সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ঢাকা সময়: ২২:৫৮

উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে ধনবাড়ীর কৃষকদের

উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে ধনবাড়ীর কৃষকদের

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : স্বল্প আয়ূকালের উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের ধান চাষ করে বেশি ফলন পাওয়ায় আশায় কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বোরো  চাষে আগ্রহ বেড়ে চলেছে। এতে করে ধানের উৎপাদন বেশি হওযায় লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। ইতিমধ্যে পুরো দুমে শুরু হয়েছে আমন ধান কাট ও মাড়াই। বোরো আবাদকে সামনে রেখে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। জমি তৈরি ও বীজ বপনে তাঁরা ব্যস্ত। দুই ফসলি জমিতে আবাদ করা যাচ্ছে তিন ফসল।      

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, উপজেলায় পুরো দমে চলছে ধান কাটা, মাড়াই ও সংগ্রহের কাজ। আমনে মৌসুমে স্বল্প আয়ূকালের উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বেশি চাষ করা হয়েছে। এতে বেশি ফলন পাওয়ায় কৃষকরা বেজায় খুশি। বোরো আবাদকে সামনে রেখে আরও বেশি লাভবান হওয়ার জন্য বোরো ধান চাষে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ বপন করছেন। বীজতলা তৈরির জন্য জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করছেন। উপজেলার বীজের দোকানগুলোতে বেড়েছে কৃষকদের উন্নত ফলনশীল জাতের বোরো ধানের বীজ কেনার হিড়িক।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার আমন ধান চাষে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছে। ৯ হাজার ৫ শত হেক্টর জমির মধ্যে সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ হয়। সামনে বোরো আবাদের জন্য উপজেলার কৃষকরা বেশি ফলনের আশায় উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ বপন করছে। বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে দশ হাজার হেক্টর। চাষিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বীজতলার তেমন কোন ক্ষতি হবে না। জানুয়ারির মধ্যে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ শেষ হবে।

বলিভদ্র ইউনিয়নে কৃষক সুরুজ মিয়া ও ধোপাখালী ইউনিয়নের কৃষক নাসির হোসেন জানান, বোরো আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করেছি। বেশি ফলন পাবার জন্য উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ বপন করবো। এতে করে কম সময়ে বেশি ফলন পাওয়া যায়। দুই ফসলেন জমিতে তিন ফসল আবাদ করা যায়। পাইস্কা ইউনিয়নের কৃষক নূর নবী জানান, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছে। এজন্য ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ধান চাষের জন্য কর্মরতরা বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। সরকারীভাবে কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।  

কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা দোলেয়ার হোসেন জানান, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করে কৃষক লাভবান হওয়ায় ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। আমরা মাঠে যেয়ে বীজতলা তৈরি ও ধান চাষের জন্য নানা পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগ বালাই কম হলে ভালো ফসল পাবেন কৃষকরা। ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, বোরো ধান চাষের জন্য কৃষকরা বীজতলা তৈরি করছে। কৃষকদের আমরা নানাভাবে পরামর্শ প্রদান করছি। যদি কোনও ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে বোরো আবাদে বাম্পার ফলন হবে আশা করিছ।
উত্তরণবার্তা/এআর

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK