বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯
ঢাকা সময়: ১২:৩২
ব্রেকিং নিউজ

বিএনপি মিথ্যা বানানোর কারখানা : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি মিথ্যা বানানোর কারখানা  :  প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যাচার করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‌‘মিথ্যা বলা ও বানানোর কারখানা যদি থেকে থাকে, তা হলো বিএনপি। তারা মিথ্যা ভালো বানাতে পারে। এই বন্যায় বিএনপির কোনও নেতা সাহায্য দেয়নি। কিন্তু আমাদের নেতারা দুর্গম এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ করছে। অথচ তারা ঢাকায় বসে উল্টা-পাল্টা কথা বলে যাচ্ছে।’ ২৩ জুন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ওই অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
 
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি নেতাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। এখনো লাহোরে স্বর্ণের দোকানে খালেদা জিয়ার ছবি আছে। সেই দোকানের স্বর্ণ তার খুব প্রিয় ছিল। বিএনপির অন্তরে এখনো ‘পেয়ারে পাকিস্তান’ রয়ে গেছে।শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে বলছেন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কীভাবে? মিলিটারি ডিক্টেটরদের পকেট থেকে তৈরি দল; যাদের নেতারা পলাতক, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাদের নিয়ে নির্বাচন করতে হবে?তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া স্লোগান দেয়, পঁচাত্তরের পরাজিত শক্তি। তারা তো দেবেই, তারা তো পাকিস্তানের পদলেহনকারী। বেয়াদব।’
 
সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমরা পদ্মা সেতু করেছি। এটা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিএনপি। দুর্নীতিবাজরা প্রশ্ন তোলে কী করে! তারা নানা প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে। জনগণের জন্য তো কিছুই করেনি। আওয়ামী লীগ নিজের নয়, দেশের জনগণের ভাগ্য গড়তে এসেছে। করছেও তা-ই। খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া নম্বর ওয়ান দুর্নীতির অবস্থান থেকে এখন বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল অবস্থানে নিয়ে এসেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট নির্বাচন করে। ’৭০ সালেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পাকিস্তানিরা ২০ দলীয় জোট গঠন করেই নির্বাচন করেছিল। ইতিহাসে খোঁজ নিলে পাবেন।তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানুষের পাশে থেকেছে আওয়ামী লীগ। আর এটা করতে গিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের বারবার জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও অসম্ভব কষ্ট করেছেন।
 
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কোনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়নি। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, সফলতাও পেয়েছে। ’৭০ সালের ভোটেও বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছিল। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। আর চক্রান্তটাও শুরু হয় সেখান থেকেই। স্বাধীনতাবিরোধীরা বাংলা ও বাঙালির ভালো কিছু মেনে নিতে পারেনি।
 
শেখ হাসিনা বলেন, ‌‘১৫ আগস্ট শুধু আমরা আপনজন হারিয়েছি তা নয়, বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিল। অথচ তারেক জিয়ার ৭৫ এর হাতিয়ার গর্জে ওঠার স্লোগান দেখে বোঝা যায়, সে ও তার বাবা-মা পাকিস্তানের দালাল ছিল। পাকিস্তানের পদলেহনই তাদের বৈশিষ্ট্য। পাকিস্তানিদের লাথি-ঝাটাও তাদের ভালো লাগে। তারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তবে তারা চক্রান্ত করে। তাদের করুনা করা যায়।’
 
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‌‘গুম, খুন জিয়া শুরু করেছিল। এর পর খালেদা জিয়া এসে এটা এগিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূল কীভাবে হবে। যে দলের নেতারা দুর্নীতি, খুন, হত্যা, অস্ত্র চালানের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ২০০৭ সালে তো তারেক মুচলেকা দিয়েছিল, সে আর রাজনীতি করবে না। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে ছেড়ে দেয়। সে সেচ্ছায় চলে গিয়েছিল। একজন নেতার যদি ফিরে আসার সহস না থাকে তাহলে তার দিয়ে কেমনে রাজনীতি হয়।’
উত্তরণবার্তা/এআর

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK
আরও সংবাদ