শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
ঢাকা সময়: ১৭:৩৪

আত্মপ্রত্যয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ শেখ জামাল

আত্মপ্রত্যয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ শেখ জামাল

‘জামাল’ শব্দের আরবি অর্থ ‘সৌন্দর্য’। সত্যি তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সৌন্দর্য। তার স্মৃতি মনে করে এখনও আবেগতাড়িত হন তার দুই বোন।
 
ড. জেবউননেছা
 
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭-১২ মার্চ। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী হলেন। ১৯৫৪ সালের ১০ মে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষি ঋণ সমবায় ও পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর মেঝো ছেলে শেখ জামাল জন্মগ্রহণ করেন গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায়। দেশপ্রেম, রাজনীতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে ছোট্ট শিশুটিকে পিতৃস্নেহ দিতে পারেননি। ওদিকে স্বামীর রাজনৈতিক কর্মকা-ে সহায়তার জন্য বঙ্গমাতা তিন সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। গেণ্ডারিয়া রজনী বোস লেনে ছোট্ট একটি বাসা ভাড়া করেন। এরপর বঙ্গমাতা ৩নং মিন্টো রোডের বাড়িতে সংসার গোছান। সংসার পরিপূর্ণভাবে গোছানোর আগেই লালবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশি হয়রানির শিকার বঙ্গমাতাকে ১৪ দিনের নোটিসে সরকারি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। বঙ্গবন্ধু ২৬৫ দিন কারাভোগ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৫ সালে মুক্তিলাভ করেন। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন তখন শিশু জামালের বয়স ১০ মাস। একরকম রাজনৈতিক টানাপোড়নের মাঝে বঙ্গবন্ধু পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারের বাসাতে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে শিশু শেখ জামাল বড় হতে থাকেন। একসময় বঙ্গমাতা ঢাকার সেগুনবাগিচায় বসবাস শুরু করেন। সেগুনবাগিচার বাসা থেকে শেখ জামাল তার ভাইবোনের সাথে প্রাতঃভ্রমণের জন্য রমনা পার্কে যেতেন। প্রাতঃভ্রমণ থেকে ফিরে পরিবারের সবাই পত্রিকা পড়তেন। শেখ জামাল ছিলেন শৈশব থেকে প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। তিনি ছিলেন ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও ভিন্ন রকমের। শিক্ষা-জীবনের হাতেখড়ি সেগুনবাগিচার ডনস কিন্ডার গার্টেনে। সেখান থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন বিএফ শাহীন স্কুলে ১৯৬১ সালে, ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজের নজরুল ইসলাম হাউসের দ্বিতীয় তলায় তিনি বাস করতেন। ১৯৭২ সালে তিনি প্রথম বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষার ক্রমিক ছিল ৪৯১১, সনদপত্র নম্বর ৭১৫৩৯। পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে যুগোস্লভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পরামর্শ এবং শেখ জামালের মধ্যে সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ দেখে মার্শাল টিটো যুগোস্লভিয়ার মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রস্তাব করেন। অতঃপর শেখ জামাল যুগোস্লভিয়ার মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু মিলিটারি একাডেমিতে ভাষাগত অসুবিধা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য তাকে ব্রিটেনের বেকন্সফিল্ডে কয়েক মাস প্রি-স্যান্ডহার্স্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। অতঃপর রয়েল মিলিটারি একাডেমি, স্যান্ডহার্স্টে ১৯৭৫ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫-এর ২৭ জুন পর্যন্ত প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
তিনি দেশে ফিরে ঢাকা সেনানিবাসের চার্লি কোম্পানির কোম্পানি অফিসার হিসেবে তদানীন্তন কোম্পানি কমান্ডার মেজর নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীকের অধীনে যোগদান করেন দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোম্পানি কমান্ডার বলেন, ‘শেখ জামালকে যে অল্প কয়েক মাস কোম্পানি অফিসার হিসেবে পেয়েছিলাম। তাতে দেখেছি, তার মধ্যে যে কোনো মানুষকে আপন করে নেবার গুণাবলি, নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল। যারাই তার সংস্পর্শে এসেছেন, তারাই তার প্রতি অনুরাগী হয়েছেন। সকল কাজে সৈনিকদের সাথে যোগ দিতেন। তিনি ছিলেন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট। সকাল ৬.৩০-এর শারীরিক প্রশিক্ষণ। ৮.৩০ মিনিটে ইউনিটে এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুপুর ২টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাত্রীকালীন কর্মসূচি না থাকলে অফিসার্স মেসে চলে যেতেন সবাই। যেহেতু শেখ জামাল বিবাহিত ছিলেন। তাই তাকে বাসায় থাকার অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল। শেখ জামাল একদিন একটি গাড়ি নিয়ে এসে তাকে বলেন, আসেন আমার গাড়িতে স্যার। তখন তিনি বলেছিলেন, তুমি যদি এখানে নিয়মিত গাড়ি নিয়ে আসো, দেখতে ভালো দেখাবে না। তুমি আগামীকাল থেকে তোমার মোটর সাইকেল নিয়ে এসো। শেখ জামাল এ-কথা শুনে, পরদিন থেকে তার পুরনো মোটর সাইকেল নিয়ে সেনানিবাসে সময়মতো যেতেন ও ফিরতেন। বঙ্গবন্ধুর ছোট বোন শেখ জামালের ফুফু খাদিজা হোসেন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ হোসেনের মেয়ে পারভীন রোজীর সাথে জামালের বিবাহ হয় ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে ৬৭৭ নম্বর বাড়ির পাশে যে লেক, সেই লেকে শেখ জামাল সাঁতার কাটা শিখেছেন প্রতিবেশী স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বদরুন্নেসা আহমাদের ছেলে নাওয়াজ আহমাদের কাছে। নাওয়াজ আহমাদের চোখে শেখ জামাল এখনও জীবন্ত। বাড়ির ছাদে শেখ জামালের ঘুড়ি উড়ানোর স্মৃতি এখনও চোখে ভাসে। সবুজ রঙের গাড়িতে শেখ জামাল এবং তাদের স্কুলে যাওয়ার স্মৃতি ভুলতে পারেন না তিনি। শেখ জামালের বাল্যবন্ধু সহপাঠী শাহরিয়ার মো. সালাহউদ্দিনের স্মৃতিতে শেখ জামাল এখনও দেদীপ্যমান। দুজনে একসাথে আবাহনী ক্রিকেট টিমে খেলতেন। শেখ জামাল স্পিন বোলার এবং ব্যাটসম্যান ছিলেন। তিনি আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবে ফুটবল খেলতেন। ঢাকা স্টেডিয়ামের মওলানা ভাসানী আউটার স্টেডিয়ামে শেখ জামাল আর তিনি মোটর সাইকেলে চড়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নেন। যুক্তরাজ্যে শেখ জামাল যখন পড়তেন, ফেরার সময় বন্ধু শাহরিয়ার ও কোচের জন্য এডিডাস বুটের জুতো এনেছিলেন। শেখ জামাল যখন রয়েল মিলিটারি একাডেমিতে পড়তেন তখন প্রতি রবিবার বাংলাদেশ ভবনে যেতেন। কারণ সেখানে শাহরিয়ার থাকতেন, তিনি গ্রাজুয়েশন কোর্সে ছিলেন তখন। এই দুজন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সেলফ রিজ কোম্পানিতে মেনস ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধুর ছেলে হিসেবে শেখ জামাল সেই দোকানে তার পরিচয় গোপন রাখেন। এই দোকানে কাজ করে তারা ১৫ পাউন্ড রোজগার করতেন। ছুটির দিনে দুজনে মিলে সিনেমা দেখতেন। শেখ জামাল ভীষণ ফ্যাশন সচেতন ছিলেন। বর্ষণমুখর দিনে শেখ জামালের বিবাহ অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে সকল অতিথির সাথে বঙ্গবন্ধু নিজে কুশলবিনিময় করেছেন, জানতে চেয়েছেন আপ্যায়ন ঠিকমতো পেয়েছে কি না? শেখ জামালের এই বন্ধু সব সময় বলতেন, বঙ্গমাতা শেখ জামালের মা, আমারও মা। তিনি এবং শেখ জামাল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ইংল্যান্ড বনাম ভারতের খেলা উপভোগ করেছেন। ভবানিপুরে একজনের বাসায় তারা উঠেছিলেন। পাঁচ দিন কলকাতায় ছিলেন। মজার ব্যাপার, পাঁচ দিনই তারা সিনেমা হলে সিনেমা দেখেছেন।
শেখ জামালের ঢাকা কলেজের সহপাঠী ঘনিষ্ঠ বন্ধু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর খান সাহেব ওসমান আলীর নাতি রাজনীতিবিদ একেএম শামসুজ্জোহার ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান শেখ জামাল সম্পর্কে তার স্মৃতিকথায় বলেন, কলেজে সবার সাথে শেখ জামাল ঢালাওভাবে মিশতেন না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছিল তার। ব্যক্তিত্ব ছিল ভীষণ। এইচএসসি পরীক্ষার তিন মাস পূর্বে বঙ্গবন্ধু তাকে এবং শেখ জামালকে ডাকেন। সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ায় মন দিতে বলেন। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলে বিনিময়ে এই দুজন যা চাইবে, তাই দেওয়া হবে বলে বঙ্গবন্ধু তাদের কথা দেন। বঙ্গবন্ধুর আদেশে তারা ভালোভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং উত্তীর্ণ হন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ জামালকে সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেন এবং সেলিম ওসমানকে ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোনিবেশ করতে বলেন।
রয়েল মিলিটারি একাডেমির স্যান্ডহার্স্টের বন্ধু মেজর জেনারেল আলাউদ্দিন ওয়াদুদের স্মৃতিতে শেখ জামাল আন্তরিক ও নিরাভরণ একজন মানুষ। যেদিন তিনি স্যান্ডহার্স্টে যান, সেদিন একাডেমির হোস্টেলে অপেক্ষা করছিলেন শেখ জামাল। তাকে দেখেই শেখ জামাল এমন করে কথা বলছিলেন যেন কতদিনের চেনা। প্রথম দেখায় তাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে তার মধ্যে কোনো অহমিকা ছিল না। মানবিক অনুভূতি তার মধ্যে কাজ করত। এই মিলিটারি একাডেমিতে সৌদি বাদশাহ ফয়সালের ভাগ্নে এবং ওমানের রাষ্ট্রপ্রধানের পুত্রও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বেশিরভাগ সময় বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেলে শেখ জামালই টাকা দিতেন। বন্ধুরা দিতে চাইলেও টাকা দিতে দিতেন না। তারা বাংলাদেশ হোস্টেল আর্সেনালে থাকতেন। তার মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল এবং সব সময় বলতেন দেশে ফিরে যাওয়ার পর আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করব প্রশিক্ষণের। আমরাই শেখাব। তারা প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে যেদিন দেশে ফিরে আসেন সেদিন বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল তাদের গ্রহণ করতে দাঁড়িয়েছিলেন। ওয়াদুদ সাহেবের সাথে শেখ কামাল এমন করে কুশলবিনিময় করেছিলেন, মনে হচ্ছিল তারা যেন শেখ কামালের কতদিনের পরিচিত। শেখ জামাল তার দুজন সহপাঠী ওয়াদুদ এবং মাসুদুল হাসানকে তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করতে চাইলে তারা বলেন, তোমাদের বাড়িতে গেলে প্রধান ফটকের পরে হয়তো প্রবেশ করতে নানা নিয়মকানুন মানতে হবে। আমরা কী করে যাব? ঘরে প্রবেশ করতে না দিলে আমাদের মন খারাপ হবে। শেখ জামাল তাদের আশ্বস্ত করেন এবং ধানমন্ডিতে তাদের বাড়িতে যেতে বলেন। সময়মতো তারা শেখ জামালের বাড়ির ফটকের সামনে এসে পৌঁছালে, তারা বিস্মিত হয়ে দেখে যে শেখ জামাল দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের দেখামাত্রই শেখ জামাল তাদের আসসালামু আলাইকুম বলে গেটের ভিতরে আসতে বলে। পরে ফটকে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তটস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তারা বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গেলে দেখেন যে বঙ্গবন্ধু লুঙ্গি পরা, গায়ে সাদা গেঞ্জি, কোলে সজীব ওয়াজেদ জয়। বঙ্গবন্ধু তাদের সাথে কথা বলেন এবং সৎভাবে কাজ করার পরামর্শ প্রদান করেন। মেজর জেনারেল এমএ ওয়াদুদ এই স্মৃতি ভুলতে পারেননি। রেখে দিয়েছেন যতœ করে সেই ছবি। যে ছবি বাংলাদেশের সকল জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ছবিটি ছিল রয়েল মিলিটারি একাডেমির স্যান্ডহার্স্টে কমিশন লাভের ছবি। ১৬ জুলাই ১৯৭৫ সালে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ শেখ জামাল এমএ ওয়াদুদ এবং মাসুদুল হাসানের সামরিক পোশাক পরিহিত ছবির নিচে ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ব্রিটেনের সুবিখ্যাত সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্যান্ডহার্স্টে সম্প্রতি এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় কুচকাওয়াজের পূর্বে বাংলাদেশের তিনজন কৃতী অফিসার ক্যাডেট।’ রানি এলিজাবেথের পক্ষে গ্লচেস্টারের ডাচেস রাজকুমারী এলিস কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। স্যান্ডহার্স্টের শর্ট সার্ভিস কমিশনে ছয় মাসের সুকঠিন গ্রাজুয়েট কোর্স সমাপান্তে কমিশন লাভের পর্বে এটাই ছিল তাদের সর্বশেষ কোর্স সমাপনান্তে কমিশন লাভের পূর্বে এই ছিল তাদের সর্বশেষ কুচকাওয়াজ। এই দলে ৪০০ ক্যাডেটের মধ্যে বিদেশির সংখ্যা ছিল ৩০। এই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভ্রাতা শেখ নাসের এবং বাংলাদেশি দূতাবাসের যুক্তরাজ্যের কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। শেখ জামালের ফুফাতো ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহর স্মৃতিতে শেখ জামাল জীবন্ত হয়ে আছেন। দুজনে মিলে সিনেমা দেখা। শেখ জামালের কোনো পোশাক পছন্দ হলে তাকে আবদার করলে তার পোশাক পরা, যুগোসøাভিয়া থেকে তিনি যে রাইফেলটি এনেছিলেন তা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ পছন্দ করলে শেখ জামাল তাকে দিয়ে দেন। পরবর্তীকালে ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের ফলে রাইফেলটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
শেখ জামালের বিষয়ে বেশ কয়েকবার বঙ্গবন্ধু তার ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থে স্মৃতিচারণ করেছেন।
১৫ জুন ১৯৬৬ ‘জামালের শরীর খারাপ, গলা ফুলে রয়েছে। এ বড় খারাপ ব্যামো। রেণুকে বললাম, ডাক্তার দেখাইও। স্কুলে যেতে পারবে না। এছাড়া আরো অনেক কথা হলো।’
২৮ এপ্রিল ১৯৬৭-৩০ এপ্রিল ১৯৬৭, এ সময়ের মধ্যে লিখেছেন, ‘জামাল বলল, আব্বা আমি এখন লেখাপড়া করি। বললাম, তুমি আমার ভালো ছেলে মন দিয়ে পড়িও।’
কারাগার থেকে বঙ্গমাতাকে বঙ্গবন্ধু প্রায়ই চিঠি লিখতেন। একবার এক চিঠিতে লিখেন, ‘জামাল যেন মন দিয়ে ছবি আঁকে। এবার একটি ছবি এঁকে যেন নিয়ে আসে। আমি দেখব।’
পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পিতৃস্নেহ পরিপূর্ণভাবে পায়নি শেখ জামাল। কিন্তু পিতার মনে সন্তান শেখ জামাল বাস করতেন। তা এ কয়েকটি স্মৃতিতে পরিস্ফুট হয়েছে। যে শিশুটি আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে, তার ভিতরে একটি বারুদ বেড়ে উঠবেই। যে বারুদের আগুনে ভস্মীভূত হতে পারে যে কোনো অন্যায়ের দুর্গ।
২৫ মার্চ ১৯৭১-এর কালরাত্রির ঘটনায় বঙ্গমাতা সাংবাদিক শ্রী রবীন সেনগুপ্তের সাথে সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে বলেছিলেন, একজন কর্নেল, বোধহয় একজন মেজর, দুইজন সিপাহী উনার (বঙ্গবন্ধু) সঙ্গে উপরে আসলো। উপরে এসে জামালকে বলল, আমার কাপড়-চোপড় আর সুটকেসটা দাও। তাড়াতাড়ি আমি আর জামাল জামাকাপড় রেডি করে দিলাম। যখন শেখ সাহেবকে নিয়ে নিচে যায়, তখন কর্নেল মেঝো ছেলেকে বলল, ‘তোমার বাবাকে নিয়ে যাচ্ছি, আমি খুব দুঃখিত। মেঝো ছেলে খুব রাগ করল। শেখ সাহেব বলল, এদের সঙ্গে আর কথা বলে কি হবে।’ সংগীত বিদ্যায়তন ছায়ানটে গিটার বাজানো ছেলেটির জীবনের গিটারের তার কখনও ছিঁড়ে যায়, কখনও জোড়া লাগে। একজন ১৭ বছরের ছেলে, যার চোখে-মুখে তারুণ্য, তেজোদীপ্ত যার যৌবন। সে-সময়টিতে স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশ মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদ করছে নিপীড়ন আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কারাগার, পুলিশ, মিছিল, গুলিÑ এসব দেখে যে বেড়ে উঠেছে, এর মধ্যে বাবাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় মন খারাপ তো হবেই।
২৬ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর প্রতিবেশী নুরউদ্দিন আহমেদ তার গ্রন্থে বলেন, “২৬ মার্চের শুরু থেকে বাংলার ঘরে ঘরে উড়ছিল কালো পতাকা। রাত পোহালেই শুনি নির্দেশ জারি হয়েছে পতাকা নামিয়ে ফেলার জন্য। শেখ জামাল ওদের বাড়ি থেকে উল্কাবেগে ছুটে এসে আমাদের ছাদের পতাকা একটানে নামিয়ে ফেললো। জামালের কাছে শুনলাম শেখ কামাল গত রাতে বাসায় ছিল না। কিন্তু ভোরের দিকে কারফিউর মাঝে বাড়ি এসে পৌঁছিয়েছে।”
২৬ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসা আক্রমণ করলে পাশের বাসার ডা. সামাদের বড় ছেলে এসে বঙ্গমাতা, শেখ জামাল, শেখ রাসেলকে নিয়ে যান তাদের বাসায়। এরপর নানারকম আত্মগোপনের পর ১২ মে ১৯৭১ পাক-সেনাবাহিনীর মেজর হোসেন শেখ জামালসহ পরিবারের সবাইকে গ্রেফতার করে ধানমন্ডির ৯/এ (পুরাতন ১৮) সড়কের ২৬ নম্বর বাড়িতে বন্দী করে রাখেন। সার্বক্ষণিক ১৫/২০ জন পাকিস্তানি সৈন্যের পাহারায় রাখে। এ প্রসঙ্গে জেনারেল উবান সিং তার স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালে শেখ জামালের সাথে তার স্মৃতিকথা।
১৯৭১ সালের ৫ আগস্ট সকালের দিকে শেখ জামাল মুক্তিযুদ্ধের যোগদানের জন্য ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি আগরতলা থেকে কলকাতা হয়ে উত্তর প্রদেশের কালশীতে পৌঁছান। ২১ দিনে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ৮০ জন নির্বাচিত তরুণের সঙ্গে। এরপর ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।
পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে গ্রেফতার হওয়ায় তাদের বাসায় আটক অবস্থায় থাকত। বাসা থেকে সমস্ত আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার ফলে মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হতো। জামাল পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। সে একজন পাঠান গার্ডের সঙ্গে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করেছিল এবং তাঁরকাটা ঘেরা বন্দিশালা থেকে লাফ দিয়ে বাইরে চলে গেল। পাকিস্তানি বাহিনীর নজর এড়ানো ছিল কঠিন ব্যাপার; কিন্তু সে ঝুঁকি নিয়েছিল। ২০ বছরের কম বয়সী ছেলেটি তাকে মুগ্ধ করেছিল। সে পালালো এবং ভারতের পথে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া আর কিছু ছাত্রের সঙ্গে মিলিত হলো। অনেক দেরিতে তাকে চিহ্নিত করা গিয়েছিল, মুজিব বাহিনীর যুবনেতারা তাকে খুঁজে নিয়ে এসেছিল। তখন তিনি খবর পাঠিয়ে দেন, এই বাঘের বাচ্চার ব্যাপারে বিশেষ যতœ নিতে হবে। কারণ শুধু এই নয় যে সে শেখ মুজিবের পুত্র। বরং এজন্য যে এত অল্প বয়সে চূড়ান্ত দুঃসাহসের কাজ সে করেছে। জামাল তার জন্য বিশেষ খাদ্য, পোশাক গ্রহণে অস্বীকার করেছিল। সে সমস্ত ধকল সহ্য করে গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল দ্রুত শিখে নিল। সে তাকে বলেছিল, তার বাবার খ্যাতির মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। শেখ জামাল অত্যন্ত পাকা হাতে অস্ত্র ধরত এবং পার্বত্য ঠাণ্ডা হাওয়া উপভোগ করত। প্রশিক্ষণের পরে সে সীমান্তের দিকে চলে গেল এবং তার কমরেডদের সাথে সবচেয়ে কঠিন বিপদ ও ঝামেলার ভাগ নিয়েছিল। সে দিনরাত কাজ করত। জেনারেল উবান শেখ জামালের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে কখনও তার চোখে অশ্রু ঝরত। জেনারেল উবানের মতে, জামাল ছিল জন্মগত নেতা। যেমন ছিল তার বাবা। জামাল তার বাবার টেপরেকর্ডার করার স্বদেশবাসীকে জেগে ওঠার জন্য বাংলায় দেওয়া ভাষণ শুনত তখন উবান তাকে লক্ষ্য করতেন। জামাল মাঝে মাঝে একাকী কান্নাকাটি করত। শুধু তার বাবার জন্য নয়; বরং তার মা ও সবচেয়ে ছোট ভাই রাসেলের জন্য। সে নীরবে দুঃখ ভোগ করত। জামাল একসময় উবানের পরিবারে অত্যন্ত প্রিয়ভাজন হয়ে গিয়েছিলেন। তাকে উবান তার ফলের বাগানে দাওয়াত করতেন। তার বাড়িটি ছিল বাংলাদেশি নেতাদের সাধারণ সাময়িক বিরতির স্থান। উবান সব সময় জামালের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রার্থনা করতেন। দেশ স্বাধীন হলে যুদ্ধের পোশাকে যুদ্ধের ফ্রন্ট থেকে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন। ওইদিন ঢাকার পল্টন ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে শেখ জামাল উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১-এর ২২ ডিসেম্বর যখন জাতীয় চার নেতা দেশে ফিরে আসেন, সেই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে মঞ্চ তদারকির দায়িত্ব ছিল শেখ জামালের।
ভীষণ আত্মপ্রত্যয়ী জামাল সকল বিষয়ে ছিল তার অংশগ্রহণ। তিনি ছিলেন খেলোয়াড়, গিটার বাদক, চিত্রশিল্পী, বন্ধু বৎসল, দায়িত্বশীল মানুষ। ইতিহাসের পাতায় শেখ জামালের নাম লেখা থাকবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষটি বেঁচে থাকলে হয়তো হতে পারতেন একজন চৌকস সেনা কর্মকর্তা, নতুবা খেলোয়াড় অথবা গিটার বাদক। কিন্তু তা হতে দেয়নি নরঘাতকরা। ১৯৭৫-এর সকালে ১৫ আগস্টে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে ৬৭৭ নম্বর বাসায় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। তার বাসার সহকারী আবদুর রহমান বলেন, তিনি ঘুমন্ত শেখ জামালকে ডেকে ঘুম থেকে উঠান। শেখ জামাল তখন প্যান্ট-শার্ট পরে তাড়াতাড়ি বঙ্গমাতার কক্ষে প্রবেশ করেন। সঙ্গে যান তার স্ত্রী রোজী জামাল। অতঃপর তারা বাথরুমে আশ্রয় নেন। এতেও বাঁচতে পারেননি। মেজর আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন শেখ জামাল এবং তার স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন। শেখ জামালের মাথা ও চিবুকের নিচ থেকে উড়ে গিয়েছিল। ডান হাতের মধ্যমায় ছিল মুক্তার আংটি। ২২ বছর বয়সী শেখ জামালের জীবনের অবসান ঘটে সেদিন, একটি স্বপ্নের অবসান ঘটে। একটি সত্যিকারের মুক্তা সেদিন হারিয়ে যায় পৃথিবী থেকে। যে মুক্তার শেষ ঠিকানা হয় বনানী কবরস্থান।
১৯৭১-এর ১ ডিসেম্বর লন্ডনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১০ কিলোমিটার ভিতরে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে সেমি অটোমেটিক ভারী মেশিনে গুলি ভরার ছবিটি ধানমন্ডি জাতির পিতা স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই ছবিতে শেখ জামাল একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা। এখনও তিনি কিশোর হয়েই আছেন সবার কাছে। ‘জামাল’ শব্দের আরবি অর্থ ‘সৌন্দর্য’। সত্যি তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সৌন্দর্য। তার স্মৃতি মনে করে এখনও আবেগতাড়িত হন তার দুই বোন। বড় বোন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নজরুল ইসলাম হাউসের যে কক্ষে তার আদরের ভাই থাকতেন, সেই কক্ষে তার ভাইয়ের আত্মার মাগফেরাত কামনায় নফল নামাজ আদায় করেন। একজন বোনই শুধু অনুভব করতেন, ভাই কতটা আদরের এবং আবেগের।
শেখ জামালকে নিয়ে লেখাটি শেষ করব বঙ্গবন্ধু এবং জেনারেল উবানের একটি স্মৃতিকথা দিয়ে। তিনি তার গ্রন্থ ‘ফ্যান্টমস অব চিটাগং, দি ফিফথ আর্মি ইন বাংলাদেশ’ নামক গ্রন্থে সেই স্মৃতিচারণ উল্লেখ করেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু উবানকে চিঠি লিখেছিলেন, সেখানে একপর্যায়ে লিখেছিলেন, আমার ছেলে জামালকে আপনি গড়ে তুলতে পারেন, কারণ আপনার জন্য তার রয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। আমি তাকে আরও পড়াশোনা করার জন্য আপনার কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। তাকে যে কোনো প্রতিষ্ঠানে দিন কিন্তু আপনার বাড়িতে রাখুন। তার চরিত্র গড়ে তুলুন। আমি আশা করি, এটা আপনার স্ত্রীর জন্য খুব বেশি অসুবিধাজনক হবে না।
মেজর জেনারেল উবান উত্তরে লিখেছিলেন, “জামাল অবশ্যই আসতে পারে। তাকে এখানে পাঠান এবং তার সম্বন্ধে সকল উদ্বেগ ঝেড়ে ফেলুন। সে একটা সাহসী ছেলে এবং সে জীবনে ভালো করবে। আমি মিলিটারি একাডেমিতে তার ভর্তির জন্য চেষ্টা করব এবং তাকে বাংলাদেশে একজন আর্মির অফিসার হিসেবে ফেরত পাঠাব।”
বঙ্গবন্ধু সেই চিঠির জবাবে বলেছিলেন, “সেটা ভালো হবে।” পরবর্তীকালে শেখ জামাল যখন যুগোসøাভিয়া একাডেমিতে যোগ দিতে যান তখন যুগোসøাভিয়ার পথে দিল্লিতে তার আশীর্বাদ নিতে জামাল গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ হয়ে পড়েছিলেন।
কবি ও নাট্যকার মু. জালাল উদ্দিন নলুয়া তার রচিত ‘টাকার পাহাড় চাই’ নাটকের এক সংলাপে লিখেছিলেন, “জন্মদাতা, কর্মদাতা, শিক্ষাদাতার মতোই আমি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি দেশের মুক্তিদাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের। সত্যিই বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ শ্রদ্ধার এবং ভালোবাসার। ক্ষণজন্মা কীর্তিমান পুরুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামালের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যতদিন বেঁচে থাকবে, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামালের স্মৃতি ততদিন অক্ষয় হয়ে থাকবে।”
 
লেখক : অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK