সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮
ঢাকা সময়: ০১:৪৭

শেষ ওভারের নাটকীয়তা শেষে ৭ বছর পর ফাইনালে কলকাতা

শেষ ওভারের নাটকীয়তা শেষে ৭ বছর পর ফাইনালে কলকাতা

উত্তরণবার্তা  ডেস্ক : নাটকীয় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বুধবার রাতে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিল্লি আগে ব্যাট করে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে নাটকীয় শেষ ওভারে ৩ উইকেট ও ১ বল হাতে রেখে জয় পায় কলকাতা। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ৭ বছর পর কলকাতা ফাইনালে তোলেন রাহুল ত্রিপাঠী।

এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স ২০১২ ও ২০১৪ সালে আইপিএলের শিরোপা জিতেছিল। এ ছাড়া আর কখনও আইপিএল ফাইনাল খেলেনি তারা। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম প্লে-অফ খেললো নাইটরা।
শুক্রবার ফাইনালে কলকাতার প্রতিপক্ষ চেন্নাই সুপার কিংস। দিল্লির বিপক্ষে ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ একটা সময় সহজ ছিল কলকাতার জন্য। শেষ ৪ ওভারে অর্থাৎ ২৪ বলে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান। সেখান থেকে শুরু হয় নাটকীয়তা। সহজ ম্যাচকে কলকাতা টেনে নিয়ে যায় রুদ্ধশ্বাস পরিসমাপ্তির দিকে। মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে সহজ জয় কঠিন করে ফেলে মরগান বাহিনী।

তাতে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৭ রান প্রয়োজন পড়ে কেকেআরের। সেটা তুলতে গিয়েও ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয় ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নদের। রবীচন্দ্রন অশ্বিনের করা শেষ ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে পরপর আউট হন সাকিব আল হাসান ও সুনীল নারিন। তাতে শেষ ২ বলে জয়ের জন্য সাকিবদের দরকার ছিল ৬ রান। অশ্বিনের করা পঞ্চম বলে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সকল শঙ্কা আর নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে নাইটদের ফাইনালে পৌঁছে দেন রাহুল ত্রিপাঠী। ১১ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

তার আগে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও কলকাতাকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শুভমান গিল ও ভেঙ্কটেশ আয়ার। তারা দুজন ১২.২ ওভারে তোলেন ৯৬ রান। ৯৬ রানের মাথায় আউট হন ভেঙ্কটেশ। ৪১ বলে ৪টি চারও  ৩টি ছক্কায় ৫৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর নিতীশ রানাকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন গিল। কিন্তু ১২৫ রানের মাথায় রানাকে হারান। ১২ বলে ১ ছক্কায় ১৩ রান করে ফেরেন তিনি।

এরপর শুরু হয় নাটকীয়তা। মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারায় কলকাতা। ১২৬ রানের মাথায় দিনেশ কার্তিক (০), ১২৯ রানে ইয়ান মরগান (০), ১৩০ রানে সাকিব আল হাসান (০) ও একই রানে সুনীল নারিন আউট হন শূন্যরানে। তাতে শেষ ওভারের শেষ ২ বলে জয়ের জন্য কলকাতার প্রয়োজন পড়ে ৬ রান। অশ্বিনের পঞ্চম বলকে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ফাইনালে তোলেন রাহুল ত্রিপাঠী।

বল হাতে দিল্লির কাগিসু রাবাদা ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। এনরিখ নরকিয়া ৪ ওভারে ৩১ রানে নেন ২টি উইকেট। রবীচন্দ্রন অশ্বিন ৩.৫ ওভারে ২৭ রানের বিনিময়ে পান দুটি উইকেট। আবেশ খান ৪ ওভারে ২২ রান খরচায় একটি উইকেট দখল করেন।

আইপিএলের এবারের আসরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্লে-অফে গিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। প্রথম কোয়ালিফায়ারে তারা চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হার মানে। এরপর বুধবার কেকেআরের কাছে হার মানে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও। দুই-দুইবার সুযোগ পেয়েও গেল আসরের ফাইনালিস্টদের এরকম বিদায় মেনে নিতে পারছেন না সমর্থকরা। তাইতো ম্যাচ শেষে কান্না লুকাতে পারেননি দিল্লির তরুণ অধিনায়ক ঋষভ পন্ত।

উল্লেখ্য, আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসাবে লিগ পর্ব চতুর্থ স্থানে থেকে শেষ করেও ফাইনালে উঠলো কলকাতা। নাইটদের আগে ২০১২ সালে এই কীর্তি গড়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। সেবারও ফাইনাল হয়েছিল কলকাতা ও চেন্নাইর মধ্যে। এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে।
উত্তরণবার্তা/এআর


 

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK