আজ - সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ঢাকা সময়: ০৭:০১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর হাত ধরে প্রাণীজগতে যোগ হলো আরো দুই অমেরুদন্ডী প্রাণী     ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু     ১২৭ দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ     কক্সবাজারে প্রিয়াংকা চোপড়া     বান্দরবানে পাহাড় কাটার সময় মাটিচাপায় নিহত ৫     প্রধানমন্ত্রীর ‘নির্বাচিত ১০০ ভাষণ’ থাকবে সব সরকারি দফতরে     ‘মুক্তিযোদ্ধা’ চিত্রকর্ম এঁকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা     মাদকবিরোধী অভিযান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক রাতেই নিহত ৮    

হৃদয়ে আমার বাংলাদেশের ক্রিকেট : গর্ডন গ্রিনিজ

  মে ১৫, ২০১৮     ১৯     ১:৩২ অপরাহ্ণ     ক্রীড়া
--

ক্রীড়া ডেস্ক : চোখে মুখে আবেগ। কথা বলতে বলতে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন। মুখ থেকে শব্দ বের হচ্ছিল না। স্মৃতি আর  উৎফুল্লতার সাথে চোখের কোনে জমছিল জল। কিন্তু কথা যে আজ বলতেই হবে তাকে। যখন কথা বলা শুরু করলেন, তখন উপস্থিত সবাই নীরব, কিন্তু কথার আবেশে ছড়িয়ে দিলেন মুগ্ধতা। বলছিলাম বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘স্থপতি’ গর্ডন গ্রিনিজের কথা।

১৯৯৯ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ খেলছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। ইংল্যান্ডের মাঠে হঠাৎ তাকে বরখাস্ত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ওয়াসিম, রাজ্জাক, সাকলায়েনদের বিপক্ষে তখন ব্যাটিং করছিলেন নান্নু, আকরাম, দূর্জয়, পাইলটরা। শিষ্যদের খেলা কিছুক্ষণ দেখলেন। নিজের ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেলেন নীরবে, মাথা হেঁট করে! চুক্তি শেষ হওয়ার একদিন আগে তাকে বরখাস্ত করে বিসিবি। হঠাৎ কেন এমনটা হয়েছিল তা নিয়ে আজও মুখ খুলেননি গ্রিনিজ, বিসিবি!

সেই গ্রিনিজ আবার এলেন বাংলাদেশে। নিজের ইচ্ছা প্রকাশের পর বিসিবি তাকে দিল আমন্ত্রণ। জানানো হলো বিসিবি তাকে দেবে সংবর্ধনা। সেই সংবর্ধনা রূপ পেল প্রাক্তন ক্রিকেটার, সংগঠক, সাংবাদিকদের মিলনমেলা। সব আলো কেড়ে নিলেন গর্ডন গ্রিনিজ।

হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রায় সাত মিনিট বক্তব্য দেন গর্ডন গ্রিনিজ। বারবার তার বক্তব্যে ওঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসার কথা। তার পুরো বক্তব্য উত্তরণবাতার পাঠকদের জন্য দেয়া হল,

‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকবৃন্দ, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সকল অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী সকলকে শুভ সন্ধ্যা।’

‘আমি বুঝতে পারছি না, এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য এই মুহূর্তে আমার ঠিক কাকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত! তবে আমি আশরাফুল হকের (এসিসির প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী) প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা গত বছর লন্ডনে দেখা করেছিলাম। এ বছরও দেখা হল মালয়েশিয়ায়। বিশ্বের ঠিক এ প্রান্তে যে তার সাথে আমার দেখা হবে তা কখনো ভাবিনি। কিন্তু হয়ে গেল। আমার মেয়ে দোহায় শিক্ষকতা করছে। ওর সঙ্গে দেখা করতে মালয়েশিয়ায় আসা। ওখানে এসে চিন্তা করলাম বাংলাদেশের এতো কাছে এসে বাংলাদেশে না যাওয়া ভালো হবে না। তাই বাংলাদেশেও চলে এলাম।’

‘এখানে এসে এ ধরনের সম্মান পাবো তা ভাবতেও পারিনি। সত্যি বলছি…। বাংলাদেশে আমার এখনও অনেক বন্ধু রয়েছে। তবে আমাদের যেভাবে যোগাযোগ করা উচিত ঠিক সেভাবে যোগাযোগ হচ্ছে না। দু-একজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো তাদের সঙ্গেও এখন কথা হচ্ছে না। লিপু (গাজী আশরাফ হোসেন) ও সাদ (তানজীব আহসান) আমরা আগে প্রায়ই যোগাযোগ করতাম। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে যোগাযোগ এখন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এটা হতাশার। আশা করছি তাদের সঙ্গে এখানে আমার দেখা হবে।’

‘আমার এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম তাদেরকে আবার একসঙ্গে পেলাম। খুব বেশি সময় কাজ করেছি তা বলবো না। খুব অল্প সময় আমরা একসঙ্গে ছিলাম। কিন্তু ওই স্বল্প সময়ে আমরা দারুণ সম্পর্ক তৈরি করেছিলাম। একটা বন্ধন তৈরি হয়েছিল। এবং ওই বন্ধনের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।’

‘মনে হচ্ছে কয়েকজন ক্রিকেটার আজ এখানে নেই, যারা আমার সময় ছিল। আশা করেছিলাম সবার সঙ্গে তারাও হয়তো থাকবে। হয়তো ব্যক্তিগত কোনো কারণে উপস্থিত হতে পারেনি। দূর্জয়কে দেখছি, রফিককেও দেখতে পাচ্ছি। ওই যে ওকে দেখতে পারছি…অপি নাকি (যেই জায়গায় ইশারা করেছিলেন সেই জায়গায় ছিলেন জাভেদ ওমর বেলিম)। আতাহার আলী খান এখানে আছে..ধন্যবাদ আতাহার এখানে আসার জন্য। তোমাকে দেখে ভালো লাগছে।’

‘সুধী, এটা একটা স্বপ্ন ছিল। বাংলাদেশে যখন প্রথম এসেছিলাম তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল যে এখানে যেন সব সময় আসতে পারি। সব সময় যেন একটা মধুর সম্পর্ক রাখতে পারি। আমরা খুব অল্প সময়ে কাজ করেছি। ওই সময়ে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে তা এখনও আমাকে সম্মানিত করে। সব সময় তোমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসা আমাকে গর্বিত করে। এজন্য এ দেশের প্রতি আমার অন্যরকম ভালোবাসা কাজ করে।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক বছর আগে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। আশা করছি যতদিন বাংলাদেশে আছি এর মধ্যে আরেকবার তার সঙ্গে আমার দেখা হবে। যদি দেখা না হয় তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমার শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা জানাবেন।’

‘আমার আসলে কী বলা উচিত তা আসলে বুঝতে পারছি না। আমি আজকের রাতের এ আয়োজনে খুবই উৎফুল্ল, আনন্দে আত্মহারা। যারা এখানে এসেছেন তাদেরকে দেখে কতটা ভালো লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না। পুরোনো মুখগুলো আবার সামনে চলে এসেছে।’

‘বন্ধুরা, আমি বলে বোঝাতে পারব না তোমরা আমার জন্য কতটুকু গুরুত্ব বহন করো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, খেলোয়াড়রা সবাই তোমরা আমার মস্তিস্কে সারা জীবন থাকবে। যখন এসেছি মনে হয় আমি তোমাদেরই কেউ তোমাদের মাঝে এসেছি।’

‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট ফলো করি। তবে আরো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তবে সব সময় খোঁজ রাখার চেষ্টা করি বাংলাদেশ ক্রিকেটে কি হচ্ছে। যদি কিছু মিস করেও যাই তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে একটা আপডেট, রিভিউ নেয়ার চেষ্টা করি। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করি বাংলাদেশ ক্রিকেটে খোঁজ রাখার। এবং হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে প্রত্যাশা করছি এখন যা হচ্ছে তা আগামীতে আরো ভালো ফল পেতে বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আমার শুভকামনা। খেলোয়াড়রা যারা এখন খেলছে, যারা আগামীতে খেলবে…তাদের প্রত্যেককে আমার শুভেচ্ছা। আশা করছি তারা বড় সাফল্য পাবে।’

‘শুধু খেলোয়াড়দের কথা বলবো না, যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য শ্রম দিচ্ছেন তাদের সাফল্য কামনা করছি। সর্বোপরি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার ভালোবাসা, শুভকামনা রইল। শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও। আরেকটা কথা বলতে চাই, আমি আপনাদের পরবর্তী আমন্ত্রণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবো। আশা করি এবার খুব বেশি দেরি হবে না।’

‘আমি এখানে এসে মনে করি আমার ঘরেই আছি, আমার দেশেই আছি। ঠিক এ কারণটাতেই বাংলাদেশে আসি। দীর্ঘদিন পর সবাইকে দেখে ভালো লাগছে। সুধী আপনারা সবাই জানেন আপনারা। আমাদের মধ্যে ভালো একটা সম্পর্ক রয়েছে, বন্ধুত্ব রয়েছে। স্বল্প সময়ে আপনারা আমাকে এখানে যা দিয়েছেন তা ভোলার নয়। আমি এখানে এসে যে সময়টুকু কাটালাম তা আপনারাও মনে রাখবেন, আমিও মনে রাখব। সবাইকে ধন্যবাদ, সবার প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা।’

উত্তরণবার্তা/এআর



মিথ্যে বললেই ধরে ফেলবে মোবাইল!

  এপ্রিল ২১, ২০১৮     ১০৪৯

পুরাতুন খবর