স্পিকারের সঙ্গে ইউএনডিপি’র প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ     সংসদে আজ ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড বিল, ২০১৮ পাস     ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪,৪৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন     মিয়ানমারের ৫ জেনারেলের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ অস্ট্রেলিয়ার     ব্যারিস্টার মইনুলের গ্রেফতারে রাজনীতির সম্পর্ক নেই: নাসিম     নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২৬ অক্টোবর: সেতুমন্ত্রী     এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক জোরদার করার উদ্যোগ     বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র :মার্কিন উপ-সহকারী মন্ত্রী    

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

  সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮     ৩৯     ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন     জাতীয় সংবাদ
--

উত্তরণবার্তা  ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ শুধু ব্যক্তিস্বার্থ থেকে বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিলের ওপর মতামত দিয়েছেন। একবারও তাঁরা চিন্তা করেননি বা তাঁদের মাথায় আসেনি, পুরো দেশ, সমাজ ও মানুষের স্বার্থে এই বিল কত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু-যুব-বয়োবৃদ্ধদের নিরাপত্তা দিতে বিলটি পাসের উদ্যোগ নেয়া হয়।’

গত বুধবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে তিনি এসব বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ আইনে সাংবাদিকরা উদ্বিগ্ন হচ্ছেন কেন? এতে দুশ্চিন্তা হওয়ার কিছু তো দেখি না। বিলটি পাসের আগে অনেক স্বনামধন্য সম্পাদক-সাংবাদিক মতামত দিয়েছেন। এখানে তো কণ্ঠরোধ হয়নি, কণ্ঠ আছে বলেই মতামত দিচ্ছেন। মানুষকে নিরাপত্তা দিতে, জনগণকে বাঁচাতে ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিলটি পাস করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এই অধিবেশনে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন বিল নিয়ে বিরোধী দলও সমালোচনা করতে পারেনি। বরং প্রশংসা করেছে। তবে তারা প্রশ্ন তুলেছে, এত অল্প সময়ে বিলটি কিভাবে আনা হলো। কিন্তু মোটেও তড়িঘড়ি করে বিলটি পাস হয়নি। অনেক আগেই বিলটি পাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়।’

সংসদ নেতা বলেন, ‘কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। তারা কিন্তু মেধাবী। কিন্তু তারা কখনো স্বীকৃতি পায়নি বা চায়নি। এটাই হলো বাস্তবতা। এসব শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্রে যেন প্রবেশ করতে পারে, জীবনটাকে যেন উন্নত করতে পারে, সেটা চেয়েছি। প্রায় ৯ বছর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিলটি পাস করা হয়েছে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা শুধু দেখে, তাদের কণ্ঠরোধ হয়েছে কি না। কিন্তু কণ্ঠরোধটা যে কি, সেটা মার্শাল ল যখন ছিল তখন বুঝেছে। এ দেশে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ছিল, অবশ্য যারা তাদের পদলেহন করেছে, তোষামদি করেছে, তাদের অসুবিধা হয়নি। কিন্তু যারা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেছে, তাদের অসুবিধা হয়েছে। বেশি দূর যেতে হবে না; ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের আমলে কিভাবে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়েছে, সেটা তাঁরা ভুলে গেছেন? এখন ডিজিটাল আইন করার পরেই তাঁরা তাঁদের কণ্ঠরোধের কথা বললেন।’ তিনি বলেন, ‘কণ্ঠরোধ কোথায়? এ দেশে একটা টেলিভিশন ছিল। কোন সরকার সাহস পেয়েছে এই টেলিভিশনকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে? কোনো সরকারই সাহস পায়নি। আমরা দিয়েছি। এখন মধ্যরাত পর্যন্ত টিভিতে টক শো হয়; সেখানে যা খুশি আলোচনা করতে পারছে। কেউ গিয়ে তো তাদের গলা চেপে ধরছে না; কেউ তো তাদের বাধা দেয়নি। শুধু তাদের সাংবাদিকতার বিষয়টাই তাঁরা দেখছেন। বাকিদের কী হবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকতা হবে গঠনমূলক। সাংবাদিকতা থাকবে দায়িত্বশীল, সমাজের জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য। নিশ্চয়ই সাংবাদিকতা সংঘাতের জন্য হবে না। সাংবাদিকতা দেশের অকল্যাণের জন্য হবে না। দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য হবে না।’

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের এত উন্নয়ন হচ্ছে, বিশ্ববাসী দেশের উন্নয়ন দেখছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোলমডেল বলছে। কিন্তু দেশে কিছু পত্রিকা আছে, সেটি খুললে মনে হয় বাংলাদেশ শেষ হয়ে গেছে। আমার প্রশ্ন—সরকার কি খারাপ কাজ করছে? কোনো উন্নয়নই তাদের চোখে পড়ে না? যারা ভালো কিছুই দেখতে পারেন না, সবই খারাপ দেখেন—এটা তাঁদের মানষিক অসুস্থতা। আমি দেশকে ভালোবাসি, দেশকে চিনি। আমার বাবা দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিস্বার্থে নয়, দেশ ও মানুষের স্বার্থে কাজ করি, দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। কারো লেখা দিয়ে কিংবা পত্রিকা পড়ে শিখতে হবে না। আমার আত্মবিশ্বাস আছে, জনগণের ওপর আস্থা, বিশ্বাস আছে। পত্রিকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করি। আর এই ভালো না লাগার গোষ্ঠীর পত্রিকা পড়ারও কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউটিউব, ফেসবুকের ভালো দিক আছে, খারাপ দিকও আছে। খারাপ বিষয়গুলো সমাজের জন্য অশুভ বিষয় বয়ে আনে। অনেক ছেলেমেয়ে এর প্রতি অ্যাডিকটেড হয়ে যায়। অপব্যবহার হয়, অপপ্রচার হয়। এতে পারিবারিক অসন্তোষ তৈরি হয়। আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটে। এ জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আমাদের একান্ত দরকার।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে এর মধ্যে এত বেশি ডুবে যায় যে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এটা অনেক সময় সমাজ ও সংসারের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই কুপ্রভাবের ফলটা আমাদের সমাজের জন্য মোটেই ভালো নয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দিকটাও আছে। এসব মাধ্যম যদি সুস্থভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে সেটা ভালো হতে পারে। আবার উল্টো হলে সমাজ ও সংসার ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সকলের জন্য নিরাপত্তা অত্যন্ত প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। সে লক্ষ্য নিয়ে কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস হয়েছে। এখানে শুধু গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের কথা চিন্তা করা হয়নি। যেটা করেছি জাতীর স্বার্থে ও মানুষের স্বার্থেই করেছি। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি আজ খুবই শক্তিশালী। বাজেট বাস্তবায়ন করতে আজ কারো কাছে আমাদের হাত পাততে হয় না। এই সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি পরিকল্পিতভাবে এগোনোর কারণে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার মূল টার্গেট ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি। তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। সব কিছুতে বিশ্বে নিজেদের একটা অবস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছি। দেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দশম জাতীয় সংসদে কোনো অশালীন কথা ছিল না। এটা গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করেছে, মজবুত করেছে। মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। একসময় এই পার্লামেন্টে অনেক নোংরা ভাষা ব্যবহার হয়েছে। একসময় মানুষের কাছে সংসদ নিয়ে আগ্রহ কমে গিয়েছিল। কিন্তু এবার সংসদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের সরকারের শেষ সময়, পড়ন্ত বেলা। সামনে নির্বাচন হবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারা নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসবেন। তবে আমরা দেশের গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করেছি, মজবুত করেছি। আবার যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করব। প্রতিটি গ্রামে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেব। আমরা সমগ্র দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই—এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।’

উত্তরণবার্তা/এআর


 



নতুন আর্জেন্টিনা পুরনো ব্রাজিল

  সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৮     ৭৮৫৪

যমজ লাল্টু-পল্টুর দাম ২০ লাখ

  আগস্ট ১২, ২০১৮     ৪৫৮২

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি

  জুন ০৬, ২০১৮     ৪২৯৬

পান খাওয়ার উপকারিতা

  অক্টোবর ১৫, ২০১৮     ২২৭২

পুরনো খবর