রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ঢাকা সময়: ০১:৪৭

দেশের বিপদাপন্ন উদ্ভিদের ১৫ প্রজাতির আবাসস্থল জাবি

দেশের বিপদাপন্ন উদ্ভিদের ১৫ প্রজাতির আবাসস্থল জাবি

উত্তরনবার্তা ডেস্ক : রাজধানীর অদূরে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বৈচিত্র্যময় নানা প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ। পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন দেশের অনেক সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তুলনায় সমৃদ্ধ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৫ গোত্রের ৫৭৪টি পরিবারের ৯১৭ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। যেখানে ৭০.৩৪ শতাংশ বনজ, ৬৩.৭৯ শতাংশ দেশীয় ও ৩৬.২১ শতাংশ বিদেশী প্রজাতির। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের বিপদাপন্ন বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ১৫ প্রজাতির আবাসস্থল।

২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ‘উদ্ভিদকুল গঠন সম্পর্কিত’ একটি গবেষণার ফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা যায়। ‘ফ্লোরিস্টিক কম্পোজিশন অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস- এ সেমি-ন্যাচারাল এরিয়া অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি গত ২৬ জুন বাংলাদেশ জার্নাল অব প্লান্ট ট্যাক্সোনমি’তে প্রকাশিত হয়। জার্নালটি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক সম্পাদিত। গবেষণা কার্যক্রমটি সম্পাদন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান, অধ্যাপক গাজী মোশারফ হোসেন, সহকারি অধ্যাপক শায়লা শারমিন সেতু, প্রয়াত শিক্ষার্থী ও গবেষক শারমিন সুলতানা এবং টেকনিক্যাল অফিসার আব্দুর রহিম।

গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ প্রজাতির টেরিডোফাইট, ১২ প্রজাতির জিমনোস্পার্ম ও ৮৮৩ প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ রয়েছে। তবে সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে ২৬৫ প্রজাতি একবীজপত্রী ও ৬১৮ প্রজাতি দ্বিবীজপত্রী। এর মধ্যে ২৩ শতাংশ বৃক্ষ, ৫৬ শতাংশ গুল্ম, ১৫ শতাংশ বিরুৎ, ২ শতাংশ আরোহী ও ১ শতাংশ বাঁশ প্রজাতির। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩.৭৬ শতাংশ উদ্ভিদ ঔষধি, ৩৪.৬৮ শতাংশ শোভাবর্ধনকারী, ৯.০৫ শতাংশ চারণ ও ঘাসজাতীয়, ৬.৭৬ শতাংশ ফলজ, ৬.৬৫ শতাংশ শাক-সবজি, ৫.০২ শতাংশ কাষ্ঠপ্রদায়ী ও ৩.৪৯ শতাংশ জ্বালানী প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। গবেষণা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঔষধি উদ্ভিদের মধ্যে বাসক, কালমেঘ, শতমূলী, পুনর্ণভা, থানকুনি, ধুতুরা, কুরচী, তুলসী, অর্জুন, হরিতকি, বহেরা, নিসিন্দা, চন্দন ও কর্পূর উল্লেখযোগ্য।

এদিকে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের অধীনস্থ বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম কর্তৃক প্রকাশিত ‘রেড ডাটা বুক অব ভাস্কুলার প্ল্যান্টস অব বাংলাদেশ’র তালিকায় দেশের বিপদাপন্ন বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ১৫ প্রজাতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় ১২ প্রজাতির উদ্ভিদ। এছাড়া বাকি তিন প্রজাতি নিজ উদ্যোগে লাগানো হয়। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো উদ্ভিদগুলো হলো- তালিপাম, বন খেজুর, ভূঁইডালিম, কালমেঘ, আগর, জালিবেত, সাচিঁবেত, করাকবেত, কদমবেত, মণিরাজ, তোসাবাক ও স্বর্পগন্ধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নিয়ন্ত্রিত বোটানিক্যাল গার্ডেন ও প্ল্যান্ট কনজারভেটরীতে এসব উদ্ভিদ সংরক্ষিত রয়েছে।

গবেষণার বিষয়ে অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশের ক্যাম্পাস ভিত্তিক উদ্ভিদ বৈচিত্র্য নিয়ে এ ধরণের গবেষণা পূর্বে হয়নি। চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার মাধ্যমে তাদের ক্যাম্পাসের উদ্ভিদের তালিকা করেছে। তবে উদ্ভিদ বৈচিত্র্য নিয়ে আমাদের আগে এমন গবেষণা কোন বিশ্ববিদ্যালয় করেনি। আমরা ১০ বছর ধরে গবেষণাটির পেছনে নিরলসভাবে কাজ করেছি। গবেষণাপত্র সাবমিট করার পর কয়েকমাস পর্যালোচনা করে গত জুন মাসে প্রকাশিত হয়েছে।
উত্তরণবার্তা/এআর

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK