বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নয় : পলক     রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চাপ অব্যাহত আছে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত     ২.৫ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ পেল বাংলাদেশ     জামালপুরের নতুন ডিসি এনামুল হক     মুখরোচক কথায় দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ না যাওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর     ওএসডি হলেন জামালপুরের ডিসি     দারিদ্র্য বিমোচনে প্রাণিসম্পদ     সেরেনার সামনে রেকর্ডের হাতছানি, শিরোপায় চোখ ওসাকা-হালেপের    

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরলস কাজ করে যাবো : ফরিদা খানম সাকী

  ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৯     ১১৬     ১২:০৫ অপরাহ্ণ     আরও
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক, নোয়াখালী : বৃহত্তর নোয়াখালী মুজিব বাহিনীর প্রধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত স্নেহভাজন সাবেক সাংসদ ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সফল সভাপতি সৎ রাজনীতিবীদ মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এর সহধর্মীনি বীরমুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও সংগঠক ফরিদা খানম সাকীকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে  সাংসদ হিসেবে মনোনীত করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড। মহিলা সাংসদ মনোনীত করায় বীরমুক্তিযোদ্ধা ফরিদা খানম সাকী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন ৪৮ বছর আগে দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আগামী দিনে জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমানে একজন সৈনিক হিসেবে আমার সর্ব্বোচ সামর্থ্য দিয়ে নিরলস কাজ করে যাবো।

সংক্ষিপ্ত জীবনী : ফরিদা খানম সাকী। বাবা মরহুম আব্দুল আলীম। মা মরহুমা লুৎফুন্নাহার বেগম। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় মহান স্বাধীনতার মুক্তিযোদ্ধা। জন্ম নোয়াখালী জেলা সদরে। বাবার সরকরি চাকুরী সুবাদে শৈশব কেটেছে তৎতকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলায়। এছাড়া স্কুল জীবন কেটেছে নানার বাড়ি নোয়াখালী শহরে। নানার পরিবার আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জাড়িত থাকায় ইন্টারমিডিয়েট থেকেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। ১৯৬৫ সালে নোয়াখালী কলেজে ভর্তি হন ফরিদা খানম সাকী। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন মাস্টার্সে। ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানের আন্দোলনে জড়িত ছিলেন তিনি। ১৯৭০-১৯৭১ সালে যুক্ত হন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে। সে সময় থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলে। তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি নুর-এ আলম সিদ্দিকীর এবং সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজের সাথে রাজনীতি করেন তিনি। ৭০’এর নির্বাচনে কাজ করেছেন সক্রিয় ভাবে। এ ভাবেই এই  নিজের স্মৃতি চারণ করেন ফরিদা খানম সাকী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ  মাসে ১০-১৫ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে অস্ত্র ট্রেনিং শুরু করি । পরে সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন হয়। পুরো মার্চ মাস আমাদের এই ট্রেনিং চলে। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুনার জন্য হলের সবাই সকাল থেকেই রেসকোর্স ময়দানের মঞ্চের সামনে বসে থাকি।

ভাষনের পর থেকেই কেন্দ্র থেকে আমাদের বলা হয় যে কোন সময় যুদ্ধের নির্দেশনা আসতে পারে। গোপনে গোপনে সবার সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। আমার কাজ ছিল ঢাকা শহরের খিলগাঁও, পুরান ঢাকা, আজিমপুর ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকার মেয়েদের ও তাদের অভিবাকদের স্বাধীনতা সম্পর্কে বুঝাতে এবং সহযোগিতার কথা বলতে। ছাত্রলীগের সদস্য ও সমর্থকদের মাঝে সচেনতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। ২৩ মার্চ পল্টন ময়দান থেকে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা নিয়ে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর হতে পতাকা তুলে দেয়া হয়। ২৫ মার্চের আগে সকল ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয় আমরা যেন হল থেকে না চলে যায়। সেই সময় আমি, মমতা আপা আর অনার্স পরীক্ষার্থী পাঁচ জন হলে ছিলাম। ২৫শে মার্চ রাত ৯টায় মিটিং শেষে হলে ফিরে আসি।এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসতে শুরু করেছে পাক বাহিনীর আক্রমণের। ২৫শে মার্চ রাত ১১টায় হলের ভেতর থেকে গুলির আওয়াজ শুনে বের হয়ে দেখি সার্চলাইটের আলো আর গুলির শব্দ।আমরা ভিতু হয়ে হলের ভেতরের গেট দিয়ে হল প্রোভোস্ট আক্তার ইমাম আপার বাসায় যায়। তাকে না পেয়ে আমরা হাউজ টিউটর সাইমা আপার বাসায় যাই। ততক্ষনে রোকেয়া হলের গেট ভেঙ্গে পাক বাহিনী ঢুকে মেয়েদের খুজতে শুরু করেছে। আমরা সাইমা আপার স্টোর রুমে কোন রকমে রাত পার করি। সকালে আরেক হাউজ টিউটর মেহেরুন্নেছা আপার বাসায় নিয়ে যায় আমাদের। ২৭ মার্চ কিছুক্ষণের জন্য কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। সেই সুযোগে ওয়ারিতে আমার ফুফা খান বাহাদুর নুরুল হকের বাসায় চলে আসি। বাবাও চিকিৎসার জন্য তার বাসায় এসেছিলেন। ১লা এপ্রিলে আমরা নোয়াখালী রওনা দেই। অনেক কষ্টে ৩ এপ্রিল আমরা নোয়াখালীতে পৌছাই। এসে দেখি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীলা কাজ শুরু করেছে। আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করতে শুরু করলাম। ট্রেনিংয়ে পাঠানো জন্য লোকদের সংগঠিত করি। তখনও পাক বাহিনীর ওই এলাকাতে ঢুকেনি। ঠিক এক সপ্তাহ পরে পাক বাহিনী আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়ে। প্রথমে পাক বাহিনী আমার নানার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। আমরা নানার গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এই বাড়িটা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের যোগাযোগস্থল। আমার মেজো মামা শাহাবুদ্দিন ইস্কান্দার ভুলু মুক্তিযোদ্ধাদের সব রকম সহযোগিতা করতেন। একদিন রাতে নানার বাড়ির সামনে পাক বাহিনীরা আমার মামার হাত বেধে গুলি করে মেরে ফেলে।

আমরা ওই বাড়ি ছেড়ে বড় মামির বাবার বাড়ি চলে আসি। সেখানে দুই সপ্তাহ থাকার পরে মনি ভাই ও রব ভাইয়ের লেখা একটি চিঠি পাই। চিঠিতে লেখা ছিল আমরা যেন কোন গ্রুপের সাথে ভারতে চলে যাই। তখন কুতুব নামে এক রাজাকার বাহিনীর কমান্ডারের সহযোগিতায় আমি, আমার ছোট বোন ও ভাই বর্ডার পার হয়ে আগরতালায় চলে যাই। সেখানে চিদোর ভিলা নামের এক বাড়িতে উঠি। বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএফএল) এর হয়ে সার্জেন্ট জহুরুল হকের ভাই আমিনুল হকের নেতৃত্বে মেজর কেবি শিং এবং মেজর শরমার কাছে প্রশিক্ষণ করি। আমি ব্যাকি আর গ্রেনেড ছোড়ার কাজ শিখি। ৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী পাক বাহিনীর মুক্ত হওয়ার পর দেশে ফিরে আসি। বীরমুক্তিযোদ্ধা ফরিদা খানম সাকী বলেন ৪৮ বছর আগে ঠিক যেভাবে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি।  জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ হিসেবে মনোনীত করে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, সেটি রক্ষায় আমার সর্ব্বোচটুকু করে যাবো। তিনি এজন্য সকলের সহযোগীতা ও দোয়া কামনা করেন।

উত্তরণবার্তা/এআর


 



ভিসা করতে যা যা জেনে রাখা জরুরি

  আগস্ট ২২, ২০১৯     ২৫৭৯

ভিসা ছাড়াই বিদেশভ্রমণ

  আগস্ট ২২, ২০১৯     ১৮৭৮

নার্স খুনের কারণ জানালেন সহকর্মী

  আগস্ট ২১, ২০১৯     ১৬৬৬

কোরবানির মাংসের অন্যরকম হাট!

  আগস্ট ১৩, ২০১৯     ১৩৫৬

পুরনো খবর