সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭
ঢাকা সময়: ০০:৪১

গোল্ডেন মনিরের সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিশ

উত্তরণ বার্তা প্রতিবেদক : বিপুল অর্থ, অস্ত্র-মদ ও সোনাসহ গ্রেপ্তার মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে হবে। মনির ও তার স্ত্রী রওশন আক্তারের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে বৃহস্পতিবার তাদেরকে নোটিশ পাঠানো হয় বলে কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন।

দুদক পরিচালক আকতার হোসেন আজাদের স্বাক্ষরে পাঠানো নোটিশে তাদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে দুদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে নোটিশে। এছাড়া আট বছর আগে মনিরের অবৈধভাবে অর্জিত এক কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদ মা ও স্ত্রীর নামে দেয়ার অভিযোগে একটি মামলাও করেছে দুদক। এই মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মেরুল বাড্ডায় মনিরের ছয়তলা বাড়িতে র‌্যাব-৩ মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালায়। অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে এই অভিযান চালানোর পর মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মনিরের বাড়ি থেকে নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা, চার লিটার মদ, আট কেজি স্বর্ণ, একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মনিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই তিন মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরে বজায় রাখতেন আধিপত্য। এয়ারপোর্টের লাগেজ পার্টি থেকে গোল্ডেন মনির বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করেন।

দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, আমেরিকায় আত্মগোপন করা মিলকি হত্যা মামলার আসামি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, বাড্ডার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী এবং মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করা ডালিম-রবিন গ্রুপের একাধিক সন্ত্রাসীর সঙ্গে গোল্ডেন মনিরের যোগাযোগ ছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, মনিরের সঙ্গে কার কার যোগাযোগ ছিল- সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উত্তরার শফিক ও বাড্ডা এলাকার বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। বিএনপি নেতা কাইয়ুমের বাড্ডা এলাকার স্বদেশ প্রপার্টিজ নামে রিয়েল স্টেট প্রতিষ্ঠানে মালিকানা রয়েছে। কাইয়ুম বিদেশে আত্মগোপন করার পর মনির স্বদেশ প্রপার্টিজে কাইয়ুমের মালিকানার অংশ দেখাশুনা করতেন। মনিরের সঙ্গে বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার টাকা লেনদেন হয়ার তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

উত্তরণ বার্তা/এআর

 

     FACEBOOK