প্রফেসরের দল তৈরি; পিছিয়ে নেই লুকাকুরাও

  জুলাই ০৬, ২০১৮     ৪     ১০:১৩ পূর্বাহ্ন     বিশ্বকাপের টুকিটাকি
--

উত্তরণবার্তা ক্রীড়া ডেস্ক : আজ সামনে বেলজিয়াম। তৈরি নেইমাররা। ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন শেষে তাই জানিয়েছেন ব্রাজিলিয়াম কোচ 'প্রফেসর' তিতে।।
গ্যাব্রিয়েল জেসুসের তো একটাও গোল নেই এখনও। তাও বয়ে বেড়াবেন? কেন শুরু থেকে রবের্তো ফির্মিনো নয়? কলেজ প্রফেসরের মতো প্রশ্ন কর্তার দিকে তাকান তিতে। ‘‘ফির্মিনো খুব ভাল। কিন্তু জেসুস গোল না পেলেও ও আমার দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। যে কাজটা দেওয়া হচ্ছে সেটা করছে। গোল ছাড়াও অনেক কাজ করতে হয় টিমে।’’ নেমার দা সিলভা স্যান্টোস (জুনিয়র) একটু ধাক্কা খেলেই পড়ে যাচ্ছেন! তা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে।

সামান্য গম্ভীর হয় মুখটা। তারপরে সাম্বার দেশের কোচকে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলতে শোনা গেল, ‘‘নেইমারকে বলেছি রেফারির দিকে না তাকিয়ে বলের দিকে তাকাতে। যত দিন যাচ্ছে তত নেমারের খেলা ভাল হচ্ছে।’’ পেনাল্টি মারা অনুশীলন করাচ্ছেন? ম্যাচ টাই ব্রেকারে গেলে ব্রাজিল কি পেনাল্টি মারতে তৈরি? এবার দার্শনিক তিনি।
‘‘ব্রাজিল থেকেই ওটা করছে ছেলেরা। আমি মনে করি  মানসিক স্থিতি বজায় রাখার জন্য পেনাল্টির অনুশীলন জরুরি। পেনাল্টি মারাটা টেকনিক্যাল ব্যাপার। গোল পেলে মনের জোর বাড়ে। আর মনের জোর না থাকলে ম্যাচ জেতা যায় না।’’

রোমেলু লুকাকুর শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ধুন্ধুমার ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। কাজানে আসার কোনও প্লেনের বা ট্রেনের টিকিট নেই। বুধবার, ম্যাচের দু’দিন আগে মধ্যরাতের বিমানও ভর্তি। উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগ নিয়ে ব্রাজিল মিডিয়ার ধারালো প্রশ্ন ধেয়ে আসছে বিষ হয়ে। কিন্তু নেমারদের কোচের যেন তাতে কোনও বিকার নেই। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ওঠার সময় শুধু বললেন, ‘‘দু’টো ভাল টিমের খেলা। আরও একটা অসাধারণ ম্যাচ হবে।’’

কোচের মতোই শান্ত তাঁর সাম্বা-বাহিনী। মূল স্টেডিয়াম থেকে অনেক দূরের একটা মাঠে নেমাররা অনুশীলনে নামলেন বিকেলে। ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে। সেখানে যতক্ষণ মিডিয়াকে থাকতে দেওয়া হল ততক্ষণ শুধু হাত-পা ছুঁড়ে অনুশীলন করে গেলেন থিয়াগো সিলভারা। পেনাল্টি অনুশীলনও হল। তবে বেশি জোর দেওয়া হল ফ্রি-কিকে। নেমার সবার শেষে নামলেন। মাঠের মাটি ছুঁয়ে তারপর আকাশের দিকে দু’হাত বাড়িয়ে দিলেন। ঈশ্বরের কাছে কৃপা চাওয়ার ভঙ্গী যেমন হয়। অনুশীলনের মাঝে নেমারের সঙ্গে খুনসুটি করতে দেখা গেল সতীর্থদের।

তা হলে কি রবের্তো মার্টিনেসের সোনালি প্রজন্মের বেলজিয়ামকে নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই তিতে-বাহিনীর? এই ম্যাচে ব্রাজিলের অধিনায়ক ডিফেন্ডার মিরান্দা ফিলহো বলছেন, ‘‘বেলজিয়াম টিমটা শুধু একা লুকাকুকে নিয়ে নয়। এডেন অ্যাজার, মুসা দেম্বেলেরাও আছে। গতি ওদের সম্পদ। সেটা কী ভাবে থামানো যাবে তার কাজ চলছে।’’ বলেই তাকালেন পাশে বসা কোচের দিকে। তিতে আরও দার্শনিক। ‘‘ফুটবলাররা জানে কী করতে হয় মাঠে। মনের ভিতর থেকে ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত না হলে কোনও যুদ্ধেই জেতা যায় না।’’

এমনিতে তিতে আজ রণনীতিতে সামান্য বদল ঘটাতে চাইছেন বলে খবর। ব্রাজিল মিডিয়ার খবর যদি সত্যি হয় তা হলে ৪-১-৪-১ এ দল নামাবেন তিতে। কার্ডের জন্য কাজিমিরো দলের বাইরে চলে গিয়েছেন। তাঁর জায়গায় খেলবেন ফের্নান্দিনহো লুইস রোসা। লুকাকুকে মাঝমাঠে থামাতে রক্ষণের সামনে দেওয়াল হবেন তিনি।
মস্কো থেকে এ দিন অনুশীলন করে বিকেলে এসেছেন অ্যাজাররা। তাদের কোচ  রবের্তো মার্টিনেস রাতের সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, ‘‘আমাদের শক্তি আছে। সেটা ব্যবহার করব আমরা। আমরা রক্ষণ করতে জানি। আবার আমাদের পায়ে বল পড়লে অন্যদের তটস্থ করতেও জানি।’’ তাঁর পাশে বসে তখন লুকাকু হাসছেন। দু’জনে চোখ চাওয়াচাওয়ি করলেন। এর পর যা বললেন কেভিন দ্য ব্রুইনদের কোচ তা শোনায় হঙ্কারের মতো। ‘‘আমাদের ছেলেরা এই ম্যাচটা খেলার জন্য বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছে। ওরা স্বপ্ন ছুঁতে চায়। সেটা ছুঁতে গেলে কাল জিততে হবে।’’

মুখে শক্তি প্রদর্শনের কথা বললেও, ব্রাজিলকে সমীহ করার কথাও অবশ্য শোনা গেল লুকাকুর গলায়। সোনার বুটের লড়াইতে থাকা বেলজিয়াম তারকা বলে দিলেন, ‘‘ব্রাজিল দারুণ টিম। যত দিন যাচ্ছে তত উন্নতি করেছে। সবথেকে বড় কথা আমরা গোল খেয়েছি জাপান ম্যাচেও।’’ লুকাকু আসল কথাটাই বলে গেলেন শেষ পর্যন্ত। গতি থামানোর অঙ্ক কষার পাশাপাশি সাম্বা ব্রিগেড স্বস্তি পাচ্ছে এ জন্যই। বেলজিয়াম রক্ষণ পলকা, সেজন্যই কী তিতের মুখে এত হাসি আর নেইমাররা নিশ্চিন্ত।!
উত্তরণবার্তা/আসো



ম্যাচ পয়েন্ট

সেমিফাইনাল

১০ জুলাই, ২০১৮ মঙ্গলবার

ফ্রান্স–বেলজিয়াম, রাত ১২.০০টা, সেন্ট পিটার্সবার্গ

১১ জুলাই, ২০১৮ বুধবার

ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়া, রাত ১২.০০টা, মস্কো

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী

১৪ জুলাই, ২০১৮ শনিবার

সেমিফাইনালের পরাজিত দুই দল, রাত ৮.০০টা, সেন্ট পিটার্সবার্গ

ফাইনাল

১৫ জুলাই, ২০১৮

রোববার দুই সেমিফাইনাল জয়ী, রাত ৯.০০টায়, মস্কো

* সকল খেলার সময় বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী

পুরনো খবর