রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ঢাকা সময়: ০১:৫৭

বিষ্ময়কর সৌরজগৎ সম্পর্কে কতটুকু জানি?

বিষ্ময়কর সৌরজগৎ সম্পর্কে কতটুকু জানি?

উত্তরণবার্তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : ৪৬০ কোটি বছর আগে বিশাল আকারের ধুলা আর গ্যাস যেটি সোলার নেবুলা বা সুপারনোভা নামে পরিচিত, এটির বিস্ফোরণ হয়। যেখান থেকে সৌরজগতের সূর্যসহ অন্যান্য গ্রহগুলোর সৃষ্টি হয়। সূর্য আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্র, বিশাল এই তারাকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলো প্রদক্ষিণ করে।
 
বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের সৌরজগত ৪৫৫ কোটি বছর পুরনো। আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় তারা সূর্য হলেও মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কোটি কোটি তারার চেয়ে ছোট এই হাইড্রোজেন আর হিলিয়ামের গ্যাস জায়ান্ট। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট বা ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
 
সৌরজগতে গ্রহ আছে ৮ টি। ছোট গ্রহ আছে আরো ৫টি। এরমধ্যে বুধ (মারকিউরি), শুক্র (ভেনাস), পৃথিবী ও মঙ্গল (মার্স) তুলনামূলক ছোট, স্থলভাব পৃথিবীর মতো পাথরে ঢাকা। এর বাইরে বৃহস্পতি (জুপিটার) আর শনি (স্যাটার্ন) গ্যাস দিয়ে পরিপূর্ণ। সূর্য থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে থাকায় ইউরেনাস আর নেপচুনকে আইস জায়ান্ট বা বরফের গ্রহ বলা চলে। প্লুটোকে এখন আর গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
 
বুধ বা মারকিউরি সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ। সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ এটি। পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের চেয়ে কিছুটা বড়। এর কোনো বায়ুমন্ডল নেই, যা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে বুধকে রক্ষা করবে। দিনের বেলা এ গ্রহের তাপমাত্রা থাকে ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাতে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই গ্রহের কোনো চাঁদ নেই।
 
ভেনাস বা শুক্র সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রহ। এর বায়ুমন্ডল কার্বন ডাই অক্সাইডে ভরা। তাপমাত্রা ৪৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভেনাস পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা ছোট। ভেনাসের আশপাশেও কোনো চাঁদ নেই বা বলা যায়, ভেনাসের কোনো উপগ্রহ নেই।
 
সৌরজগতের তিন নম্বর গ্রহ পৃথিবী। এ গ্রহই সৌরজগতরে একমাত্র গ্রহ, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। শুধু এখানেই পানি আছে। সৌরজগতে সূর্য থেকে পৃথিবী যে দূরত্বে আছে, সেটিকে ‘গোল্ডিলকস জোন’ বলে। এর চেয়ে কাছে থাকলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল গ্যাসে পরিণত হতো, আর যদি আরও দূরে থাকতো, পৃথিবীর সব পানি বরফ হয়ে যেতো।
 
পৃথিবীর উপরিভাগে ৭১ শতাংশ জলভাগ আর ২৯ শতাংশ স্থলভাগ। সৌরজগতের ৪টি পাথুরে গ্রহের মধ্যে নীল পৃথিবী সবচেয়ে বড়। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলকে ঘিরে আছে শক্তিশালী ওজোনস্তর, যা পৃথিবীতে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি প্রবেশ করতে দেয় না, তাই পৃথিবীর তাপমাত্রা মানুষের বসবাসের উপযোগী।
 
মঙ্গল বা মার্স লাল গ্রহ বা রেড প্ল্যানেট হিসেবে পরিচিত। এ গ্রহের মাটিতে আর ধুলায় আয়রন থাকায় এর রং লাল। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি ‘অলিম্পাস মনস’এর অবস্থান এই গ্রহে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে এই গ্রহকে রক্ষা করার মতো শক্তিশালী বায়ুমন্ডল আছে। এ গ্রহের তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আপাতত মঙ্গলে পৃথিবী থেকে একের পর এক রোবট পাঠানো হচ্ছে সেখানে প্রাণ আর পানির অস্তিত্ব খুঁজে বের করার জন্য। মঙ্গলের দুটি চাঁদ আছে, ফোবোস ও ডিমোস।
 
বৃহস্পতি বা জুপিটার, সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। জুপিটার মূলত একটি গ্যাস জায়ান্ট, পুরোটাই হিলিয়াম আর হাইড্রোজেনে পরিপূর্ণ। সৌরজগতের অন্য গ্রহগুলোকে একসঙ্গে করে যে আকার হবে, জুপিটার সেটারও দ্বিগুণ। নিজের কক্ষপথ ঘুরতে মাত্র ১০ ঘণ্টা লাগে বৃহস্পতির। জুপিটারের নিজস্ব অনেক চাঁদ বা উপগ্রহ আছে। নাসা জানায়, বায়ুমন্ডলের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ আর চাপের কারণে হাইড্রোজেন গ্যাস তরল হয়, এভাবে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় সমুদ্র আছে জুপিটারে।
 
শনি বা স্যাটর্ন সৌরজগতের ৬ নম্বর গ্রহ। সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ এটি। দৃষ্টিনন্দন বলয়ের জন্য শনি পরিচিত। বৃহস্পতির মতো শনিও গ্যাস জায়ান্ট, হিলিয়াম আর হাইড্রোজেনে পরিপূর্ণ। এ গ্রহের বলয় তৈরি কোটি কোটি পাথর আর বরফখণ্ডের মাধ্যমে। বলয়ে ঘেরা এই গ্রহের চাঁদ বা উপগ্রহ ৮২ টি। শনির একটি চাঁদ ‘এনসেল্যাডাস’। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই পুরো উপগ্রহটি বরফের সাগর বলা চলে।
 
ইউরেনাস সৌরজগতের প্রথম গ্রহ, যেটিকে টেলিস্কোপ দিয়ে আবিস্কার করা হয়েছে। সৌরজগতের সপ্তম গ্রহটি আইস জায়ান্ট বা বরফের বিশাল খণ্ড বলা চলে। পানি, মিথেন আর অ্যামোনিয়া আইসে পরিপূর্ণ এ গ্রহের পুরোটাই। বায়ুমন্ডলের মিথেন গ্যাসের কারণে ইউরেনাসকে সবুজ আর নীলের সংমিশ্রণে একটি গ্রহ মনে হয়। ইউরেনাসের বলয় আছে ১৩টি, চাঁদ বা উপগ্রহ আছে ২৭ টি।
 
ইউরেনাসের কক্ষপথে গ্রভাব ফেলায় প্রথম বিজ্ঞানীদের মনে হয়েছে নেপচুন আছে। নাসার স্যাটেলাইট ভয়েজার টু প্রথম এই আইস জায়ান্ট সফর করে। এই গ্রহ সূর্য থেকে এত দূরে যে, সূর্যের আলো এই গ্রহে পৌঁছাতে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। যেখানে পৃথিবীতে সূর্যের আলো পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ৮ মিনিট। নেপচুনের গ্যাস জায়ান্টে আছে পানি, অ্যামোনিয়া আর মিথেন। নেপচুনের ১৪ টি উপগ্রহ বা চাঁদ আছে।
 
সৌরজগতের অন্তত ৫টি অতিক্ষুদ্র গ্রহ আছে। সেরেস, প্লুটো, এরিস, হাউমেয়া আর মেকমেক। প্লুটো একসময় সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গ্রহের সব গুণ না থাকায় কিন্তু পরবর্তীতে ডর্ফ প্ল্যানেট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে প্লুটোর স্থান নেওয়ার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে প্ল্যানেট এক্স বা প্ল্যানেট নাইনকে। তবে নাসা বলছে, প্ল্যানেট নাইনের অস্তিত্ব শুধু কাগজে কলমেই। বাস্তবে এমন কোন গ্রহ এখনও পাওয়া যায়নি।
উত্তরণবার্তা/সাব্বির
 
 

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK