টানা জয়ে শেষ ষোলোর দ্বারপ্রান্তে পুতিনের রাশিয়া     মেসিতেই অনুপ্রেরণা খুঁজছে আর্জেন্টিনা     অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার, ছোট মন্ত্রিপরিষদ : সেতুমন্ত্রী     ময়মনসিংহে মাইক্রো- অটো সংঘর্ষ, নিহত ৩     প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা ২১ জুলাই     রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ     কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ     জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন    

অতিবৃষ্টি আর ঝড়ে মানুষের দুর্ভোগ

  এপ্রিল ৩০, ২০১৮     ৫৯          জাতীয় সংবাদ
--

নিজস্ব প্রতিবেদক,  উত্তরণবার্তা.কম ৩০ এপ্রিল :  প্রতি বছর এ সময়টাতে কালবৈশাখীসহ বজ্রবৃষ্টিপাত খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এ বছর অন্য বছরের চেয়ে বেশ ব্যতিক্রম। পুঞ্জিভূত মেঘ, ঝড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টিসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিলাবৃষ্টি ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতির রাজধানীতে এবারের আবহাওয়া বেশ বেমানান। সকাল ৮টায় ঘরের বাইরে তাকিয়েই অন্ধকার দেখে অনেকে চমকে উঠেন। প্রাত্যহিক কাজে বের হয়ে দেখেন রাস্তায় হাঁটুপানি। বাজারের পথে পড়ে আছে বিশাল আকৃতির গাছ। রোববার সারাদিনই রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। বজ্রপাতে রাজধানীবাসী আঁতকে উঠেছে প্রতি মিনিটে।

শুধু রাজধানী নয়, গতকাল প্রায় সারাদেশেই আবহাওয়ার আচরণ ছিল একই। দিনভর বৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে যাওয়াসহ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কাঁচা আমসহ অন্যান্য মৌসুমি ফল ঝরে গেছে।

গতকাল সকাল, দুপুর ও বিকালে তুমুল বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জলজট তৈরি হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জলমগ্ন ছিল অনেক রাস্তা ও এলাকা। রাজধানীর মিরপুর ১০, ১১, ১২ এবং ১ ও ২ নম্বর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ি, রামপুরা, বনশ্রী, মগবাজার, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোটবড় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও বৃষ্টি ও জলজটের কারণে গাড়ির গতি ছিল কম। অনেক স্থানেই যানজট তৈরি হয়। বেসরকারি বিভিন্ন অফিসের চাকুরে এবং দিনমজুর শ্রেণির মানুষের ভোগান্তি ছিল বেশি। ভাসমান দোকানগুলোর সিংহভাগই ছিল বন্ধ। রাজধানীর শান্তিনগরে বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাইফবোট দিয়ে পথচারীদের রাস্তা পারাপার করান। আজ সোমবার স্কুল-কলেজসহ সব প্রতিষ্ঠানই খোলা রয়েছে। তাই জলজট অব্যাহত থাকলে ভোগান্তিও বাড়বে। এ নিয়ে বিদ্যালয়গামী, অফিসগামী, শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তাও তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সোম ও আগামীকাল মঙ্গলবার ঝড়ো হাওয়াসহ ভারি বর্ষণ হবে। দুই দিনই বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। বুধবার ভারি বর্ষণ না হলেও বৃষ্টিপাতের আভাস রয়েছে। তিন দিন বজ্রপাতের শঙ্কাও রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপ বলয় বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে পূবালি ও পশ্চিমা লঘুচাপের সক্রিয়তা বাড়ায় অতি বর্ষণ হচ্ছে।

জেষ্ঠ্য আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান,  তীব্র বজ্রমেঘের কারণে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ এবং বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গত রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সকালে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। সকাল ৮টার দিকে আকাশ আঁধার করে রাজধানীতে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী। ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৩ কিলোমিটার।

গতকাল (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ময়মনসিংহে, ৭২ মিলিমিটার। এছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৫৬ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৫৫, ভোলায় ৫০, টাঙ্গাইলে ৪৯, বরিশালে ৩৬, নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় শিলাসহ বৃষ্টিপাত হয়।

নৌ চলাচল বিঘ্নিত

এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গতকাল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নৌ চলাচল বিঘ্নিত হয়। অনেক লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। ঢাকা থেকে দক্ষিণের জেলাগুলোতে এবং ওই জেলাগুলো থেকে ঢাকায় আসা লঞ্চের সংখ্যা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌযান পরিদর্শক দীনেশ কুমার সাহা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ১০টা, দুপুর ১১টা ৫০ থেকে বেলা ১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঢাকা সদরঘাট থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন্ধ রাখা হয়। একাধিক লঞ্চের কর্মচারী জানান, অনেক যাত্রী জরুরি প্রয়োজনে ঘাটে আসলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ফিরে গেছেন। যারা রয়ে গিয়েছিলেন তারাও আতঙ্ক নিয়ে ঘাটে কিংবা লঞ্চে বসেছিল।

দেশে রোববার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

ময়মনসিংহ          ৭২

ঢাকা                 ৬৮

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)  ৫৬

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) ৫৬

বগুড়া                ৫২

(হিসাব মিলিমিটারে)

সূত্র :আবহাওয়া অধিদপ্তর

উত্তরণবার্তা.কম/এআর
 



পুরাতুন খবর