মিশর-তুরস্ক থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আসছে : প্রধানমন্ত্রী     প্রতি উপজেলায় ১০ চিকিৎসক নিয়োগ : ফরহাদ হোসেন     প্রধানমন্ত্রীর দুবাই সফরে ৩ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা : মোমেন     উল্লাপাড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, ৪ বগিতে অগ্নিকাণ্ড     জঙ্গিদের কাছে কোরআন-হাদিসের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে : গৃহায়ণমন্ত্রী     আয়কর মেলায় রিটার্ন দাখিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী     বিএনপি একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দল : সেতুমন্ত্রী     গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংবাদ প্রকাশে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের    

বোরো মৌসুমে চাষযোগ্য ‘ব্রি হাইব্রিড ধান-৫’

  মে ০৩, ২০১৮     ৭২১     ১০:২২ অপরাহ্ণ     জাতীয় সংবাদ
--

উত্তরণবার্তা ডেস্ক,  উত্তরণবার্তা.কম ০৩ মে : বাংলাদেশে বোরো মৌসুমে হাইব্রিড ধান চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। উপযুক্ত জাত, সঠিক সময়ে বীজ বপন, চারা রোপণ এবং উন্নত পরিচর্যার মাধ্যমে এই মৌসুমে হাইব্রিড ধান চাষ করে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ২০১৬ সালে বোরো মৌসুমের জন্য স্বল্পমেয়াদী ও অধিক ফলনশীল একটি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর নাম ব্রি হাইব্রিড ধান-৫। এটি সারা বাংলাদেশে চাষের জন্য ২০১৬ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।

এই জাতটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য- ব্রি হাইব্রিড ধান-৫ বোরো মৌসুমের জন্য চাষ উপযোগী ব্রি উদ্ভাবিত একটি নতুন জাত। জাতটির কৌলিক সারি বিআর১৫৮৫এইচ। দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত পিতৃ ও মাতৃ সারি ব্যবহার করে উদ্ভাবিত তৃতীয় জাত এটি। পিতৃ-মাতৃ সারি দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত বিধায় জাতটির রোগ প্রতিরোধ ও বৈরী পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা বেশি।

এ জাতের ধান নিয়ে যেকোনো কৃষক ও নিবন্ধিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বীজ উৎপাদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ব্রির বিজ্ঞানীরা বিনামূলে কারিগরি সহায়তা দিবে। এমনকি কোনো কৃষক যদি উদ্ভাবিত বীজ বিপণন করতে চান তাহলে বিপণন সুবিধাও দেবে ব্রি। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে জাতটি জনপ্রিয়তা পাবে। এ ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩-২৪ ভাগ। দানা সরু ও লম্বা, এজন্য ভাত হয় ঝরঝরে। দানায় প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। এ ধানের গাছের উচ্চতা ১০৫-১১০ সেন্টিমিটার।

ব্রির হাইব্রিড রাইস ডিভিশনের প্রধান ড. মো. জামিল হাসান উত্তরণবার্তাকে বলেন,  এ ধানের জীবনকাল ১৪৩-১৪৫ দিন। কিছুটা ঘাতসহিষ্ণু। অর্থাৎ বেশি মাত্রায় শীত ও খরাতে এটি আবাদ করা যাবে। কাণ্ড শক্ত বিধায় সামান্য ঝড়ে ঢলে পড়ার আশঙ্কা থাকে না। স্বাভাবিক অবস্থায় গাছপ্রতি গুচ্ছির সংখ্যা ১২-১৫টি থাকে বিধায় উচ্চ ফলন দিতে পারে। যেকোনো জাতের চেয়ে এখনো পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ ফলন দিতে সক্ষম হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, ধানটি আবাদ, পরিচর্চায় বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। বীজ বপনকাল অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাস। তবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর উৎকৃষ্ট সময়। প্রতি হেক্টর (৭.৫ বিঘা) জমিতে মাত্র ১৫ কেজি বীজ প্রয়োজন। সব সময় রোদ থাকে এমন জায়গাতে বীজতলা তৈরি করতে হবে। বীজতলার মাটির উর্বরতার ওপর নির্ভর করে পচা গোবর ও রাসায়নিক সার দিতে হবে। চারা রোপণের পর জমিতে সেচ নিশ্চিত করতে হবে। তবে চারা রোপণের তিন সপ্তাহ পর ৫-৬ দিনের জন্য সেচ বন্ধ রেখে জমি একটু হালকা শুকানো যেতে পারে। হাইব্রিডসহ ধানের বিভিন্ন রোগের জন্য অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার দায়ী। এজন্য শেষ মাত্রার ইউরিয়া প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফুল আসার ৩০-৩৫ দিন পর ধান হলুদ হলে অর্থাৎ শীষের অগ্রভাগের ৮০ ভাগ ধানের চাল শক্ত হলেই দ্রুত ফসল কর্তন করে ফসল ঘরে ওঠাতে হবে। ধান কাটার পর সাথে সাথে মাড়াই করে শুকিয়ে নেয়া উত্তম। তবে ব্রি হাইব্রিড ধান-৫ বীজ থেকে উৎপাদিত ধান কোনোমতেই বীজ হিসাবে রাখা যাবে না কিংবা পরবর্তীতে বীজ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। বীজ ও ধান উৎপাদনে আলাদা আলাদাভাবে করতে হবে। ঘাতসহিষ্ণু বিধায় জাতটি আবাদে সার ও অনান্য উপকরণের ব্যবহার কম করতে হয়।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্রি এ পর্যন্ত ৯১টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ইনব্রিড ৮৫টি এবং হাইব্রিড ৬টি। এসব জাতের মধ্যে বিভিন্ন ঘাতসহিষ্ণু বা লবনাক্ততা, খরা, জলমগ্নতাসহিষ্ণু জাত রয়েছে। এছাড়া উচ্চ প্রোটিন ও জিংকসমৃদ্ধ এবং চাল রপ্তানি উপযোগী জাত রয়েছে। পরিবর্তনশীল জলবায়ুর জন্য ব্রি উদ্ভাবিত জাতগুলো মাঠ পর্যায়ে আবাদ করা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের চাষাবাদ করা হয়। এছাড়া দেশের মোট ধান উৎপাদনের শতকরা প্রায় ৯১ ভাগই ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের জাত থেকে আসছে বলে জানান ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর।

ব্রির মহাপরিচালক বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশে ধানের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে চালের চাহিদা পূরণে কাজ করছে ব্রি। এরই ধারাবাহিকতায় হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন ও কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

উত্তরণবার্তা.কম/এআর
 



তিন দশক পর

  নভেম্বর ১৪, ২০১৯

পুরনো খবর