শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
ঢাকা সময়: ১৯:৪৭

মেয়েদের নিবেদন আর আত্মত্যাগের ফল এটি : ছোটন

মেয়েদের নিবেদন আর আত্মত্যাগের ফল এটি : ছোটন

উত্তরণবার্তা ডেস্ক : ২০০৯ সালে হুট করে পুরুষদের জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব থেকে নারী দলের প্রধান কোচ হন গোলাম রব্বানী ছোটন। শুরুর দিকে মনে হয়েছিল ‘পদাবনতি’ হলো তার।  কিন্তু চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি ছিলেন। দীর্ঘ এই পথচলায় বয়সভিত্তিক নারী দলকে ছয়টি শিরোপা জেতানোর পর সিনিয়র দলের সঙ্গে পেলেন চূড়ান্ত সাফল্য- সাফ চ্যাম্পিয়ন। এই এক যুগে নারীদের যে নিবেদন, কঠোর পরিশ্রম আর শৃঙ্খলা- সেগুলোর ফসল এই ট্রফি, বললেন ৫৪ বছর বয়সী কোচ।
 
একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছোটন বলেছেন, ‘আমরা একটা বিশেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের বাঘিনীরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, সব বাংলাদেশিদের জন্য গর্ব করার বিষয়। ফাইনালের আগে থেকেই দেখছিলাম, দেশবাসীরা মেয়েদের কতটা সমর্থন দেয়। এটাই ফাইনালের আগে তাদের উজ্জীবিত করেছে, উদ্দীপনা জুগিয়েছে। ১৮ হাজার দর্শকের বিপক্ষে খেলার জন্য ১৮ কোটি মানুষ তৈরি ছিল। এটাই আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল। সেই বিশ্বাস রেখেই তারা খেলেছে।’
 
লম্বা পথচলার গল্প শোনালেন তিনি, ‘জার্নিটা সহজ ছিল না। পাঁচ ছয় বছর কঠোর অনুশীলনে ছিল মেয়েরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর শিডিউলে ছিল।এই সুযোগ আমাদের করে দেন প্রেসিডেন্ট, এটাও তার দুরদর্শিতা ছিল। টাকা-পয়সার ব্যাপার আছে, ফুটবল ফেডারেশনের সীমাবদ্ধতা ছিল। তারা সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য। ২০০৯ সাল থেকে আপনারা (মিডিয়া) আমাদের সঙ্গে ছিলেন।’
 
২০০৮ সালে ছেলেদের সিনিয়র জাতীয় দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ ছিলেন। তখন ছেলেদের ফুটবল নিয়ে ছিল অন্যরকম উন্মাদনা। সেই সময় নারী দলের কোচ হওয়ার অনুভূতি জানান ছোটন, ‘মেয়েদের কোচ করা হলো। এটা অনেকটা ডিমোশনের মতো ছিল। তাদের ফিজিক্যাল ফিটনেস, টেকনিক্যাল ট্যাকটিকাল অবস্থান যেটা ছিল, সেটা ঠিক মানানসই ছিল না। মেয়েরা ভাবতো ফুটবল খেলা যে এত কষ্ট, এত পরিশ্রম করতে হবে, তাদের এই অবস্থানে আসতে হবে সেটাই বিশ্বাস করতে পারছিল না। তবে আমি শুরু থেকে বুঝতে পারছিলাম ওরা আন্তরিক, কঠোর পরিশ্রমী। সেটা পুঁজি করেই আমরা এগিয়েছি। স্বচ্ছতা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কে খেলবে, কে খেলবে না এসব স্বচ্ছতা ছিল।’
 
ছোটন, ‘আমরা একটা কমিটমেন্ট নিয়ে গিয়েছিলাম নেপালে, নতুন রূপে নিজেদের আবির্ভাব করতে চেয়েছিলাম। আমাদের বাঘিনীরা সেটা প্রথম খেলা থেকে একশভাগ করেছে, ম্যাচ বাই ম্যাচ করেছি। অ্যাম্বাসিতে যাওয়ার চাপ দিয়েছিল, আমরা যাইনি। আমাদের কমিটমেন্ট পূরণ করার জন্য যা করার দরকার, তাই করেছে ওরা। কেউই মোবাইল ব্যবহার করেনি, জরুরি হলে স্টাফদের কাছ থেকে নিয়ে ফোন করতো। ডিসিপ্লিনের জন্য যা করার দরকার, সব করেছে।’
 
ফাইনালে ওঠার পর কোনও চাপ নেয়নি মেয়েরা, জানালেন কোচ, ‘ফাইনালে খেলার লক্ষ্য ছিল, যেহেতু ফাইনালে গেছি সেরাটা দিবো- শুধু এটুকুই ভাবছিলাম। প্রেস কনফারেন্সে অনেকে বলেছে অনেক চাপ, দর্শক থাকবে। আমি বলেছি আমরা চাপে থাকবো না, চাপে থাকবে স্বাগতিকরা। কারণ মাঠে তাদের দর্শক থাকবে,চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপও ছিল। আমরা চাপে ছিলাম না, চেয়েছিলাম শেষ ধাক্কা দিতে, যদি পারি তো পারলাম। মেয়েরা ওই কাজই করেছে।’
 
নির্ধারিত সময়ের আগেই এই সাফল্য পেলো বাংলাদেশ। ছোটনের বিশ্বাস এই দল আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠবে সামনে, ‘২০২৪, ২০২৫ সাল লক্ষ্য করে এগোচ্ছিলাম। কারণ ওই সময় মেয়েরা পরিণত বয়স পেতো। তার আগেই আমাদের সাফল্য এসেছে। যখন তাদের বয়স বাড়বে, তাদের আরও স্ট্রেন্থ হবে। ফাইনালে যাওয়ার পর থেকে আমি নির্ভার ছিলাম, যখন জিতলাম আমরা অনেক উপভোগ করেছি। আমারও ঘুম হয়নি, আনন্দে। যেখানে ভারত, নেপালের মতো টিম আছে, যারা র‌্যাংকিংয়ে ভালো, সেখানে মেয়েরা যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। মেয়েদের নিবেদন আর আত্মত্যাগের ফল এটি।’
উত্তরণবার্তা/এসএ
 
 
 

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK