আজ - রবিবার, ২০ মে ২০১৮, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ঢাকা সময়: ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে : সেতুমন্ত্রী     ২ জুন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট     আগামী নির্বাচনে বড় বিজয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ     বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ     স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ: স্পিকার     বরিশালে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত     আন্তর্জাতিক একক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্য সহজীকরণের কাজ ত্বরান্বিত হবে : শেখ হাসিনা     একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে স্বাবলম্বী হচ্ছে গ্রামের হতদরিদ্র লাখো পরিবার    

কমতে শুরু করেছে চালের দাম

  মে ০৮, ২০১৮     ৩৬৪     ১২:২৫ অপরাহ্ণ     জাতীয় সংবাদ
--

অর্থনীতি ডেস্ক,  উত্তরণবার্তা.কম : বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরুর পর থেকে চালের বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে এবার ফসলহানী না হওয়ায় তার হাওয়া লেগেছে চালের বাজারে। কারণ হাওর এলাকায় বিপুল পরিমাণ বোরো উত্পন্ন হয়। গত বছরের মতো পাহাড়ি ঢল, বন্যা আর জলাবদ্ধতায় এবছর তলিয়ে যায়নি ইরি-বোরো। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক সতর্ক তদারকি আর বাঁধ রক্ষায় আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থায় হাওরের কৃষকদের মধ্যে এবার ভয়ের আশংকা কম ছিলো। সহায়ক ছিলো প্রকৃতি। ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব হলেও ব্যাপক না হওয়ায় ফসলহানির খবরও এবছর কম। হাওরের কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন চলছে ধান কাটা-মাড়াইয়ের উত্সব। গত বছরের সর্বশান্ত অবস্থা থেকে উঠে আসা কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। হাওরে ফলন হয়েছে বাম্পার। সেই চাল উঠছে বাজারে। কর্মকর্তারা আশা করছেন বন্যা, পাহাড়ি ঢল না থাকায় উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
 
গত এক মাসে বাজারে মান ভেদে চালের দাম কেজিতে দুই থেকে আট টাকা পর্যন্ত কমার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা। রাজধানীর বাবুবাজার ও কারওয়ানবাজারের আড়তদাররা জানিয়েছেন, বোরো মৌসুমের চাল কেবল আসতে শুরু করেছে। বোরো ধান পুরোপুরি তোলার পর দাম আরো কমে আসবে বলে আশাবাদী তারা।
 
কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, কুমিল্লা, নেত্রকোনা, গোপালগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। নতুন ধান-চাল উঠছে। আবার গত মৌসুমে ফসলহানির পর বিদেশ থেকে আমদানি করা চালে সরকারি গুদামগুলো প্রায় ভরা। ফলে বিক্রেতারা বলছেন, চালের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। চালের দামের নিম্নগতিই থাকবে।
 
২০১৭ সালের বোরো মৌসুমের শুরুতে এপ্রিল মাসে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় প্রায় সবকটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে আধা পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে চরম বিপর্যয়ে পড়েন কৃষকরা।
 
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জানান, সরকারি হিসাবে গত বছর হাওরের বন্যায় প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর হাওর অঞ্চলের বন্যা কমপক্ষে ৪ লাখ মানুষকে সর্বশান্ত করে দিয়ে যায়। পানির নিচে তলিয়ে যায় প্রায় দুই লাখ হেক্টরের বোরো ফসল। দেশের উত্পাদিত ধানের ২৫ শতাংশ হাওর এলাকা থেকে আসে। ফসলহানির প্রভাব পড়ে চালের বাজারে। হু হু করে বাড়তে থাকে চালের দাম। এক বছরের মধ্যে চালের দাম ৩৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে মোটা চালের দাম কেজিতে ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সরু চালের দাম উঠে যায় ৬৫ টাকা পর্যন্ত। তবে চলতি মৌসুমে ধানের ভালো উত্পাদনের আভাসে চাল উত্পাদনকারী মিল আর বড় ব্যবসায়ীরাও তুলনামূলক কম দামে বাজারে চাল ছাড়ছেন। এতে দাম সামান্য কমে আসলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চালের দাম এখনও ২৫ শতাংশ বেশি।
 
আড়তদাররা বলছেন, প্রতিদিনই বোরো মৌসুমের নতুন চাল আসছে বাজারে। অব্যাহত আছে চালের আমদানিও। এতে পাইকারি বাজারে চালের সরবরাহে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। আগের মৌসুমের বিআর- ২৮ চালের কেজি নেমে এসেছে ৪৩ টাকায় আর নতুন চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি। মানভেদে মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা আর দেশি নাজিরশাইল প্রতিকেজি ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা, আমদানি করা নাজির কেজি ৫০ টাকার মধ্যে।
 
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সরকারি গুদামে চাল আছে বর্তমানে ৮ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন। এছাড়া বন্দরে শূন্য দশমিক ১৩ লাখ টন চাল রয়েছে।
 
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলের জেলাগুলোয় ৯ লাখ ১৫ হাজার ৯২৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে এক লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ হেক্টর, সুনামগঞ্জে দুই লাখ ২৪ হাজার, নেত্রকোনায় এক লাখ ৮২ হাজার ৪০০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক লাখ সাত হাজার ৫৫২, সিলেটে ৭৪ হাজার ১২০, মৌলভীবাজারে ৫২ হাজার ৩৫২ এবং হবিগঞ্জে এক লাখ ১০ হাজার হেক্টর রয়েছে। আর এ থেকে চাল উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ ২৬ হাজার ৩০৭ টন।
 
টিসিবির গত ৭ মে’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী চালের বাজারে দামের নিম্নগতির তথ্য দেয়া হয়েছে। এতে দেখা যায় স্বর্ণা, চায়না ইরিসহ মোটা চাল এক মাসে ১০ শতাংশ এবং সরু চাল ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অবশ্য এই দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছরের এই সময় মোটা চালের দাম চলতি বছরের সমান থাকলেও মাঝারি থেকে সরু চালের দাম ৯ থেকে ১৯ শতাংশ কম ছিল।
 
রাজধানীর কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা ও গুটি চাল এখন কেজি প্রতি ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়,পাইজাম লতা ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, নাজির ৬০ থেকে ৬৪, সরু বিআর ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৭ টাকায়, বিআর-২৯ বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকায়।
 
রশীদ এগ্রো ফুডের বিক্রয় ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, বাজারে চালের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। গত বছর হাওর তলিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।

উত্তরণবার্তা.কম/এআর



মিথ্যে বললেই ধরে ফেলবে মোবাইল!

  এপ্রিল ২১, ২০১৮     ১০৪৩

পুরাতুন খবর