শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
ঢাকা সময়: ১৮:৫৩

মানুষকে ভালোবাসতে হবে, ইতিহাস না জানলে রাজনীতি করা যায় না

মানুষকে ভালোবাসতে হবে, ইতিহাস না জানলে রাজনীতি করা যায় না

  • সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী
 
উত্তরণ : আমরা আওয়ামী লীগের মুখপত্র ‘উত্তরণ’ থেকে এসেছি। আওয়ামী লীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তরণ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। আপনি বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্যা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেত্রী, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আপনার কাছে কিছু জানতে এসেছি।
সাজেদা চৌধুরী : ধন্যবাদ, বলেন কী জানতে চান?
উত্তরণ : প্রথমে আপনার কাছে জানতে চাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কীভাবে আপনি সংযুক্ত হলেন?
সাজেদা চৌধুরী : ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর আমরা যখন কলকাতা থেকে দেশে ফিরে এলাম তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয়। আমরা সবসময়ই আওয়ামী সমর্থক। আমার বাবা অবশ্য মুসলিম লীগ করতেন না। আমার দাদা একজন পীর ছিলেন; কিন্তু তিনি কংগ্রেসের হয়ে গান্ধীজির সাথে একসাথে জেল খেটেছেন। তারপর আমার বাবাও (কংগ্রেস) করতেন। এরপর দেশ (পাকিস্তান) স্বাধীন হলো। পাকিস্তান হওয়ার পরে আমরা আওয়ামী লীগ। ’৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু চিটাগং এলে আমাদের বাসায় আসলেন। আসার পরে তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমার স্বামীকে বললেন- এখানে থেকে কিছু হবে না, কারণ বিশাল এক মিটিংয়ে (চট্টগ্রামে) আমি বক্তব্য রেখেছিলাম ও (সাজেদা) এখানে থেকে কী করবে, কিছু হবে না ঢাকায় চলে এসো।
আমার হাজবেন্ড আমেরিকান ইন্স্যুরেন্সে ছিলেন, সেখান থেকেই ঢাকায় চলে আসা। বঙ্গবন্ধু বললেন, আমাকে পাবে না যদিও। ঠিক আমরা আসার আগের দিনই উনাকে (বঙ্গবন্ধু) নিয়ে গেল জেলে।
উত্তরণ : এটা কি বঙ্গবন্ধুর ৬-দফা ঘোষণার পর…
সাজেদা চৌধুরী : হ্যাঁ। এরপর আমি গেলাম ভাবীর কাছে (ফজিলাতুন্নেছা মুজিব), উনার সঙ্গে দেখা করলাম। উনার সাথে আগেই আমাদের পরিচয় ছিল। তখন আমি বললাম, উনি তো (বঙ্গবন্ধু) আমাকে আসতে বলেছিলেন। ভাবীকে বললাম, আপনি নির্দেশ দেবেন, কার কার কাছে যাব। এখানে গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন, আরও অনেকে ছিলেন। এসব জায়গায় আমি যোগাযোগ করলাম।
এরপর ঘুরে ঘুরে কাজ করতাম। যেখানে মেয়েদের কোনো কাজ করার সুবিধা ছিল না। এরপর আন্দোলন হলো। আন্দোলনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু যখন মুক্তি পেলেন, এ সময় আমরা মিছিল করে মেয়েদের নিয়ে গেলাম। তখন বদরুন্নেসা আহমেদ, নূরজাহান মোর্শেদ উনারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আরও অনেকে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির পরে আমরা গিয়ে বললাম, আওয়ামী লীগের সব শাখা কমিটিতে একজন মহিলা সম্পাদিকা রয়েছেন। তারা সারাদেশ ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগের প্রচার করবেন, এ কথা গঠনতন্ত্রে আছে।
আমি বললাম- এতে কোনো লাভ হবে মনে হয় না, এভাবে দেশের মেয়েরা বেরিয়ে এসে রাজনীতি করবে। তখন (ব্রিটিশ আমলে) মুসলিম মহিলা খুব কম ছিল। বেগম রোকেয়া (উনার স্কুলে আমি পড়তাম) আর শামসুন্নাহার, সুফিয়া কামাল এ রকম কয়েকজন ছিলেন। বঙ্গবন্ধু বললেন আচ্ছা দেখি।
এরপর তাজউদ্দীন ভাইকে খবর দিলেন। তাজউদ্দীন ভাইয়ের সাথে বসে, মোমিন (আ. মোমিন তালুকদার) ভাইও ছিলেন, অনেকে বাধা দিয়েছিলেন কিন্তু আমরা শুনিনি। মহিলা লীগ গঠন করা হলো।
উত্তরণ : এটা কত সালে আপা?
সাজেদা চৌধুরী : সত্তরের আগে। আমরা নূরজাহান মোর্শেদ (মোর্শেদ সাহেব ছিলেন তখন অফিসার) ওই বাসাতেই আমরা বসলাম। মোমিন সাহেবও ছিলেন। তাজউদ্দীন ভাই ছিলেন আরও কয়েকজন ছিলেন। তারা মহিলা আওয়ামী লীগ ব্যাপারে বললেন- এরা কি পারবে, তারা চিন্তিত হলেন। আমি বলি ওরা এগিয়ে যাবে, কমিউনিস্ট পার্টির মেয়েরা তারা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরাই ওদের সাথে মিছিল করি। এটা তো হয় না। বঙ্গবন্ধুর কাছে বলেছি আপনারাও বলতে পারেন। যদি সংগঠন না হয় তা হলে কোনো লাভ হবে না, একটা কমিটি হলো। একটা হলো ‘অল পাকিস্তান’, সেটা আমাদের নূরজাহান মোর্শেদ প্রেসিডেন্ট হলেন। আর এখানে বদরুন্নেসা আহমেদ প্রেসিডেন্ট। আমি সেক্রেটারি। এই হলো মহিলা লীগের গঠন। কিন্তু তার আগে থেকেই আমি কাজ করতাম। তারপর আমরা সব জেলায় গিয়ে মহিলা লীগ গঠন করেছি। যে কয়জন পাওয়া গেছে সে কয়জনের মধ্যে দেখলাম ৬-দফার ব্যাপারে খুব আগ্রহ। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ৬-দফা আমাদের। ওদের সাথে (পাকিস্তানিদের) সমঝোতা হবে না, আমাদের মুক্ত হতে হবে। এই ৬-দফা বঙ্গবন্ধু দিয়েছে এইটা নিয়ে আমরা মিটিং করলাম, এমনকি আমরা মিছিলও করে ফেললাম। ঊনি খুব খুশি। এভাবে তাজউদ্দীন ভাই নির্দেশ পাঠাতেন।
বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য মহিলাদের বিশাল মিছিল হয়েছিল। যার নেতৃত্বে ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল। আরও অনেকে ছিলেন। তাকে মুক্ত করতে হবে। আর ৬-দফা। এই ৬-দফা নিয়ে আন্দোলন চলল।
 
 
উত্তরণ : সত্তরের নির্বাচনে তো আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। প্রথম যে সত্তরের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদ গঠিত হলো সেখানে যারা সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য এটার মধ্যে আপনি কী ছিলেন?
সাজেদা চৌধুরী : হ্যাঁ। আমি ছিলাম।
উত্তরণ : মুক্তিযুদ্ধের পূর্বকালে আপনারা কীভাবে বুঝতে পারলেন মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের যেতে হবে বা প্রেক্ষাপটটা কীভাবে আপনি বুঝলেন?
সাজেদা চৌধুরী : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, এর আগেই উনি (বঙ্গবন্ধু) আমাদের বলেছেনÑ প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে যাবে, গিয়ে বলবে আমরা ওদের সাথে থাকতে পারব না। ৬-দফা নিয়ে আমরা ঘুরেছি। ৭ মার্চের জনসভার ছবিটা দেখ, কত মহিলা! আর আমরা যে সামনে বসে আছি (ছবিটা জাদুঘরে আছে)। আমরা তিনজন বসে আছি। তারপর, প্রত্যেকটা জায়গায় সে মিছিল, প্রত্যেকটা থানায়ও মিছিল করেছি। মেয়েরা বেরিয়ে এসেছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তি সংগ্রামে। আমরা আর ওদের সাথে থাকতে চাই না, বাংলা স্বাধীন চাই।
তারপর আমার বাড়িতে মরিচা হাউসে সেদিন মেয়েদের রাইফেল ট্রেনিং শুরু হলো। একজন ট্রেনিং নিয়েছিলেন ন্যাশনাল গার্ড থেকে (পাকিস্তান ন্যাশনাল গার্ড) উনি ট্রেনিং দিলেন। তারপর রাইফেল কাঁধে করে মিছিল। এটা নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট করে আমরা চলে এলাম। তখন উনি বললেন, না দেশের মানুষ জেগে গেছে।
দেখেন যখন ভারত স্বাধীন হয়েছিল সে সময়ের এবং তারও আগের গানগুলো সংগ্রহ করলামÑ ‘না জাগিলে ভারত ললনা, এ ভারত আর জাগে না।’ স্বদেশী গান। এটা আমার দাদী ও ফুফুদের কাছ থেকে শেখা। আমাদের মধ্যে এই চেতনা ছিল। এখন আমাদের জাগতে হবে।
উনি (বঙ্গবন্ধু) যখন বললেন, মা-বোনেরা যদি এগিয়ে না আসে তা হলে আমি কী করব। আমাদের মিছিল নিয়ে গেলাম। ঊনি খুব খুশি হলেন। বললেন ঘরে ঘরে যাবে। প্রত্যেকটা জেলায় জেলায় থানায় থানায় গিয়ে মেয়েদের নিয়ে মিছিল করেছি। আবার আমার একটা সুবিধা ছিল, তখন উনি আমাকে গার্লস গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার করেছিলেন। গার্লস গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার হয়ে আমি গার্লস গাইড গঠন করতে গেছি। কিছু তো কইতে পারে না। গাইডের পোশাক পরা। গাইড প্রত্যেক জায়গায় স্কুলে স্কুলে গঠন করেছি। এভাবে আমাদের সব কাজ আমরা করেছি।
তারপর তো ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে গেল।
“আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।”
সবাই তো বুঝে গেল। আমরাও বুঝলাম। আমার ছেলে-মেয়েরা তখন ছোট ছোট ছিল।
উত্তরণ : আপনি কী সপরিবারে চলে গিয়েছিলেন?
সাজেদা চৌধুরী : হ্যাঁ, হ্যাঁ বেরিয়ে গেছিলাম। আমার হাজবেন্ড উনি তো ছাত্রলীগ করতেন। তারপর এ-বাড়ি, ও-বাড়ি, সে-বাড়ি, কোনো আত্মীয়-স্বজনও রাখতে চায় না। তারপর এই পথ, ওই পথ। এই পথই আমাদের পথ দেখাল। গেলাম ভৈরব। জিল্লুর ভাইয়ের বাড়ি ভৈরব। আমরা জিল্লুর ভাইয়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলাম। তাকে পেলাম না। ওখানে এক ভদ্রলোক হাজী আলাউদ্দিন তিনি আমাদের দেখাশোনা ও প্রটেক করেছে। থাকতে দিয়েছিল, খেতে দিয়েছিল।
এর মধ্যে মিলিটারি এগুচ্ছে। আমাদের নিয়ে উনি নদীর ওই পারে আশুগঞ্জে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রেখে গেছে। ওই বাড়ির লোকেরা মুসলিম লীগ করত, ওরা চলে গেছে। সে বাড়িতে রাখার পর কোনো খাওয়া-দাওয়া নাই, বাচ্চা ছেলেমেয়েরা সব ক্ষুধার্ত, পানি পর্যন্ত দিতে পারছি না। এখানে নাসিম সাহেব ১৭ ঘণ্টা যুদ্ধ করেছিল। পরে ক্যাপ্টেন নাসিম সাহেব এলেন বাড়িতে। (পরবর্তীতে নাসিম সাহেব সেনাপ্রধান ছিলেন)। বলল, আপাতত ওখানে থাকেন। আবার অন্যরা বললেন, এখানে থাকা ঠিক হবে না। পানি নাই, খাবার নাইÑ এ রকম একটা অবস্থার মাঝে আমরা ছিলাম। একদিন জাহাজে করে পাকিস্তানি সেনারা এসে মুহূর্তের মধ্যে ঘিরে ফেলেছে। আমি কলকাতায় থাকতে উর্দু বলতে পারতাম।
‘কন হু তুম, দেখকে তো বাঙালি মালুম হুতা হ্যায়।’ আমি বললাম, চিটাগাং সে আরাহে, চাঁটগা থেকে এসেছি আমি। এসে এখানে আমি লুকিয়ে আছি। কলকাতায় আমাদের বাড়ি। এসে এখানে আমি লুকিয়ে আছি। আমি বিহারি। পাকিস্তানিরা অনেক পরামর্শ-টরামর্শ করল। আমার সাথে আরেকটা ছেলে ছিল ওই বেচারারে কইলাম ভাত চুলায় দিছি। তুমি আমাকে হেলপ কর। আমি বললাম তুমি খবরদার লুকাবে না। ও ভয় পেয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে গেছে। এর মধ্যে আরেক পাকিস্তানি এসে বললÑ দেখি তো কেয়ছা বেহারি হ্যায়, আমি বললাম- আমি বিহারি ন্যাহি, আম কলকাতা হ্যায়। এটা বলাতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো। এদিকে খাটের নিচে যে লুকিয়ে ছিল তাকে টেনে বের করল। আরও একজন ছিল (রফিক) তাকেসহ এ দুজনকে নিয়ে গেল।
লেকিন এই কাহা কী হ্যায়। আমি বললাম বাবুর্চি হ্যায়, তারা বলল, নাহি এ তো ফৌজকা আদমি হ্যায় (বাঙালি সৈন্য)। আমার সামনে তাকে মেরে ফেলল। এত খাবার লুট করে এনে বলল, আরামছে খাহো। এরপর খাওয়া হয়?
 
উত্তরণ : আপনারা দেশ থেকে ভারতে গেলেন কবে?
সাজেদা চৌধুরী : পাকিস্তানিরা বলল, এই চল হামারে সাথ, কোথায় যাচ্ছিলেন, ঢাকা যাব, চলো হামারে সাথ। যুদ্ধ জাহাজ কী কষ্ট করে উঠছি আল্লাহ মালুম একটা কেবিনে আমরা সব। দেখো আমি তো উর্দু বলতে পারি, আমি বিহারি, কলকাতায় আমার বাড়ি। কিন্তু আমার স্বাধীনতার পরে বিয়ে হয়েছে বাঙালির সাথে। আমি তোমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলব না। কারণ তোমরা আমাদেরই লোক। তারপর আমার স্বামীকে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, কী কর না কর, আমার স্বামী কোম্পানির লেটার হেড সেটা দেখছে, আমি যে মিথ্যা কথা বলি নাই এটা প্রুফ হলো।
সদরঘাটে জাহাজ ভিড়ল। যাও যাও জলদি যাও, জলদি যাও। তারপর ঢাকায় ফিরে এলাম। দুই দিন ছিলাম। এমএনএ তখন আমি কেউ তো রাখতে চায় না। এদিকে শুনতেছি, দেশ স্বাধীন হচ্ছে, ১৭ এপ্রিল সরকার গঠন হচ্ছে। এ কথা শুনে ভালো লাগল।
এরপর আবার মাদারীপুরের লঞ্চে উঠলাম। নদীতে লাশ ভাসতেছে। সারা পদ্মায় লাশ আর লাশ। এরপরে আমাদের ঘাটে নামিয়ে দিছে, এরপর গোলাম মোকছুদপুর আমার চাচার শ্বশুরবাড়ি। ব্রিজের মধ্যে দিয়ে গেলাম নিরাপদে থাকলাম। এরপর খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া গোপালগঞ্জ থেকে ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ছিল ইসমত কাদীর গামা। সে এবং শেখ শহীদ। বলল এখানে আর থাকা যাবে না। শেষে রাত্রে নিরাপদে গামা বাচ্চাদের কাঁধে করে নৌকা পার করল। এরপর ট্রেনে কাশিয়ানি নিল। ওরা নেমে দেখে নিল মিলিটারি আছে কি-না, তারপর আমাদের নামাল। এখান থেকে জোড়া গাড়ি করে মধুমতি নদী ক্রস করে যশোরের মোহাম্মদপুর থানা বাবুখালীতে, ওখানে আমার এক আত্মীয়ের বাসায় এলাম। এরপর ওখান থেকে হেঁটে গেলাম বিল ক্রস করে গঙ্গারামপুর। তারপর হাঁটা শুরু করলাম, এরপর যশোর ক্যান্টনমেন্টের পাশ দিয়ে কপোতাক্ষ নদ পার হয়ে ওখান থেকে বর্ডার পার হলাম।
উত্তরণ : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আপনি আওয়ামী লীগের কী দায়িত্বে ছিলেন?
সাজেদা চৌধুরী : আমি মহিলাদের ট্রেনিং করলাম। আমি এসে এখানে এমএনএ ছিলাম তো এমসিএ হয়ে গেলাম। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার পর তখন আমাকে নারী পুনর্বাসন বোর্ডের ডাইরেক্টর করল। এখন তা মহিলা অধিদপ্তর।
উত্তরণ : সাংগঠনিকভাবে কোন দায়িত্ব?
সাজেদা চৌধুরী : আমরা যে কয়জন এমএনএ ছিলাম সবাই ছিলাম। সেখানে জাস্টিস কেএম সুবহান ঊনাকে প্রেসিডেন্ট করে, ফজলে রাব্বীর ওয়াইফ, ড. নীলিমা ইব্রাহীম এবং সব শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ওয়াইফরা ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমাদের দায়িত্ব ছিল বীরাঙ্গনা মেয়েদের নিয়ে কাজ করা। বঙ্গবন্ধু বীরাঙ্গনাদের বাড়ি দিলেন। ওখানে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত ছিল।
তখন অনেক রাত। আমি আমার বাড়িতে। দেখি খোঁচা খোঁচা দাড়ি, ধুতিটা একেবারে বাজে। একটা বেনিয়ান গাঁয়ে বৃদ্ধ মানুষ কাঁপছে। তার সে কি দুরবস্থা! চেয়ে দেখি তার পাশে অপূর্ব সুন্দরী একটা মেয়ে। ১৬-১৮ বছর বয়স হবে। বৃদ্ধ বললেন, আমার মেয়েকে নিয়া আসছি আপনাদের কাছে। আমি বললাম নিশ্চয়ই, আসেন। সে বলল আপনি আমাকে একটু জল দেন। আমি জলের সাথে কিছু খেতেও দিলাম। বৃদ্ধ বললেন, মেয়ে তো ফিরে পেয়েছি, আমার আর কি! আমি ওকে নিয়ে সেই রাত্রেই পুনর্বাসন কেন্দ্রে চলে গিয়েছিলাম।
বঙ্গবন্ধু বললেন, ওদের নাম জিজ্ঞেস করলে দেবে না। ঠিকানা দিও। বাপের নাম কি? তখন উনি (বঙ্গবন্ধু) বললেন, যদি কেউ বাপের নাম দিতে না চায় তা হলে আমার নাম দিয়ে দিও, নাম শেখ মুজিবুর রহমান, বাড়ি ধানমন্ডি বত্রিশ। যাই হোক, তাদের কান্না, সে কি অসহ্য! অন্তঃসত্ত্বা সব। তখন এখানকার ডাক্তাররা ছিলেন, বিদেশ থেকে ডাক্তার আসলেন। দেখবেন ছবি কোলে করে নার্সরা সব উঠে যাচ্ছে প্লেনে বাচ্চাদের নিয়ে। সেগুলো নিয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু বললেন যে যে জায়গায় পড়ত সে সেই জায়গায়ই পড়বে। ফার্স্ট ইয়ারে যে পড়ত সে ফার্স্ট ইয়ারে পড়বে। যার যে স্কুল সেই স্কুলেই ভর্তি করাবে। সবাই লেখাপড়া শেখার পর কেউ এমএ পাস করল, ডাক্তার হইছে, বিদেশেও গেছে।
উত্তরণ : আপনি তো ১৯৭৩ সালে সরাসরি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর আমরা সবাই জানি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আপনার একটা বিশাল সাহসী ভূমিকা ছিল। খন্দকার মোশতাকের সেনা প্রভাবিত সংসদে আপনি প্রতিবাদী ভূমিকা রেখেছিলেন?
সাজেদা চৌধুরী : সবাইকে ডেকেছে। আমি যাইনি। তারপর পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশ এসে বলেছে, আপা আপনাকে ধরে নেয়ার কথা, আমরা তো আপনাকে ধরে নিতে পারি না। আমি বললাম চল। তারপর দেখি সব বসে আছে, দেখলাম অনেকে হাসিখুশিভাবে কথা বলছে উনার সঙ্গে। আমি চুপচাপ বসে আছি। হানিফ ছিল। কিছুক্ষণ পরে মুশতাক বলে, কি কেমন আছ? তুমি না-কি আমাকে মন্দ বলছো?
আমি বললাম- কি বলব আপনাকে। আপনাকে তো বলারও কিছু নেই। তারপর বললÑ হো হো বুঝেছি, ঠিক আছে যাও? যাও আমি কাজ দিব। মনে মনে কই? তুমি-
খুনি মুশতাক যখন বক্তৃতা দিচ্ছে তখন অঝোরে আমরা কাঁদছি। কারণ, কোথায় একটা মানুষ দাঁড়ায়ে বক্তৃতা দিত আর এখানে টুপির কোণাটা দেখা যাচ্ছে একটুকু একটা মানুষ। ওইটা দেইখা তো আরও চোখে পানি ঝরছে।
হানিফ অন্য কোনো কথা না বলে বলল আপনি আসেন আমি গাড়ি দিতেছি আপনাকে নামাইয়া দিয়া আসবে। এভাবে মোস্তাককে ফেইস করে এলাম।
আমি অন্য নেতাদের বাড়িতে গেলাম, সবার সাথে দেখা করলাম, শুনেন ওইসব জান বাঁচানো ফরজের কথা ছাড়েন। এইনা বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে বলতেন আপনার জন্য আমি রক্ত দিতে পারি, জীবন দিতে পারি। কয়জন জীবন দিছেন আপনারা।
তখন তাড়াতাড়ি আমাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমার সাথে রাশেদ মোশাররফ উত্তরবঙ্গের হুইপ রউফ ছিলেন। তারা বললেন আপা আপনি বের হবেন না, কিছুদিন অফ থাকেন আপনাকে বাঁচতে হবে।
চৌধুরী সাহেব অফিসে গেছেন, আসলেন হাসতে হাসতে। যাক আল্লাহ বাঁচাইছে, আমার চাকরিটা গেছে। সরাসরি বলল, বসতে পর্যন্ত দেয়নি, বলল না আপনি আসবেন না। এই যে চিঠি চলে আসছে।
উত্তরণ : এরপর আপনি কী করলেন?
সাজেদা চৌধুরী : হ্যাঁ। আমি তখন পার্টি রিভাইব করলাম। অনেকে আসতে চান না, সবাই আমাকে ঠ্যাশ দেয়, …। আমরা মুক্তিযোদ্ধা, তাই যদি হয় আপনারা যারা মুক্তিযুদ্ধে গেছেন তারা মুক্তিযুদ্ধের ভয়ে গেছেন। এই কইয়া আমি বললাম ঠিক আছে, আমি নিলাম দায়িত্ব জেনারেল সেক্রেটারি। মহিউদ্দিন সাহেব আর আমি। সে বলে, না চল মরলে মরমু আর কি আছে।
আমি গেলাম বিকেল বেলা ময়মনসিংহে দুটা মিটিং করছি। ওখানে সাহসী মানুষ একজন ছিলেন আমাদের রফিক উদ্দিন ভূইয়া (প্রয়াত)। রফিক বললেন- আমরা বাঁইচা আছি এটাই তো যন্ত্রণাদায়ক!
যাই হোক, ওখানে মিটিং করে আবার আরেকটা মিটিংয়ে যাব। বিকেল ৪টায় আগাখান গোল্ডকাপ খেলা দেখতেছিলাম, এর মধ্যে পুলিশ এসে বলল, আপনাকে যাইতে হবে। আপনি তৈরি হয়ে নেন।
বেলা হয়ে গেছে খাওয়ার নিয়ম নেই, আমাকে সরাসরি সেন্ট্রাল জেলে, ওখানে জেলারকে বললাম, আমি সব কিছু দিয়ে দিচ্ছি। অলঙ্কার সব খুলে নেওয়ার পর আমাকে নিয়ে গেল জেলখানায়। কবরের মতো সেলে রাখল আর কী। দেখলাম জেলের মধ্যে জাসদের দু-তিনটা মেয়ে আর হলো সিরাজ শিকদার, তাদের এক মেয়ে চারজন, আমি একজন পাঁচজন। এদিকে আমার বিরাট একটা অপারেশন হয়েছে। ব্যান্ডেজ বাঁধা। কী যে কষ্ট!
উত্তরণ : আপনাকে মেডিকেলে নিয়ে গেল না?
সাজেদা চৌধুরী : আমার হাজবেন্ড চৌধুরী সাহেব সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে দৌড়াদৌড়ি করে জুতা খুইয়ে ফেলছেন। ওদের বলেছেন, অনুরোধ করেছেন, ওর তো ঘা সারেনি। রাখেন হসপিটালে রাখেন। না জিয়াউর রহমানের নির্দেশ হলো সাংঘাতিক মহিলা। ওকে বাইরে রাখা যাবে না। এর মধ্যে ১১টার সময় মতিয়া গিয়ে হাজির। আপনাকে খুঁজতে খুঁজতে আমি পাগল হয়ে গেছি। কোন জায়গায় আপনি।
জেলের মধ্যে কি নোংরা। মতিয়া যাওয়াতে একটু স্বস্তি। বাথরুমও নাই। আমি শুতেও পারি না। আমার ব্যান্ডেজ খুলব তার উপায় নাই। সারারাত বসে কাটিয়েছি। ওরা ভাবল এতেই নরম হয়ে যাব, মোটেও না।
সকালে ডিআইজি রাউন্ডে এসে বলল, আপনার কোনো অসুবিধা হচ্ছে? আমি বললাম, আপনি মনে করেন আমার হাজবেন্ড কোথায় আছে? আমি কীভাবে মানুষ হয়েছি? কোথায় থাকি? আমার বাসাটা কী রকম? তারপর আর কথা কয়না ডিআইজি, মাথাটা নিচু করে রেখেছে। আবার বলে আপনার অসুবিধা হচ্ছে। আমি বললাম এর মধ্যে সুবিধার কী দেখলেন। আর কথা কয় না।
এর মধ্যে প্রতিরাতে সেনা সদস্যদের কান্না, আপা বিদায় দেন যাইতেছি। প্রতিরাতে ১০ জন, পাঁচজন ঝুলাইয়া দিছে। সকাল বেলা জমাদার আসত সে কিছুই খাইতে পারত না, রক্ত আর রক্ত। পা ভিজে যাইত। যাদের ঝুলাইয়া মরে নাই তাদের জবাই কইরা ফেলত। প্রায় এক বছর থাকার পর এসআর পাল সাত দিন ঘুরে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিলেন। জামিন পাওয়ার পরের দিন ১০টায় ছাড়া পেলাম।
আমি বাইরে আসার পর জিয়াউর রহমান সুপ্রিম কোর্ট করল এবং বলল, সি ইজ ভেরি ডেনজারাস দেশের জন্য। আমি মুক্তিযোদ্ধা, আমি যদি ডেনজারাস হই আমার হাতে অস্ত্র নেই। আমার উকিল এসআর পাল বলল- এর হাতে অস্ত্র নেই। সে একটা মেয়ে কী আর করতে পারে।
তখন বলে আমি না-কি সাংঘাতিক অর্গানাইজার। সে অর্গানাইজ করে আমাদের ক্ষতি করবে। এই হলো অবস্থা।
উত্তরণ : সভানেত্রী শেখ হাসিনা আসার প্রেক্ষাপট তৈরি হলো, তখন তো আপনার বিশাল ভূমিকা, এটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানে, সে সম্পর্কে কিছু বলেন…
সাজেদা চৌধুরী : হাসিনা তো ওখানে, আমি গেলাম, দুবার গেছি। শুধুই কান্না, যাওয়ার নিয়ম নাই, আমি বহু কষ্টে খোঁজ নিয়ে গেলাম। কোথায় আছে, চারদিকে ঘেরা একটি ছোট্ট ফ্ল্যাট। নিচে সিকিউরিটি দিয়ে রাখছে। তারপর ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেখা করেছি, উনি বললেন- This is not the time, by time will come. I will say, not now.
এই কথাটা শুনে মনটা ভেঙে গেল, কী করি তখন, এখন যে রাষ্ট্রপতি সে সময়ের মন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বলে দিলেন, আরও অপেক্ষা কর, দেখি কী করা যায়। দেখেন যখন টাইম হবে, তখন জিয়া যা আরম্ভ করছে তাতে দলও থাকবে না, কিছুই হবে না। এর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেছে। শেখ হাসিনাও লিখতেছে পার্টি যদি না থাকে, ভাঙে, আমি আর আসতে পারব না। আমি দেখলাম ও না আসলে পার্টি এক থাকবে না। সবাই প্রেসিডেন্ট হতে চায়। তিন-চারটা ভাগ হয়ে গেল, মেইনলি ভাগটা হয়েছে মিজান চৌধুরীর ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের ৮০ কোটি টাকা জিয়াউর রহমান আটকে দেওয়ার পর। তখন মিজান সাহেব আলাদা হয়ে গেলেন। জিয়া বলল, গঠনতন্ত্রে বঙ্গবন্ধুর নাম থাকবে না, তাহলে আপনারা নির্বাচন করতে পারবেন। বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে দিলেই ইতিহাস বাদ হয়ে যাবে, বাংলাদেশও বাদ হয়ে যাবে। অতএব আমি এটা পারব না। আমি পরিষ্কার বলে দিলাম, অতএব এটা আমার দ্বারা সম্ভব না। তখন ওই যে আমাদের ল’ সেক্রেটারি এবং আরেকজন ছিলেন উকিল নামকরা, বললেন দেখি কী করা যায়। ‘বঙ্গবন্ধুর নাম আওয়ামী লীগের পক্ষে বাদ দেওয়া সম্ভবপর নয়’Ñ এসব মন্তব্য লিখে দেওয়া হলো। এভাবে দলের পারমিশন নেওয়া হলো। এ ছাড়া তো অন্য কোনো উপায় ছিল না।
উত্তরণ : যেটা বলছিলেন নেত্রীর কথা দিল্লি গেলেন…
সাজেদা চৌধুরী : হ্যাঁ, নট নাউ তো, তবুও এখানে কাউন্সিলের মাঝে পাস করে ফেলল। কোরবান ভাই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। অনেকে এখন খুবই আত্মীয় হয়ে গেছে। কিন্তু যে কয়জন ছিল আমাদের সাথে ছিল, তারা একেবারে কঠিন, কঠিনভাবে বলল, শেখ হাসিনাকে আনতেই হবে। যাই হোক, মোটামুটি আমি কাউন্সিলের মধ্যে পাস করলাম, রাত্রে দেড়টা-২টার দিকে মালেক উকিল আসলেন, বললেন আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপাতত। উনার তো শর্ত ছিল। আবদুর রাজ্জাক সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার নাম ঘোষণা করলেন। তখন কামাল হোসেনের ভূমিকা ছিল। কামাল হোসেন বললেন, ও তো আমাদের মাথার মুকুট হয়ে থাকবে। তাছাড়া অনেক নেতার দ্বিমত ছিল- ও কি পারবে ‘বাচ্চা মানুষ’।
আমি বললাম বাচ্চা হলেও বাঘের বাচ্চা তো।
উত্তরণ : সারাজীবন আপনি অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে একজন মহিলা হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং আমরা দেখেছি অনেক জাঁদরেল জাঁদরেল নেতার মুখোমুখি হয়েছেনÑ এ সাহসটা আপনি কোথা থেকে পেয়েছেন?
সাজেদা চৌধুরী : এটা আমি বলি আমার পূর্বপুরুষ ছিল পীর। তাদের ইতিহাস আলাদা আছে। এর মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় কথা বলেছেন। যেমন আমার দাদা ছিলেন পীর। কিন্তু খদ্দরের জুব্বা পরতেন। আমার দাদী বড় জমিদার মীর সরোয়ার জাহান নাম ছিল, তখন অনেক বড় জমিদার। তবুও আমার দাদা গান্ধীজির সাথে জেল খেটেছেন। জেনেটিকভাবেই লড়াই করার একটা প্রয়াস রয়েছে।
উত্তরণ : আওয়ামী লীগের ৬৫ বছর এখনকার আওয়ামী লীগের কর্মীদের কাছে আপনার কী ম্যাসেজ?
সাজেদা চৌধুরী : আমার পূর্বপুরুষদের আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এবং সৎ পথে চলেছেন। কেউ কখনও বলতে পারবে না আমার ছেলেরাÑ আমার সন্তানরা কোনোদিন লজ্জা পাবে না, কখনও বলতে পারবে না। তাদের না খাইয়ে রেখেছি। আমার একটা মাত্র মেয়ে, দুই ছেলে, ওরা সবাই শিক্ষাগ্রহণ করেছে। আমার ম্যাসেজ সবাইকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, ইতিহাস না জানলে রাজনীতি করা যায় না। শুধু আমাদের ইতিহাস না, বিশ্বের সব জায়গার ইতিহাস পড়তে হবে এবং জানতেও হবে। তা না হলে কমপিটিশন করব কী করে। এই যে আমি তো চিরঞ্জীব না, কাজেই এখানে এসেছি, আল্লাহতায়ালা পাঠিয়েছেন। তার এই ধরনী এখানে সুন্দর করা, মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, আমার এলাকায় যেতাম এতখানি কাদার মধ্যে দিয়ে, এখন আপনারা যাবেন পিচ রাস্তা হয়ে গেছে, টাউন হয়ে গেছে। এই যে মানুষের জন্য কাজ করা, আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়, মানুষের দোয়াÑ এটা অনেক বড় জিনিস। আমি কয়দিন বাঁচব। আমি যদি এখানে ধনী হয়ে যাই আমার লোকগুলো যদি না খেয়ে থাকে, তাহলে আমি তো চলে যাব। এই ধন-দৌলত কে খাবে। কাজেই ওসবের মধ্যে নেই। আমি আমার কাজ যা, আমার দায়িত্ব যা, আল্লাহর তরফ থেকে সেটুকু আমি সুস্থভাবে করে যেতে পারি। আর আমার সন্তানরাও সবাই শিক্ষিত এবং তারা কাজ করবে আগামী প্রজন্মের, তারা কোনোদিন একটা পয়সা কারও কাছ থেকে নেবে না। চাঁদাবাজি ঘৃণার ব্যাপার। দুনিয়াতে পাঠাইছে আল্লাহতায়ালা পরীক্ষার জন্য, আমাদের যে নির্দেশ তিনি দিয়েছেন সে নির্দেশ অনুযায়ী চলছি, যাতে চলতে পারি- এটাই সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।
 
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী : উপনেতা, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য
(উত্তরণ জুন ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকার)
 
সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন উত্তরণ-এর বার্তা সম্পাদক আনিস আহামেদ ও বাণীবদ্ধ করেছেন উত্তরণ কর্মী আরিফুল ইসলাম সোহেল

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK