কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ     জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন     ঈদ শেষে স্বস্তিতে ফিরছেন মানুষ     নতুন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ     ঈদযাত্রা এতটা স্বস্তিদায়ক হবে ভাবিনি : সেতুমন্ত্রী     নেই কর্মচাঞ্চল্য, সচিবালয়ে ছুটির আমেজ     জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩     ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ    

হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু

  মে ০৯, ২০১৮     ৬৭     ৭:৫১ অপরাহ্ণ     জাতীয় সংবাদ
--

 জেলার বিভিন্ন স্থানে আজ পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া এসব ঘটনায় আরও ৭ জন আহত হন।
আজ বুধবার দুপুরে জেলার বানিয়াচং, নবীগঞ্জ, লাখাই ও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দত্তকান্তি গ্রামের নৌশের মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া (৬০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাইরপুর গ্রামের স্বপন দাশ (৩৫), নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বৈলাকীপুর গ্রামের হরি পালের ছেলে নারায়ন পাল (৩৫), লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সহিদের ছেলে ছুফি মিয়া (৩৫), নবীগঞ্জ উপজেলার বড় বাকৈর ইউনিয়নের আমড়াখাই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু তালিব (২০) ও মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্রামের রামকুমার সরকারের ছেলে জহরলাল সরকার (২৩)।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরে জেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় বানিয়াচং উপজেলার সৈদরটুলা এলাকায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দত্তকান্তি গ্রামের নৌশের মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া (৬০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি সৈদরটুলা গ্রামের তাহেদ মিয়ার বাড়িতে ধান কাটতে এসেছিলেন। তার সাথে ধান কাটতে এসে একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (২২) আহত হন।
দুপুরে উপজেলার মাকালকান্দি হাওরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাইরপুর গ্রামের স্বপন দাশ (৩৫) জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার সাথে ধান কাটতে গিয়ে মাকালকান্দি গ্রামের গোপেশ দাশের ছেলে দিপুল দাশ (৩৭), একই গ্রামের বীরেশ্বর দাশের ছেলে বিষ্ণুপদ (৪৫) এবং দিরাই উপজেলার আরো দুই শ্রমিক আহত হন। একই উপজেলার নূরপুর হাওরে তকবাজখানী গ্রামের ওয়াহিদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে জহুরুল মিয়া আহত হন।
এদিকে- নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ইলামের হাওরে ধান কাটার সময় বৈলাকীপুর গ্রামের হরি পালের ছেলে নরায়ন পাল (৩৫) ঘটনাস্থলে মারা যান। এ সময় একই ইউনিয়নের সরদারপুর গ্রামে বাড়ির উঠানে আখলুছ মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (২০) বজ্রপাতে আহত হন।
এছাড়াও নবীগঞ্জ উপজেলার বড় বাকৈর ইউনিয়নের আমড়াখাই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু তালিব (২০) হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। একই স্থানে উপজেলার গোলডুবা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৫) এবং মার্কুলী এলাকার রাশেদ মিয়ার ছেলে ইউনুছ মিয়া (৩০) আহত হন।
অপরদিকে- লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের উত্তর হাওর থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে আহত হন ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সহিদের ছেলে ছুফি মিয়া (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়াও মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্রামের রামকুমার সরকারের ছেলে জহরলাল সরকার (২৩) হাওরে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা গেছেন।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন খন্দকার, লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান ও নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফজলুল জাহিদ পাভেল বলেন, মৃত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ২০ হাজার করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।



পুরাতুন খবর