দৃষ্টিনন্দন হবে শাহবাগ থেকে ঢাকা মেডিকেল: প্রধানমন্ত্রী     দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে শুদ্ধি অভিযান চলছে : ওবায়দুল কাদের     জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী     চট্রগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ সম্মেলনে ০৬ ক্যাটাগরিতে নোয়াখালী জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন     প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন আজ     নিয়মরক্ষার ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে কাল জিততে চায় জিম্বাবুয়ে     হাওয়া ভবন করে দুর্নীতি-কমিশন বাণিজ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল বিএনপি- তথ্যমন্ত্রী     জানি, কাজটা কঠিন, বাধা আসবেই, তবু করব: প্রধানমন্ত্রী    

নেত্রকোনার পলাতক পাঁচ আসামির রায় আজ

  মার্চ ২৮, ২০১৯     ৯৫     ১১:১৩ পূর্বাহ্ন     আইন-আদালত
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার পূর্বধলার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে রায় আজ। বুধবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের এদিন ঠিক করেন। এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ২৮ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এ আসামিদের বিরুদ্ধে। এরা হলেন- শেখ মো. আবদুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা (৬৬), মো. আবদুল খালেক তালুকদার (৬৭), মো. কবির খান (৭০), আবদুস সালাম বেগ (৬৮) ও নুরউদ্দিন (৭০)।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার প্রসিকিউটর ছিলেন মোখলেছুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নি। পলাতক পাঁচ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নি বলেন, এ মামলায় সাত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু অভিযোগ গঠনের আগেই কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান আসামি আহাম্মদ আলী (৭৮)। আর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় মারা যান আরেক আসামি আবদুর রহমান (৭০)। ফলে পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আদালত আজ দিন ঠিক করে দিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হবে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে মজিদ মাওলানা মুক্তিযুদ্ধের সময় নেজামে ইসলামীর নেতা হিসেবে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। সর্বশেষ তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করতেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত অভিযোগে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল এ মামলার আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। নেত্রকোনার পূর্বধলার মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির একাত্তরে তার বড় ভাই আবদুল খালেককে হত্যার ঘটনায় ২০১৩ সালে একটি মামলা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ২১ আগস্ট বাড়হা গ্রামে আবদুল খালেককে গুলি করে হত্যার পর কংস নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয় ওই মামলায়। পরে মামলাটি পাঠানো হয় ট্রাইব্যুনালে।

প্রসিকিউশনের তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরের বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ তিনি প্রসিকিউশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

যাচাই বাছাই শেষে ২২ মে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। সেখানে আটজনকে অপহরণের পর হত্যা, তিনটি বাড়ির মালামাল লুট, আটটি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও একজনকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

তদন্ত চলার মধ্যেই প্রসিকিউশনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তাদের মধ্যে আহম্মদ আলী ও আবদুর রহমানকে ২০১৫ সালের আগস্ট গ্রেফতার করা হয়।

পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় তাদের দু’জনের মৃত্যু হয়। বাকি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয় ২০১৭ সালের এপ্রিলে। ওই বছর ১২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ।

তার আগে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর পলাতক আসামিদের পক্ষে মামলা লড়তে গাজী এমএইচ তামিমকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।

উত্তরণবার্তা/এআর
 



পুরনো খবর