরক্ষার মেকি দরদ দেখিয়ে যুদ্ধ পরিহার করে পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতার মতবাদ (নিজ নামে নয়) প্রচার করেছেন। বস্তুত, মুক্তিযুদ্ধকালেই খন্দকার মোশতাক এবং মাহবুব আলম চাষী গং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং ভারত সরকার তা জানতেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিনি কি মোশতাকের এই ভূমিকার কথা জানতে পারেননি? এটা সহজেই অনুমেয় শেখ মুজিব অবশ্যই মোশতাকের কথা জানতেন। কিন্তু জানা সত্ত্বেও তিনি মোশতাককে সরকার ও দল থেকে সরিয়ে তো দেনইনি বরং প্রশ্রয় দিয়েছেন। এমনকি ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে মন্ত্রিসভার একমাত্র সিনিয়র সদস্য খন্দকার মোশতাকের নিশ্চিত পরাজয় থেকে অবৈধ উপায়ে জিতিয়ে আনেন। পক্ষান্তরে, সারা জীবনের পরীক্ষিত বিশ্বস্ত সহকর্মী মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন সাহেবকে ১৯৭৪ সালে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেন।
১৯৭২ সাল থেকে মেজর ফারুক রহমান বঙ্গবন্ধু-সরকারকে উৎখাত এবং তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করেন। মার্কিন সাংবাদিক লরেঞ্জ লিফসুলজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অবমুক্ত করা গোপন নথিপত্রে দুটি জিনিস পরিষ্কার- (১) ফারুক-রশিদ বঙ্গবন্ধু-হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৯৭২ সাল থেকেই সক্রিয় ছিল এবং (২) বঙ্গবন্ধু-সরকার উৎখাত ও ১৫ আগস্টের ঘটনাবলির সঙ্গে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সংশ্লিষ্টতা ছিল।
মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্রের গোপন দলিলেই উল্লেখ রয়েছে, “১৯৭২, শেখ মুজিব সরকারের অগোচরে মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে গিয়েছিলেন অস্ত্র সংগ্রহের ব্যাপারে আলোচনা করতে।”
এরপর বছর না-ঘুরতেই “১৯৭৩ সালের ১১ জুলাই একইভাবে অস্ত্র সংগ্রহের জন্য মার্কিন দূতাবাসে যান আরেকজন মেজর। তিনি ফারুকের ভায়রা ভাই মেজর আবদুর রশিদ। ব্রিগেডিয়ার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির পক্ষে সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্র ক্রয় নিয়ে কথা বলতে তাঁকে পাঠানো হয় বলে দাবি করেছিলেন তিনি।”
এখানেই শেষ নয়। “১৩ মে ১৯৭৪। সৈয়দ ফারুক রহমান ‘উচ্চতম পর্যায়ের বাংলাদেশ সেনা কর্মকর্তার নির্দেশে’ শেখ মুজিবুর রহমান সরকার উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তা চান।”
“ডকুমেন্ট নং কনফিডিয়ানশিল ঢাকা ৩১৫৬, ঢাকা থেকে তারবার্তাটি প্রেরণ করেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা নিউবেরি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশকাল, ৩০ জুন ২০০৫।”
“ডকুমেন্ট নং সিক্রেট ঢাকা ২১৫৮। ঢাকা থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে তারবার্তাটি প্রেরণ করেন, ডেভিড ইউজেন বোস্টার, প্রকাশকাল ৩০ জুন ২০০৫।”
“এর ঠিক ২৫ মাসের ব্যবধানে ১৫ আগস্টের রক্তাক্ত অভ্যুত্থান ঘটে। ফারুক রহমান ১৯৭২ সালের আগস্টে লেখককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, তিনি ১৫ মাস ধরে মুজিব-হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।”
এখানে দুটি বিষয় পরিষ্কার করার জন্য এই প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে। প্রথমত; বঙ্গবন্ধু-হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা যে আকস্মিক নয়, দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল, সেটি পরিষ্কার করা এবং দ্বিতীয়ত; বঙ্গবন্ধু-হত্যাকাণ্ডে সিআইএ তথা মার্কিন সংশ্লিষ্টতা। দীর্ঘ প্রস্তুতির কথা যেমন আমরা মার্কিন গোপন নথি থেকে দেখলাম তেমনি মার্কিন সাংবাদিক লরেঞ্জ লিফসুলজের লেখা দি আনফিনিশড রেভল্যুশন (সহলেখক কাই বার্ড) গ্রন্থ থেকেও মার্কিন সংশ্লিষ্টতার কথা সুস্পষ্টভাবে বেরিয়ে এসেছে। আমরা এখানে এই ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বর্ণনা দেব না। আমরা খুনি ফারুকের বয়ান থেকেও জানতে পেরেছি, তারা এই ষড়যন্ত্র ও তাদের অভিলাষের কথা সেনাবাহিনীর ডেপুটি প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে জানিয়েছিলেন এবং সহায়তা কামনা করেছিলেন।
জিয়াউর রহমান তাদের ষড়যন্ত্রের কথা ৫ মাস আগেই জেনেছিলেন। এন্থনি ম্যাসকারেনহাস লিখেছেন :
আমিই ফারুক ও রশীদের সাক্ষাৎকার নেই। এ সময় ফারুক আমাকে বলে সে জেনারেল জিয়াকে ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ জানিয়েছেন তারা সরকার পরিবর্তন করতে চায়। জেনারেল জিয়া তাদের বলেন ‘দুঃখিত আমি জঙ্গি কিছু করতে পারবো না। তোমরা ইয়ং অফিসার যা খুশি করো গিয়ে।
কোরান ছুঁয়ে ফারুক আমাকে একথা বলেছে। জুলাই মাসে ঢাকা এলে আমি জেনারেল জিয়াকে এ কথা ঠিক কিনা জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেছিলেন, ভেবে দেখবেন আমার জবাব দেবেন কি না।’
সেনাবাহিনী ডেপুটি প্রধান হিসেবে সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্র এ অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার কথা জানার পরও তা রাষ্ট্রপ্রধান/সরকারপ্রধানকে না জানানো সেনাবাহিনীতে চাকরির শর্ত আনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। জিয়া যে বঙ্গবন্ধু-হত্যায় ইন্ধন জুগিয়েছেন এবং উৎফুল্ল হয়েছেন তা ১৫ আগস্ট প্রত্যুষেই তিনি প্রকাশ করেছিলেন। সেনাবাহিনীর ঢাকা গ্যারিসনের কর্নেল শাফায়েত জামিল জিয়াকে বঙ্গবন্ধু-হত্যাকাণ্ডের সংবাদ জানালে জিয়া স্বাভাবিক কণ্ঠে উত্তর দেন, so what, প্রেসিডেন্ট মারা গেছে তো ভাইস প্রেসিডেন্ট আছে।’

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK