রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ঢাকা সময়: ০২:৫১

কুমিল্লায় ডিঙি নৌকা তৈরি ও বেচাকেনার ধুম

কুমিল্লায় ডিঙি নৌকা তৈরি ও বেচাকেনার ধুম

উত্তরণবার্তা  প্রতিবেদক : জেলায় বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিঙি নৌকা তৈরি ও বেচাকেনার ধুম পড়েছে। কোথাও কোথাও নৌকাই যেন তাদের একমাত্র ভরসা। তাছাড়া যাদের গত বছরের নৌকা আছে সেটাকেও তারা মেরামত করে নিচ্ছেন চলাচলের উপযোগী করে। জেলার দাউদকান্দি উপজেলার চাঁপাতলী গ্রাম নৌকা তৈরি করে আসছে যুগ যুগ ধরে। জেলার গোমতী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা নৌকার মাধ্যমে স্কুলে যাতায়াত করে থাকে। বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এলাকার মৌসুমী জেলেরা নৌকা দিয়ে রাতদিন মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। জেলার নিচু এলাকার বাসিন্দারা নৌকার মাধ্যমে খেয়া পার হয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম ও হাটবাজারে যায়। সরজমিনে চাঁপাতলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কেউ করাত দিয়ে কাঠ কাটায় ব্যস্ত কেউ হাতুড়ি দিয়ে নৌকায় পেরেক বা গজাল লাগাতে ও কাউকে আবার তৈরি নৌকা বিক্রি করতেও দেখা গিয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দসই নৌকা এখান থেকে কিনে নিচ্ছে।
 
চাঁপাতলী গ্রামের লোকজন জানান, প্রতিবছর বর্ষা শুরু হলে এ গ্রামে শুরু হয় নৌকা তৈরির উৎসব। এবারও তা-ই হয়েছে। বর্ষা শুরুর পর থেকে প্রতিটি ভোরে হাতুড়ি পেটানোর শব্দে ঘুম ভাঙে এ গ্রামের মানুষের। সূর্য ওঠার আগেই কারিগরদের বাড়ির উঠানে শুরু হয় নৌকা তৈরির কাজ। গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অনিল বণিক ও চিকিৎসক সুভাষ ভৌমিক বাসসকে বলেন, প্রায় দেড় শ বছর আগে এ গ্রামে বলাই চন্দ্র সরকার নামের এক ব্যক্তি বাস করতেন। তাঁর হাত ধরে এ গ্রামে নৌকা তৈরি শুরু হয়। ধীরে ধীরে গ্রামের অন্য পরিবারগুলো তাঁর কাছ থেকে এ কাজ রপ্ত করে। সেই থেকে বংশপরম্পরায় প্রাচীন হিন্দু পরিবারগুলোর হাতে এ শিল্প টিকে আছে। কারিগর ভুবন চন্দ্র দত্ত বলেন, তিনি বাবার কাছ থেকে নৌকা তৈরির কাজ শিখেছেন। তাঁর ছেলে সঞ্জয় দত্ত হোমনা কৃষি ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। কলেজ বন্ধের সুযোগে বাড়ি এসে সে-ও নৌকা তৈরির কাজে সহযোগিতা করে। গৃহবধূ নীপা দত্ত ও অঞ্জনা দত্ত বলেন, স্বামীর নৌকা তৈরির কাজে তাঁরা নিয়মিত সহযোগিতা করেন।
 
কারিগর ভুবন চন্দ্র দত্ত বলেন, একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে তিনজন লোকের এক দিন লাগে। নৌকা তৈরিতে রেইনট্রি, কড়ই ও চাম্বলজাতীয় গাছের কাঠ এবং লোহার সামগ্রী প্রয়োজন হয়। কারিগরেরা গৌরীপুর ও ইলিয়টগঞ্জ বাজার থেকে কাঠ সংগ্রহ করেন। কাঠ রোদে শুকিয়ে কারিগরেরা কেটে টুকরা করেন। এরপর টুকরাগুলো মাটিতে বিছিয়ে নৌকা তৈরি শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে মালিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, চাঁপাতলী গ্রামে তৈরি করা নৌকা বিভিন্ন জেলার লোকজন কিনে নিয়ে যান। এভাবে এখানকার লোকজন শত বছরের বেশি সময় ধরে নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
উত্তরণবার্তা/এআর
 

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK