মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ঢাকা সময়: ০০:৩২

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলা : সৈকত মন্ডল এবং রবিউল আলমের দায় স্বীকার

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলা : সৈকত মন্ডল এবং রবিউল আলমের দায় স্বীকার

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : রংপুরের পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সৈকত মন্ডল ও মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলাম। ঢাকায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া পর রবিবার সন্ধ্যায় রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের আদালতে তারা জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এদিকে সৈকত মন্ডল ও রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা (আইসিটি) আইনে মামলা করেছে র‌্যাব। রবিবার সকালে সহিংসতার ঘটনায় ওই দুই জনকে আসামি করে পীরগঞ্জ থানায় আইসিটি আইনে মামলা করেন র‌্যাব-১৩-এর ডিএডি আব্দুল আজিজ। মামলার তদন্তে থানার উপ-পরিদর্শক সুদীপ্ত শাহীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাতে ঢাকার টঙ্গী এলাকা থেকে তাদের দুই জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পীরগঞ্জে ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে বলে জানা যায়।

অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা ৩৭ আসামিকে আদালতের নির্দেশে ৩ দিনের রিমান্ডে পীরগঞ্জ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার দুপুর ৩টায় রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। আসামিরা কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত না হওয়ায় বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ৩৭ আসামিদের সকলকেই কঠোর পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোর্ট সিএস আই শহিদুল ইসলাম জানান, দুই আসামি সৈকত মন্ডল এবং রবিউল আলম আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। অন্যদিকে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে তিনি দিনের রিমান্ডে থাকা ৩৭ আসামির কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত না হওয়ায় এবং আসামীদের পক্ষে নতুন করে রিমান্ডের আবেদন না করায় তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। রংপুর জেলা পুলিশের এএসপি কামরুজ্জামান বলেন, মাঝিপাড়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় আজ রবিবার একটি সহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। এই চার মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর রবিবার  রাতে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড়করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে উগ্রবাদীরা। এ ঘটনায় গ্রামটির ১৫টি পরিবারের ২১টি বাড়ির সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে অন্তত ৫০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। হামলাকারীরা গরু-ছাগল, অলংকার, নগদ টাকাও নিয়ে গেছেন বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় দায়ের করা চারটি মামলায় ৬৪ জন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উত্তরণবার্তা/এআর

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK