প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে অনিয়ম, লিখিত রিপোর্টের নির্দেশ     অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী     রোহিঙ্গা শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে মিয়ানমারেও বিনিয়োগ চান শেখ হাসিনা     চট্টগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ৫     ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ টন ছাড়াবে     ভোট দিলে ক্ষমতায় থাকবো, না দিলে থাকবো না: শেখ হাসিনা     রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ৩ সুপারিশ     ৬০২ পণ্য আমদানিতে শুল্ক হ্রাস সুবিধা    

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা: গণমাধ্যমের এক নতুন যাত্রা

  মে ১০, ২০১৮     ২৮৪     ৪:২৮ অপরাহ্ণ     প্রবন্ধ
-- জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা: গণমাধ্যমের এক নতুন যাত্রা

মাহবুব রেজা: এক
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম নিয়ে বলতে গিয়ে ‘যে দেশে সংবাদপত্র স্বাধীন, সে দেশে দুর্ভিক্ষ হয় না’ মন্তব্য করে বলেছেন, ‘No substantial famine has ever occurred in any independent and democratic country with a relatively free press তার এই কথার মূল দিক হলো, একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।
আর সেই গণমাধ্যম যখন স্বাধীন থাকে তখন তা দেশের কথা বলে। মানুষের কথা বলে। গণতন্ত্রের কথা বলে। উন্নয়ন ও সাফল্যের কথা বলে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সেই কাজটি যথার্থভাবে সম্পন্ন করছে। বাঙালির হাজার বছরের গৌরবগাঁথাকে বিশ্বসভায় তুলে ধরতে দেশের গণমাধ্যম কাজ করে যাচ্ছে।
‘সাংবাদিকতাকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সম্মানজনক পেশা। সেজন্যই সাংবাদিকদের সমাজের অতন্দ্র প্রহরী’ বা ‘গেট কিপারস’ বলা হয়। সাংবাদিকসমাজ জাতির বিবেক হিসেবে বিবেচিত; যারা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষকে নিরলসভাবে সেবা দেয়। টমাস জেফারসনের বিখ্যাত উক্তি এক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘Were it left to me to decide whether we should have a government without newspapers or newspapers without a government, I should not hesitate for a moment to prefer the latter..’ একটি দেশে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও ভূমিকা বোঝাতে তার এই উক্তিটি প্রাতঃস্মরণীয় বলে বিবেচিত হয়।
একসময় বলা হতো প্রচারেই প্রসার। সম্প্রচার সংশ্লিষ্টরা কথাটিকে যথার্থ বলে মেনে নিয়ে বলছেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, মানুষের নিত্যনতুন প্রয়োজন ও চাহিদা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির অগ্রাধিকারের কথা মাথায় রেখে পৃথিবীব্যাপী গণমাধ্যমের সীমানা দিন দিন বিস্তৃত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। মানুষ সম্প্রচারের সব মাধ্যমকে তার প্রয়োজনে পাশে পেতে চায়। এসবকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে গণমাধ্যম সম্প্রসারণের এক নীরব বিপ্লব। এই বিপ্লবের ঢেউ বাংলাদেশেও এসে পড়েছে। এই উপমহাদেশে বাংলাদেশের গণমাধ্যম বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের ঐতিহাসিক সুনাম রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে গড়ে ওঠা টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন-সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে গত দেড়-দু’দশকে দেশে সম্প্রচারের ক্ষেত্র বেশ প্রসারিত হয়েছে। অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। গণমাধ্যমের সম্প্রসারণের ফলে মানুষ এখন খুব দ্রুতই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের সংবাদ ঘরে বসে পেয়ে যায়। মোদ্দা কথায় বলতে গেলে সব সংবাদ এখন মানুষের হাতের মুঠোয়।
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের জানতে চাওয়া ও জানতে পারা তার জন্মগত অধিকার। সুতরাং, সে তার এই অধিকার পূর্ণ মাত্রায় ভোগ করবেÑ এটাই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে সঠিক তথ্য জানা ও পাওয়ার ন্যায়সংগত অধিকার তিনি ভোগ করবেন। কিন্তু প্রশ্নটি এসে যায় যখন সেই নাগরিক সঠিক তথ্য না পেয়ে অসত্য সংবাদ পান তখন সংগত কারণেই তার ভেতরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার তৈরি করে। সেক্ষেত্রে দেশের সরকার সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার জায়গাটির নিশ্চয়তা বিধান করে যাতে করে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে না পড়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে পারে। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন পৃথিবীর সব দেশেই গণমাধ্যমকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করার জন্য সম্প্রচার নীতিমালা রয়েছে, যার দ্বারা সংবাদমাধ্যম তথা গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এবং সেই নীতিমালার আলোকে সাধারণ মানুষের জানার পরিধিকে বিস্তৃত করে। সে কারণে একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন সম্প্রচার নীতিমালার প্রয়োজন।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রচার নীতিমালা ঘোষণা করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করে সরকার নানা পেশার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিশেষ সেমিনার, কর্মশালা, যাচাই-বাছাই ও আলোচনার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এই সম্প্রচার নীতিমালার আলোকে গণমাধ্যমের অধিকার ও স্বার্থ সমুন্নত রাখতে সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সম্প্রচার কমিশনও গঠন করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাধীন এই কমিশন লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্স ফি নির্ধারণ, সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি করবেন।
একটি স্বাধীন দেশের গণমাধ্যমের বাক-স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা থাকা অপরিহার্য। সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার সংশ্লিষ্ট পেশার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রচার নীতিমালা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, প্রত্যেকেরই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। এটাই বাস্তবতা যে আপনি যেভাবে আপনার অধিকার ভোগ করবেন একইভাবে অন্যের অধিকারও আপনাকে সংরক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশের বিকাশমান সম্প্রচার মাধ্যমকে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুযায়ী পরিচালনার জন্য জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে।
সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন থেকেই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি অনুযায়ী সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি ও সুপারিশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে গণমাধ্যমের প্রসার ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এ লক্ষ্যে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া বর্তমান সরকার সংবাদপত্রকেও শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। অষ্টম সংবাদপত্র ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং এর সুপারিশের আলোকে সাংবাদিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পাশাপাশি সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন হারও যৌক্তিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার “সাংবাদিক সহায়তা ভাতা/অনুদান নীতিমালা-২০১২” প্রণয়ন করে প্রতিবছর সাংবাদিকদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কল্যাণে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় “বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৪” জাতীয় সংসদে পাস হয়ে ইতোমধ্যে তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
গণমাধ্যমের বিকাশ ও উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকালে বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার অনুমোদন দিয়ে দেশে গণমাধ্যমের প্রসারে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বিস্তৃত করতে আমাদের সরকার বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি ৪১টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল, ২৪টি এফএম রেডিও সেন্টার ও ৩২টি কমিউনিটি রেডিও স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে।
এর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এখন উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে পারবে।
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, বিকাশমান সম্প্রচার মাধ্যমকে গতিশীল করার জন্য এই নীতিমালা করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে সংকুচিত করার জন্য এই নীতিমালা করা হয়নি।

দুই
গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গণমাধ্যম ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারে। দেশে বর্তমানে সাড়ে ৪ কোটির ওপর মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। দরিদ্র লোকের বঞ্চনা অনেক বেশি; কিন্তু তাদের কণ্ঠস্বর নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ খুব কম। কেননা তারা সংগঠিত নয়। উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম শর্ত হচ্ছে জ্ঞান সম্প্রসারণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ। অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হলে আমাদের আগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। যাদের তথ্যভা-ার যত সমৃদ্ধ, তাদের ক্ষমতায়ন তত বেশি। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত হয়। অবাধ তথ্যভিত্তিক সমাজ সে কারণেই হয় উন্নত।
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বলছেন, মিডিয়াকে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হলে ৩টি শর্ত পূরণ জরুরি। প্রথমত; গণমাধ্যম হবে স্বাধীন, দ্বিতীয়ত; গণমাধ্যম মানসম্পন্ন তথ্য সরবরাহ করবে এবং তৃতীয়ত; এর পরিসর বড় হতে হবে, মানে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে গণমাধ্যমের সঙ্গে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ হলো, ভয়হীনভাবে সত্যনিষ্ঠ কোনো তথ্য প্রকাশ করার ক্ষমতা এবং বিশেষ কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের কিংবা গোষ্ঠীর পক্ষ বা নিয়ন্ত্রিত হয়ে কাজ না করা। যদিও গণমাধ্যমের গুণগত মান পরিমাপ করা কঠিন, তথাপি মানসম্পন্ন তথ্য সরবরাহ করার অর্থ হলো, বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ ও তথ্য উপস্থাপন করা। তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে এবং সব মত উপস্থাপন করতে হবে, যাতে পাঠককুল সত্য উদ্ঘাটন করতে পারে। অন্যদিকে গুণগত মানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেই সঙ্গে নৈর্ব্যত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। তৃতীয় শর্তটি হচ্ছে, মিডিয়া কত লোকের কাছে পৌঁছাচ্ছে; মিডিয়ার ওপর লোকজনের প্রবেশ (ধপপবংং) কতটুকু আছে।
গণমাধ্যম মানুষের মনোজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে। এ প্রেক্ষাপটে মিডিয়া অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ফলাফল বদলে দিতে পারে। স্বাধীন দেশে মিডিয়া কতটুকু জোরাল ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নির্ভর করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর। কেননা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আর মুক্ত গণমাধ্যম একে অন্যের পরিপূরক। দুটোই একে অন্যকে প্রভাবিত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষত বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে মিডিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তিন
কী আছে এই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায়?
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার ভূমিকাতে বলা হয়েছে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের চিন্তা ও বিবেক, বাক এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত অনুষ্ঠান এবং বিজ্ঞাপনসমূহ শ্রোতা বা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এজন্য সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত অনুষ্ঠানসমূহ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনা এবং বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না সেগুলোও বিচার-বিবেচনা করা প্রয়োজন। এছাড়া সম্প্রচার মাধ্যমসমূহের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। এসব বিষয়কে বিবেচনায় রেখে সম্প্রচার মাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সুষম নীতিমালা থাকা সমীচীন।’ বর্ণিত প্রেক্ষিতে, অংশীজনদের (stakeholders) সাথে আলোচনার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন (independent), বহুমুখী (pluralistic), দায়বদ্ধ (accountable) এবং দায়িত্বশীল (responsible) সম্প্রচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও বাংলাদেশের সম্প্রচার মাধ্যমসমূহকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার জন্য এ নীতিমালা প্রণীত হলো। এ নীতিমালার আওতায় ‘সম্প্রচার বলতে এমন সব প্রক্রিয়াকে বুঝাবে, যার মাধ্যমে কোনো অডিও, ভিডিও এবং অডিও-ভিজুয়াল তথ্য উপকরণ (কনটেন্ট) যথা : অনুষ্ঠান, সংবাদ, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি টেরেস্তিরিয়াল প্রেরক যন্ত্র, তার (ক্যাবল), ভূ-উপগ্রহ অথবা অন্য কোনো উপায়ে তরঙ্গ ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বসাধারণের কাছে একই সাথে ছড়িয়ে দেয়া হয় যা রেডিও, টেলিভিশন অথবা একই ধরনের অন্য কোনো ইলেকট্রনিক গ্রাহকযন্ত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করা যায়। টেরেস্তিরিয়াল, ভূ-উপগ্রহ, কেবল নেটওয়ার্ক, অনলাইন ইত্যাদি যে মাধ্যমই হোক না কেন টেলিভিশন ও বেতারের অনুষ্ঠান, সংবাদ ও বিজ্ঞাপনের কনটেন্টের ক্ষেত্রে সম্প্রচার নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।’
সম্প্রচার নীতিমালায় জনস্বার্থ, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনা সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় মূল নীতিকে অক্ষুণœ রাখা, পাশাপাশি অপরাপর বিষয়সমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কথাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এই নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে এমন ধরনের সামরিক বা সরকারি গোপন তথ্য ফাঁস করা যাবে না, সশস্ত্র বাহিনী অথবা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত দায়িত্বশীল অন্য কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ, বিদ্রƒপ বা অবমাননা, অপরাধ নিবারণ ও নির্ণয়ে অথবা অপরাধীদের দ-বিধানে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের হাস্যস্পদ করে তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন বা বক্তব্য দেওয়া যাবে না।
এছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য এবং হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা যাবে না।
ঘোষিত এই সম্প্রচার নীতিমালায় ৭টি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে পটভূমি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও নীতিমালা বাস্তবায়নের কৌশল উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে লাইসেন্স প্রদান ও পদ্ধতি এবং এক্ষেত্রে সম্প্রচার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কমিশনের একটি বড় ভূমিকা থাকবে। তিনি বলেন, সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারের বিষয়ে বলা হয়েছে তৃতীয় অধ্যায়ে। বিশেষ করে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি, মূল্যবোধ লালন, সংবাদ ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত উন্নয়নমূলক বিষয় জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। কী কী বিষয় অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে, সে বিষয়ে বলা হয়েছে চতুর্থ অধ্যায়ে।
বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে পণ্যের মান ও ভোক্তা অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে। বিজ্ঞাপনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সহায়ক হতে হবে। একই সঙ্গে শিশু ও নারী অধিকার সুরক্ষা করতে হবে। পঞ্চম অধ্যায়ে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিবেচ্য বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। কোন কোন বিষয় সম্প্রচার করা যাবে না, করা সমীচীন হবে না, তার উল্লেখ রয়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ে সম্প্রচার কমিশন সম্পর্কে বলা হয়েছে। কমিশন গঠন, আইনি কাঠামো, দায়িত্ব, কাজের পদ্ধতি, কী কী অভিযোগ কমিশন গ্রহণ ও নিষ্পত্তিসহ অন্যান্য বিষয়াদির উল্লেখ করা হয়েছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বর্তমান সরকারকে গণমাধ্যম-বান্ধব সরকার আখ্যায়িত করে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে তাদের আশা-আকাক্সক্ষার কথা প্রকাশ করে বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে গণমাধ্যমে কর্মরতদের জন্য যে ধরনের সাংবাদিক-বান্ধব পরিবেশ ও নীতিমালার স্বপ্ন দেখেছিলেন যা তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রথম বার্ষিক সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে উচ্চারণ করেছিলেন ঘোষিত নীতিমালা অনেকাংশে তারই ইঙ্গিত বহন করে। তারা বলছেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার আলোকে গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের স্বার্থ ও কর্মক্ষেত্রের নিশ্চয়তা বিধান এবং দেশের ক্রমবর্ধমান সংবাদপত্র শিল্প অগ্রযাত্রার নতুন এক সড়কে যাত্রা শুরু করল, যার অংশীদার সবাই।

উত্তরণবার্তা/আইস



নতুন লুকে আমির খান!

  সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

অবশেষে শুটিংয়ে ফিরলেন বুবলী!

  সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

নতুন আর্জেন্টিনা পুরনো ব্রাজিল

  সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৮     ৭৮১০

যমজ লাল্টু-পল্টুর দাম ২০ লাখ

  আগস্ট ১২, ২০১৮     ৪৫৪৫

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি

  জুন ০৬, ২০১৮     ৪২৩৫

পুরনো খবর