টানা জয়ে শেষ ষোলোর দ্বারপ্রান্তে পুতিনের রাশিয়া     মেসিতেই অনুপ্রেরণা খুঁজছে আর্জেন্টিনা     অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার, ছোট মন্ত্রিপরিষদ : সেতুমন্ত্রী     ময়মনসিংহে মাইক্রো- অটো সংঘর্ষ, নিহত ৩     প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা ২১ জুলাই     রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ     কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ     জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন    

ভারি বর্ষণে হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

  মে ০৩, ২০১৮     ৭৬          জাতীয় সংবাদ
--

নিজস্ব প্রতিবেদক,  উত্তরণবার্তা.কম ০৩ মে : ভারি বর্ষণে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের হাওরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ছুটির দিনে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, দুই মাসে  বজ্রপাতে  সারা দেশে ৭০ জন মানুষ মারা গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এরমধ্যে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

এতে হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। তিনি বলেন, গত বছরের এপ্রিলে আগাম বন্যায় হাওরের ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। সেজন্য এবার বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। জনসাধারণ ও সব সংস্থাকে বন্যার পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বর্তমানে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলোয় আবহাওয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ মেঘালয় ও আসামের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ বিরাজ করছে।

এদিকে ভারি বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি অত্যন্ত ভালো দাবি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সাংবাদিকদের বলেন, দুই মাস ধরে প্রস্তুতি চলছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্ক বার্তা শোনার পর এখানে সবাই সমবেত হয়েছি। আমাদের আগাম প্রস্তুতি প্রায় শেষ। কোথাও দুর্যোগ হলে কী করণীয়- দুর্গতদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া, খাবারের ব্যবস্থা করা ও পুনর্বাসন করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

আগাম প্রস্তুতির কারণে হাওরে ইতিমধ্যে ৮৮ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। অতি বৃষ্টির ফলে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় ওই সব অঞ্চলের মাঠের ফসল কেটে ঘরে তোলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাইকিং করা হয়েছে। এসব জেলার কৃষকরা ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। মন্ত্রী আরও বলেন, শিলা বৃষ্টি এখন নতুন দুর্যোগ। এবার উত্তর বঙ্গে ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের শিলা পড়েছে। এবার শিলা বৃষ্টিতে ৫ থেকে ৭ জন মারা গেছে।

তিনি বলেন, আগে ১৫ থেকে ১৬টি জেলায় দুর্যোগ হতো। এখন ৩৭টি জেলা নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাতে হয়। গত বছর পাহাড় ধসে পার্বত্য এলাকায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বছর পাহাড় ধস মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে এপ্রিলের ২২ থেকে ২৬ তারিখে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্বত্য তিন জেলা- চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৩৫টি উপজেলায় র‌্যালি, কর্মশালা ও জেলা-উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের দ্রুত সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মায়া বলেন, দু’দিনে শুধু রাঙ্গামাটিতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের ২ লাখ লোক পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ২৫ হাজার পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আশা করি রোজার আগে তাদের সবাইকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হব।

বজ্রপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন করে দুর্যোগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে এটি। আবহমান কাল ধরেই বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বর্তমানে বজ্রপাতের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

সরকার ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তালগাছসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে লম্বাগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বজ্রপাতের পরিমাণ বাড়ছে বলে মনে করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে দেশে বজ্রাঘাতে ৩০৭ জন, ২০১৬ সালে ৩৮০ জন মানুষ এর আঘাতে মারা গেছে। ২০১৬ সালের মে মাসে চার দিনে বজ্রাঘাতে ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কেউ মারা যায়নি।

একই বছরের মার্চ ও এপ্রিলে ৭০ জন মারা যান। এর মধ্যে ২৯ এপ্রিল ১৬ জন ও ৩০ এপ্রিল ১৩ জন বজ্রাঘাতে মারা যান। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, সাতক্ষীরার কয়রা, পটুয়াখালি, নওগাঁর বদলগাছিসহ দেশের আটটি জেলায় বজ্রপাত শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হয়েছে।

বজ্রপাতসৃষ্ট দুর্ঘটনা এড়াতে জনসাধারণকে লম্বাগাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার, ধাতব খুঁটি, মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর।

এছাড়া বৃষ্টির মধ্যে শিশুদের মাঠে যে কোনো খেলা ও সাগর বা নদীতে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আকাশে গভীর ও উলম্ব মেঘ দেখা দিলে ঘরে অবস্থান করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ‘বিরাজমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায়’ করণীয় বিষয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী।

এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঈন আবদুল্লাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের সচিব ফয়েজ আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণায়ের সচিব রইছ-উল আলম মণ্ডল, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর হোসেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ ও আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

উত্তরণবার্তা.কম/এআর
 



পুরাতুন খবর