গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে দেশ উন্নত হয়: প্রধানমন্ত্রী     দেশে পর্যাপ্ত পশু আছে সহনীয় থাকবে দাম     সারাদেশে কোরবানিযোগ্য পশু ১ কোটি ১৬ লাখ     ইংল্যান্ড তারকার জন্য মোটা টাকা খরচ করতে রাজি রিয়াল     আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা কাল     মহাসড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী     ভালসারটান ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যহার করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী     বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর আহ্বান    

কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক, শ্রমশক্তির বিশাল অংশই ঝুঁকিতে

  এপ্রিল ৩০, ২০১৮     ৯৭          জাতীয় সংবাদ
--

নিজস্ব প্রতিবেদক,  উত্তরণবার্তা.কম ৩০ এপ্রিল :  দেশের কর্মসংস্থানের বড় অংশই হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। মোট শ্রমশক্তির ৮৫ দশমিক ১ শতাংশই এ খাতে নিয়োজিত। আর মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে।

শিল্প ক্ষেত্রে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক আর সেবা ক্ষেত্রে নিয়োজিত শ্রমশক্তির ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৬-১৭)’ প্রতিবেদনে এ চিত্র ওঠে এসেছে।

সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমশক্তি সবচেয়ে বেশি হওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। কেন না, তারা যে কোনো সময় কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে যেতে পারেন। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান কমে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ বিশাল শ্রমশক্তি কম মজুরি ও কম উৎপাদনশীল। ফলে অর্থনীতিতে তাদের যে রকম ভূমিকা রাখার কথা সেটি তারা রাখতে পারছে না। এ শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করাটা বড় চ্যালেঞ্জ।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড.শামসুল আলম উত্তরণবার্তাকে বলেন, ‘শ্রমশক্তির বিশাল অংশ কৃষিতে যুক্ত। আর এর প্রায় পুরোটাই অপ্রাতিষ্ঠানিক।

এছাড়া শহরে ছোট ছোট শিল্প-কারখানা, টেইলার্স ও বিভিন্ন কর্মে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মী রয়েছেন। এরা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর ভর করেই মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৭ শতাংশের ওপরে অর্জিত হচ্ছে।

কিন্তু সমস্যা হল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যারা যুক্ত তারা রয়েছে ঝুঁকিতে। কেননা কাজের নিশ্চয়তা, কম মজুরি, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকা, বঞ্চনার পাশাপাশি নারী-পুরুষের মধ্যে ব্যাপক মজুরি বৈষম্য ইত্যাদি বিষয় রয়েছে এ খাতে।

এ বিশাল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে অনেক সময় প্রয়োজন। তবে চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিষয়ে উদ্যোগ রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশাই হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠনিক খাত থেকে কর্মসংস্থান প্রাতিষ্ঠানিক হোক। সেজন্য বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে। সেটি করতে হলে বৃহদায়ন খামার ব্যবস্থা ও যান্ত্রিকীকরণের জন্য বৃহৎ কারখানা গড়ে তুলতে হবে।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন ৫ কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। এর মধ্যে নারী শ্রমিক রয়েছেন ১ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার আর পুরুষ রয়েছেন ৩ কোটি ৪৬ লাখ ১৩ হাজার।

এছাড়া গ্রাম ও শহরের হিসাবও আলাদা করে দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ বেশি কাজ করছে। এ সংখ্যা হচ্ছে গ্রামে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার আর শহরে কাজ করে ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ।

এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে কাজ করছে ৮৬ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৮২ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ।

এরপর রংপুর বিভাগে ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার, খুলনা বিভাগে ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার, সিলেট বিভাগে ২৪ লাখ ৯৮ হাজার এবং বরিশাল বিভাগে ২৪ লাখ ২৮ হাজার মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত রয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি  উত্তরণবার্তাকে বলেন, ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতই হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯০ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত।

কিন্তু এ শ্রমিকদের কর্মের নিরাপত্তা নেই। শ্রম আইনের বাইরে থাকায় তারা কোনো ধরনের শ্রমিক অধিকার পাচ্ছে না। যে কোনো সময় ইচ্ছে করলেই তাদের কাজ থেকে বের করে দেয়া যায়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) স্বীকৃত কোনো সুবিধাই জোটে না তাদের কপালে।

তাছাড়া ইদানীং দেখা যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক খাতেও শ্রমের খরচ বাঁচাতে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। যেমন কোনো কোম্পানি তাদের ক্লিনার বা সিকিউরিটি গার্ডের জন্য অন্য একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়। ফলে ওই কোম্পানি অস্থায়ী ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে এখানেও শ্রমের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির মধ্যে ব্যবস্থাপক পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন ৬ লাখ ৬১ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৬৪ হাজার এবং পুরুষ ৫ লাখ ৯৭ হাজার। পেশাদার রয়েছেন ১৯ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ সাড়ে ১২ লাখ এবং মহিলা ৬ লাখ ৯০ হাজার। প্রযুক্তি এবং তৎসংশ্লিষ্ট কর্মে রয়েছেন ৭ লাখ ২৭ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ২১ হাজার এবং মহিলা ১ লাখ ৭ হাজার।

করনিক সহায়ক কর্মে নিয়োজিত আছে ৫ লাখ ৩৭ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ৩৬ হাজার এবং মহিলা ১ লাখ ১ হাজার। সেবা এবং বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন ৬১ লাখ ২৭ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৫৪ লাখ ২৭ হাজার এবং মহিলা ৭ লাখ। দক্ষ কৃষি-বনায়ন ও মৎস্য খাতে নিয়োজিত রয়েছেন ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৯৩ লাখ ৫০ হাজার এবং মহিলা ৯৩ লাখ।

কারুশিল্প এবং এ সংশ্লিষ্ট কর্মে নিয়োজিত আছে ৯১ লাখ ৫৯ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৬১ লাখ ৬৬ হাজার এবং মহিলা ২৯ লাখ ৯৪ হাজার। উৎপাদক-যন্ত্র পরিচালনাকারী এবং সংযুক্তকরণ কাজে নিয়োজিত আছে ৩৮ লাখ ৩১ হাজার।

এর মধ্যে পুরুষ ৩৪ লাখ ৫২ হাজার এবং মহিলা ৩ লাখ ৭৯ হাজার। প্রাথমিক পেশায় যুক্ত ১ কোটি ৮১ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৭২ লাখ ৯৮ হাজার এবং মহিলা ২৭ লাখ ৮৪ হাজার। এছাড়া অন্যান্য পোশায় যুক্ত রয়েছে ২১ হাজার মানুষ, এর মধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার এবং বাকিরা মহিলা।

উত্তরণবার্তা.কম/এআর
 



রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি

  জুন ০৬, ২০১৮     ৩৯৯২

আমের কেজি ৭ টাকা

  জুন ২৭, ২০১৮     ১৪৮১

পুরনো খবর