বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮
ঢাকা সময়: ১৭:১৬

ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত গড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ বার্তা ডেস্ক : ইসলামের প্রচার-প্রসার, মানুষকে ইসলামের সঠিক বার্তা দেয়া এবং ধর্মে-কর্মে মনোনিবেশ ও গবেষণার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব এক প্রকল্প হাতে নিয়ে সারা বিশ্বে অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশব্যাপী মোট ৫৬০টি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণ করে এই নজির গড়েছেন তিনি। পৃথিবীর ইতিহাসে এতসংখ্যক মসজিদ প্রতিষ্ঠা করার এমন প্রয়াস আর দ্বিতীয়টি নেই। পদ্মা বহুমুখী সেতুর পর, নিজস্ব অর্থায়নে এটা সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প। বিশ্বে এই প্রথম কোনো সরকার একসাথে এই বিপুলসংখ্যক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে।
১০ জুন বৃহস্পতিবার ৫৬০টি মসজিদের মধ্যে ৫০টি মসজিদ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর জেলা পর্যায়ে চারতলা ও উপজেলার জন্য তিনতলা এবং উপকূলীয় এলাকায় চারতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিকেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে। তিন ক্যাটাগরিতে মসজিদগুলো নির্মিত হচ্ছে।  জেলা শহর ও সিটি করপোরেশনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৬৯টি চারতলা মসজিদ হচ্ছে। সব উপজেলায় ‘বি’ ক্যাটাগরির ৪৭৫টি মসজিদ হবে।  এছাড়া ‘সি’ ক্যাটাগরির মসজিদ ১৬ উপকূলীয় এলাকায়। মডেল মসজিদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (ডিপিডি) শফিক তালুকদার বলেন, বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও ১০০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে।
শফিক তালুকদার জানান, দেশে যুগান্তকারী ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০টির মতো মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এটা বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ প্রকল্প হতে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ও ডিসেম্বরে তৃতীয় পর্যায়ে আরও ৫০টি মসজিদ উদ্বোধন করা হবে। ইসলামের আদর্শের সাথে মিল রেখে এবং জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের কথা চিন্তা করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের প্রচারণার পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের মূল বাণী প্রচার করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইএফ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট, ১৯৭৫ প্রণয়ন করেন উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক বলেন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারার সাথে সঙ্গতি রেখে, প্রকল্পটিতে মসজিদের সাথে ইসলামিক সংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, মসজিদগুলোয় ইসলামী নানা বিষয়সহ প্রতি বছর ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে।  মসজিদভিত্তিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে পবিত্র হজ পালনের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে মসজিদগুলোর নিচতলা ফাঁকা থাকবে। জেলা সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মাণাধীন প্রতিটি মসজিদে একসঙ্গে ১ হাজার ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকার মডেল মসজিদে একত্রে ৯০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।
উত্তরণ বার্তা/এআর

  মন্তব্য করুন
     FACEBOOK