টানা জয়ে শেষ ষোলোর দ্বারপ্রান্তে পুতিনের রাশিয়া     মেসিতেই অনুপ্রেরণা খুঁজছে আর্জেন্টিনা     অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার, ছোট মন্ত্রিপরিষদ : সেতুমন্ত্রী     ময়মনসিংহে মাইক্রো- অটো সংঘর্ষ, নিহত ৩     প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা ২১ জুলাই     রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ     কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ     জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন    

নির্বাচনী বাজেট, নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্ব পাচ্ছে আনসার বাহিনী

  এপ্রিল ২৫, ২০১৮     ৮৪          নির্বাচন
--

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরণবার্তা.কম ২৫ এপ্রিল : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্ব পাচ্ছে আনসার বাহিনী। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এই বাহিনীর জন্য পোশাক ও সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। কারণ নির্বাচনের দিন সারা দেশের ৪০ হাজার ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখতে হবে এই বাহিনীর প্রায় সাড়ে চার লাখ সদস্যকে। এই কর্মযজ্ঞের ব্যয় মেটাতে বাহিনীটির পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে ১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আর এই বরাদ্দ অনুমোদনের পক্ষে সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান উত্তরণবার্তাকে বলেন, ‘আসন্ন বাজেট হচ্ছে নির্বাচনী বাজেট। আইনশৃঙ্খলা খাতকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দেয়া হবে। জনগণকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগই থাকছে বাজেটে।’

আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যেও। আনসার বাহিনীও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আনসার বাহিনী পোশাক ও সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ কারণেই বাহিনীটির পক্ষ থেকে বাজেট তৈরি করে প্রস্তাব আকারে দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় তা প্রেরণ করেছে অর্থ বিভাগের কাছে।

সূত্রমতে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের সিলিং নির্ধারণ করা হয়েছে আনসার-ভিডিপি বাহিনীর জন্য। কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য পোশাক ও সরঞ্জামসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ের জন্য আরও অতিরিক্ত ১২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় পোশাক ও সরঞ্জাম কেনার জন্য এ অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করা হল।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার কেন্দ্র হবে ৪০ হাজার ৫৫২টি। প্রতিটি কেন্দ্রে ৮ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৬ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী সদস্য। সে হিসাবে কেন্দ্রগুলোতে মোট আনসার সদস্য থাকবেন ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬২৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ সদস্য ৩ লাখ ২৫ হাজার ৪১৬ জন এবং নারী সদস্য ১ লাখ ৬২ হাজার ২০৮ জন।’

নির্বাচনে এদের পোশাক খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুরুষ সদস্যদের পেছনে ব্যয় ৮৯ কোটি টাকা এবং নারী সদস্যদের পেছনে ৩৭ কোটি টাকা।

পোশাক কেনার তালিকায় আছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৪১৬ পিস প্যান্ট ও শার্ট। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। প্রায় ৯ লাখ পিস ক্যাপ কেনা হবে। পুরুষ সদস্যদের প্রতিটি ক্যাপের মূল্য ১১২ টাকা এবং নারীদের ক্যাপের মূল্য ধরা হয় ২০০ টাকা। ওই হিসেবে ক্যাপ কেনা বাবদ ব্যয় হবে ১৪ কোটি টাকা। এছাড়া সোয়া তিন লাখ জোড়া জুতা কেনা হবে ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে। সাড়ে চার লাখ জোড়া মোজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে পুরুষ সদস্যদের প্রতিটি মোজার মূল্য ধরা হয়েছে ৭০ টাকা এবং নারী সদস্যদের মূল্য ধরা হয় ৫০ টাকা করে। পাশাপাশি আনসার বাহিনীর নারী সদস্যদের শাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। প্রতিটি শাড়ির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫০০ টাকা করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা উত্তরনবার্তকে বলেন, ‘সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন বাজেটে নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যয়ের একটি প্রভাব পড়বে। কারণ এটি নির্বাচনীয় বছরের বাজেট। আনসার-ভিডিপি বাহিনীকে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার চেয়ে অতিরিক্ত আরও ১২৬ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে। এ ব্যয় যৌক্তিক হলে প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে।’

জানা গেছে, পোশাক ও সরঞ্জাম ছাড়াও নির্বাচনীয় নিরাপত্তার জন্য আনসার বাহিনীর প্রায় চারশ’ কোটি টাকার অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার প্রস্তাব দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। এর মধ্যে শটগান ৫০ হাজার এবং ৫০ লাখ কার্তুজ। পুরনো ‘পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেলে’র পরিবর্তে এ অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। ভোট কেন্দ্রে নিয়োজিত পিসি এবং এপিসিকে একটি করে মোট দুটি অস্ত্র দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসাবে নির্বাচনকালীন ৮০ হাজার অস্ত্রের দরকার হবে। কিন্তু বর্তমান এ বাহিনীর হাতে ৩০ হাজার অস্ত্র রয়েছে। ফলে বাকি ৫০ হাজার শটগানের দরকার। এসব অস্ত্র কেনার প্রস্তাবটিও বিবেচনায় রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।

উত্তরণবার্তা.কম/এআর
 



পুরাতুন খবর