শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
ঢাকা সময়: ১৯:১০

২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যাকাণ্ড: হাওয়া ভবনের ষড়যন্ত্র

২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যাকাণ্ড: হাওয়া ভবনের ষড়যন্ত্র

২১ আগস্টে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতেই এই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। যুদ্ধে যেসব গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় সেসব আর্জেস গ্রেনেড দিয়ে হামলা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা।

 
আশরাফ সিদ্দিকী বিটু
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেক ন্যক্কারজনক ও কলঙ্কজনক অধ্যায়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা যেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকা-ের নতুন সংস্করণ। ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বিদেশে থাকায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বেঁচে যান। ২১ আগস্টে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতেই এই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। যুদ্ধে যেসব গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় সেসব আর্জেস গ্রেনেড দিয়ে হামলা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বর জাতীয় চারনেতাকে নৃশংসভাবে কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়। এসব বর্বর হত্যাকা- শুধু ব্যক্তিকেই হত্যা নয়, পাশাপাশি দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করতে পরিচালনা করা হয়েছে।
২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেই দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নিধন শুরু করে। মৃত্যুদ-ে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী নিজামী ও মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়েছিল। হাওয়া ভবন হয়ে উঠেছিল বিকল্প সরকার। বিএনপি-জামাত জোট সরকার বিরোধী দলের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাতে থাকে। দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। জঙ্গিবাদের প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছিল বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট সরকার। মানুষকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল জেএমবির শায়খ আবদুর রহমান, বাংলাভাই জঙ্গিগোষ্ঠী। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের মদদে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৫৪টি উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গি সংগঠন ও ইসলামি এনজিও-র নামে বিদেশি জঙ্গি ও মৌলবাদী সংগঠন সারাদেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছিল। সে-সময় জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকে অনিরাপদ রাষ্ট্র ঘোষণাও করা হয়।
সংসদের বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট সরকারের সন্ত্রাস, বোমা হামলা, জঙ্গি অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করে আসছিল। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয়, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সারাদেশে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। হাজার হাজার মানুষ সেদিন জড়ো হয়েছিল। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে যাওয়ার কথা। বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ চেপে বিকালে ৫টার একটু আগে সমাবেশস্থলে আসেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে খোলা ট্রাকই ছিল সেদিনের প্রতিবাদ সভার মঞ্চ। ট্রাকে দাঁড়িয়ে সেদিন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রায় ২ ঘণ্টার মতো বক্তৃতা দিয়েছেন। পরে ৫টা ২ মিনিটে সভার প্রধান অতিথি, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বক্তৃতা শুরু করেন। বক্তৃতা করেছিলেন প্রায় ২০ মিনিট, সময় তখন বিকাল ৫টা ২২ মিনিট। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তৃতা শেষ করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগুতে থাকলেন ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে। মুহূর্তেই নারকীয় গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। সে এক ভয়াল অবস্থা! মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১২টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আওয়ামী লীগ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আইভি রহমানসহ আরও ১২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেদিন শুধু গ্রেনেড হামলাই করা হয়নি, নেতাদের মানববর্ম শেখ হাসিনাকে বাঁচালেও তাকে বহনকারী গাড়িতেও কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়, গুলিতে নিহত হন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সহকারী মাহবুব আলম। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় শেখ হাসিনাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ গাড়িটি। এই বর্বরোচিত হামলায় প্রাণে রক্ষা পেলেও আহত হন বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। শুধু ২৪ জন মানুষকে হত্যা করাই হয়নি, পাশাপাশি গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী। দলীয় কার্যালয়ের সামনে সভাস্থল ও এর আশপাশে সমগ্র এলাকা রক্তে লাল হয়ে যায়। এলোমেলো হয়ে পড়েছিল লাশ ও চারদিকে ছিল আহতদের আত্মচিৎকার। প্রাণভয়ে মানুষজন দিগি¦দিক দৌড়াচ্ছিল। গ্রেনেডের বিকট আওয়াজ আর বিস্ফোরণের কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল আকাশ, প্রাণভয়ে দিকশূন্য হয়ে ছুটেছিল মানুষ। ক্ষণিক সময়েই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ মুহূর্তে পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। আহতদের চিৎকার, উদ্ধারকর্মীদের হৈচৈ, বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের শব্দে একাকার হয়ে যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্স আর পুলিশের গাড়ির সাইরেনের শব্দ। সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে প্রচণ্ড শব্দে আরেকটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়, পুলিশের উপস্থিতিতে সিটি ভবনের পাশের গলিতে। সভার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত ট্রাকের ওপর, এর পাশে, সমাবেশস্থলে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী, মানুষের চিৎকার, ছুটোছুটিতে একটি সমাবেশের চেহারাই পাল্টে যায়। আওয়ামী লীগ কার্যালয় আর রমনা ভবনের সড়কে বিভিন্ন জায়গা ভেসে যেতে থাকে রক্তের স্রোতে। ছেঁড়া স্যান্ডেল, রক্ত, পড়ে থাকা ব্যানার, পতাকার সঙ্গে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল নারী-পুরুষের দেহ। কেউ নিথর-স্তব্ধ, কেউবা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশেই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাস-বোমা হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় চালানো হয় পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা। সেদিন আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা বিস্ফোরণের পর থেকেই পুরো ঢাকা হয়ে ওঠে এক আতঙ্কের নগরী। ঘটনার পর দেখা যাচ্ছিল, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ওপরটা ঢেকে ছিল কালো ধোঁয়ার আকাশে। রাস্তায় ভাঙা কাচের গুঁড়োর সাক্ষী রেখে ছুটে পালাচ্ছিল চলন্ত গাড়িগুলো। দুই ট্রাক পুলিশ ছিল হাইকোর্টের সামনের রাস্তায়। বুটের শব্দে ১০ দিক সচকিত করে তারা যাচ্ছেন অকুস্থলে। দুই পাশের রাস্তায় হাজারখানেক নারী-পুরুষ-বৃদ্ধ-শিশু দাঁড়িয়ে ছিল বিহ্বল হয়ে। সচিবালয়ে কাজ শেষে বাসায় ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু কেউই রাস্তায় বের হওয়ার সাহস করছিলেন না।
সিনিয়র ফটোসাংবাদিক এসএম গোর্কি সেদিন শেখ হাসিনার ভালো ছবি পাননি বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আবারও পোজ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। গোর্কির অনুরোধে সাড়া দিয়েই বঙ্গবন্ধু-কন্যা ফের ডায়াসে ঘুরে দাঁড়ান। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একাধিক বক্তব্যে নিজেই উল্লেখ করেছেন। নারকীয় সেই হামলায় নিহত-আহতদের চিকিৎসায় কোনো সহযোগিতা করেনি জোট সরকার। পুলিশ বাহিনী কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। আহত রক্তাক্ত হাত-পা হারানো মানুষগুলোকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা না করে উল্টো টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়, যাতে ঘাতকরা সহজে পালিয়ে যেতে পারে। এমন কী অবিস্ফোরিত গ্রেনেড উদ্ধার করা হলেও আলামত নষ্ট করতে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থলের সকল আলামত নষ্ট করে ফেলা হয়। হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে যখন ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের ওপর বেধড়ক লাঠি-টিয়ার শেল চার্জ করে। একইসঙ্গে নষ্ট করা হয় সেই রোমহর্ষক ঘটনার যাবতীয় আলামত।
আহতরা যেন চিকিৎসা না পান সে-জন্যও উপরের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের অলিখিত নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল। হামলার পর অগণিত আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে নেওয়া হলেও মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। বিএনপি-জামাত সমর্থক ড্যাবের ডাক্তাররা সেদিন চিকিৎসা দিতে আসেনি। ফলে আহত বেশিরভাগ নেতাকর্মী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিল। জোট সরকারের নির্দেশে নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত ও লাশ হস্তান্তরে নানান টালবাহানা করা হয়।
ঘৃণিত গ্রেনেড হামলা থেকে কোনোভাবে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যেন প্রাণ নিয়ে ফিরতে না পারেন, তার সব চেষ্টায়ই করেছিল হামলাকারীরা। তার গাড়ির কাচে কমপক্ষে ৭টি বুলেটের আঘাতের দাগ, গ্রেনেড ছুড়ে মারার চিহ্ন এবং বুলেটের আঘাতে পাংচার হয়ে যাওয়া গাড়ির দুটি চাকা সে-কথাই প্রমাণ করে। এটি ছিল একেবারে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যার পরিকল্পনা। তিন স্তরের বুলেট নিরোধক ব্যবস্থাসম্পন্ন মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িটিই সেদিন শেখ হাসিনার প্রাণ বাঁচিয়েছিল। গ্রেনেড আক্রমণ ব্যর্থ হলে শেখ হাসিনাকে হত্যার বিকল্প পন্থা হিসেবে বন্দুকধারীদের তৈরি রাখা হয়। আর এই বন্দুকধারীরা খুব হিসাব কষে নেত্রীর গাড়ির কাচে গুলি চালায়। এই গুলি বুলেটপ্রুফ কাচ ভেদ করতে ব্যর্থ হলে তারা গাড়ি লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারে। কিন্তু এই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। সব শেষে গাড়ির চাকা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে থামানোর চেষ্টা করা হয়। এ অবস্থায় গুলির আঘাতে গাড়ির বাঁ পাশের সামনের ও পেছনের দুটি চাকা পুরোপুরি পাংচার হয়ে গেলেও চালক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই গাড়িটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ধানমন্ডির সুধা সদনে নিয়ে যান। গ্রেনেড হামলার পরপরই শেখ হাসিনার নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ঘেরাও করে নামিয়ে গাড়ির কাছে নিয়ে আসেন। আর তখনই গাড়ির সামনের জানালা লক্ষ্য করে পরপর অনেকগুলো গুলি ছোড়া হয়। এ সময় তাকে ঘেরাও করে রাখা আওয়ামী লীগ সভাপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী মাহবুব স্পটেই মারা যান। কোনোক্রমে শেখ হাসিনা গাড়িতে ওঠার পরপরই গাড়ি চালু করতে পেছন থেকে বাঁ দিকের সিট লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। কোনোরকমে জীবন নিয়ে তার বাসভবন সুধা সদনে বেঁচে ফেরেন শেখ হাসিনা।
২৪ আগস্ট ২০২১-এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন নারীনেত্রী আইভি রহমানকে দেখে আসার পরপরই মৃত ঘোষণা করা হয়- এ কথাটা অনেকেরই জানা নেই; এটা জানিয়ে রাখলাম যে, কত বড় নৃশংসতা এরা করতে পারে! প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আইভি রহমানকে যখন সিএমএইচে নেওয়া হয়, আমরা ঠিক জানি না- কখন কোন মুহূর্তে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ছেলেমেয়েরা তার কাছে ছিল। সে-সময় তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে দেখতে যাবেন বলে ছেলেমেয়ে যারা বেডের কাছে ছিল, তাদের একটা কামরার মধ্যে নিয়ে তালা মেরে রাখা হয়। ৩-৪ ঘণ্টা নাজমুল হাসান পাপন, বোন তানিয়া, ময়নাÑ তাদের সবাইকে একটা রুমে তালা দিয়ে রেখে তারপর খালেদা জিয়া যান আইভি রহমানকে দেখতে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, শুধু হত্যার চেষ্টাই না; হত্যার পর লাশ নিয়েও তারা যে কর্মকা- করেছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মারা যাওয়ার পর অনেকের লাশ তারা দিতে চায়নি। লাশ আত্মীয়-স্বজনের কাছে তারা দেয়নি। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে দলের সমর্থক এবং যারা জীবিত তারা যেহেতু সাহায্য করতে যায় এবং সারারাত তাদের চেষ্টার পর একে একে সেই লাশগুলো হস্তান্তর করে। লাশটা পর্যন্ত দিতে চায়নি! পারলে লাশটা গুম করে ফেলতÑ এই ছিল অবস্থা। শেখ হাসিনা আরও বলেন, আহতদের দেশে, ভারতে এবং অন্য দেশে পাঠিয়েও চিকিৎসা করিয়েছি। যাদের অনেকেই আজ আর নেই, মারা গেছেন। অনেকেই পঙ্গু হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। আহতদের আমরা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে সহায়তা দিয়েছি এবং সে-সময় একটা আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে যে ফান্ড এসেছে, তা থেকে চিকিৎসাধীন প্রত্যেককে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি এবং এখনও আমরা দিয়ে যাচ্ছি।
ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার প্রস্তুতি চলে দীর্ঘ সময় ধরে। কয়েক দফা বৈঠক হয়। বিদেশে থেকে গ্রেনেড আনা, কীভাবে হামলা করা হবে সেই ছক কষা হয়, যেন নিপুণ দক্ষতায় হামলা চালিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছি। বিএনপি-জামাত জোট সরকার এহেন কোনো অপকর্ম নেই যে গ্রেনেড হামলার জন্য করেনি। সে-সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও বিষয়টিতে সায় দিয়েছিলেন, অবহিত ছিলেন এবং তার সরকার খুনিদের বিদেশ পালাতে সহযোগিতাও করেছিল। অথচ সরকারের বক্তব্য ছিল ভিন্ন, উল্টো আওয়ামী লীগকেই দোষারোপ করছিল সরকার। গ্রেনেড হামলার ভয়াবহতা সারাবিশ্ব নেতৃবৃন্দকে উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত করেছিল। তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু গ্রেনেড হামলার ঘটনায় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি, বিএনপির এমপিরা সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে অভিযোগ করে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। খুনিদের মিশন শেষ করার সব ব্যবস্থা করে পরের দিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছিলেন, ডব We are looking for শত্রুস। সরকারের মন্ত্রী এমপিরা এও বলেছিল, শেখ হাসিনাই না-কি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়ে হামলা করেছিল। খালেদা জিয়া নিজে সংসদে বলেছিলেন, ‘উনাকে (শেখ হাসিনাকে) মারবে কে?’ সবার স্মরণে আছে যে, ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের পক্ষ থেকে এমন অবিশ্বাস্য কথাও ফলাও করে প্রচার করা হয় যে, আওয়ামী লীগ নিজেরাই জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন পেতে ওই গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল।
ভয়াল গ্রেনেড হামলার ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় পৃথক ৪টি মামলা করা হয়। ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট রাজধানীর মতিঝিল থানায় এসআই ফারুক আহমেদ, শেখ হাসিনার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিল বাদী হয়ে পৃথক ৩টি মামলা করেন। ওই বছরের ২০ অক্টোবর একই থানায় আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাদী হয়ে অন্য মামলাটি করেন। মামলাগুলো একত্রে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু হামলার দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয় আওয়ামী লীগের ওপর। তদন্তের শুরু থেকেই নানা গল্প সাজানো হয়। জোট সরকার বিচারপতি জয়নুল আবেদিনকে নিয়ে এক সদস্যের এক তদন্ত কমিটি করেছিল, এই ‘লোক দেখানো’ তদন্ত কমিটিও কোনো সঠিক প্রতিবেদন দিতে পারেনি; বরং বলেছিল পার্শ্ববর্তী একটি দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। ২০০৪ সালের ২ অক্টোবর বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের কমিশন সরকারের কাছে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে এই গ্রেনেড হামলার পেছনে একটি শক্তিশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাত ছিল বলে উল্লেখ করে।
বিএনপি-জামাত জোট সরকার বিভিন্নভাবে এ মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বীরকোট গ্রামের বাড়ি থেকে ‘জজ মিয়া’ নামের এক ব্যক্তিকে সিআইডি আটক করে। ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে জজ মিয়ার কাছ থেকে সিআইডি সাজানো জবানবন্দি আদায় করে। কিন্তু পরে প্রকাশ পায় জজ মিয়ার পরিবারকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন প্রতি মাসে মাসোহারা প্রদানের শর্ত দিয়ে এই সাজানো ভুয়া জবানবন্দি নিয়েছিল। এই ঘটনা ‘জজ মিয়া নাটক’ হিসেবে পরিচিত। গণমাধ্যমে ফাঁস হয় যে বিষয়টি পুলিশের সাজানো ছিল।
পরে ২০০৭ সালে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালের ১১ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল করিম। এতে জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর একত্রে চার মামলায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক দুটি চার্জশিট গঠন করেন আদালত। ১৭ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২০০৯ সালের ৯ জুন ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ২০০৯ সালের ২৫ জুন অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত ওই বছরের ৩ আগস্ট অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ। ২০১২ সালের ১৮ মার্চ দ্বিতীয় দফায় চার্জ গঠন করেন আদালত। ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে জজ মিয়া নাটকের অবসান হয়। ২০১৭ সালের ৩০ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওই বছরের ১২ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন ও ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে নেওয়া ১৫টি গ্রেনেড দিয়ে জনসভায় হামলা চালানো হয়। হাওয়া ভবনে তারেক রহমান, যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নূর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, আবদুস সালামসহ বিএনপি-জামাতের শীর্ষ নেতা এবং মুফতি হান্নানসহ শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের বৈঠকে গ্রেনেড হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিলেন। হাওয়া ভবনেই হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বৈঠকও হয়। পরবর্তীতে যা মুফতি হান্নানসহ আটজন আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সত্য বেরিয়ে আসে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও জেএমবির সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ায় আসামির তালিকা থেকে এদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সাত বছরে সর্বমোট ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে ভয়াল হামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর ১০ অক্টোবর ২০১৮ পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১৯ আসামি হলেনÑ বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআইর সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইর সাবেক ডিজি ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ (পলাতক), মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক), মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ, রফিকুল ইসলাম ও উজ্জ্বল ওরফে রতন। যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত ১৯ আসামিÑ তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবুবকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) ও রাতুল আহম্মেদ বাবু (পলাতক)।
 
তিন আইজিপিসহ ১১ জনের দুই ও তিন বছর সাজা
পুলিশের সাবেক আইজি খোদাবক্স চৌধুরী (কারাগারে), সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অব.) রুহুল আমিন (কারাগারে), এএসপি (অব.) আবদুর রশিদ (কারাগারে) ও এএসপি (অব.) মুন্সি আতিকুর রহমানকে (কারাগারে) তিন বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক (কারাগারে), সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা (কারাগারে), সাবেক আইজিপি শহুদুল হক (কারাগারে), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন (পলাতক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার (পলাতক), ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক উপ-কমিশনার ওবায়দুর রহমান (পলাতক) ও ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার খান সাঈদ হাসানকে (পলাতক) দুই বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
২৪ জন নিহত ও ৫ শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় করা দুই মামলায় বিচারিক আদালতে রায় হয়েছে চার বছর আগে। এবার উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পালা। করোনার কারণে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হলেও খুব শিগগিরই বহুল আলোচিত মামলা দুটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুনানি শুরুতে সব ধরনের প্রস্তুতিও শেষের দিকে।
এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার, হাওয়া ভবনে বসে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া হত্যার পরিকল্পনা বিষয়ে অবগত ছিলেন, যা তৎকালীন বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। তৎকালীন বিএপি-জামাত জোট সরকার এই বর্বর হামলার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী। যারা পলাতক আসামি তাদের যে কোনো মূল্যে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হোক।
২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বিচারের রায় কার্যকর হলে নিহতদের আত্মা খানিকটা শান্তি পাবে ও আমাদেরও কিছুটা দায়মুক্তি হবে।
 
লেখক : সহ-সম্পাদক, উত্তরণ

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK