বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে লেজিসলেটিভ সচিবের শ্রদ্ধা     সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সমাজে অস্থিরতা ছড়ালে ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী     জয়পুরহাটে টিকেট ছাড়া রেল ভ্রমণ, ৪৫ জনকে জরিমানা     শেখ কামালের সমাধিতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন     বন্যার্তদের মাঝে ১০ হাজার ৪৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে     শেখ হাসিনাকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ফোন; ৩২৯ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা     কোনো উসকানিতে দুই বাহিনীর সম্পর্ক নষ্ট হবে না : আইজিপি     সিনহা নিহতের ঘটনায় দায় ব্যক্তির, কোনো বাহিনীর নয় : সেনাপ্রধান    

ফুঁসে উঠেছে তিস্তা

  জুলাই ১০, ২০২০     ৫৩     ২৩:২৪     আরও
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : উজানের গজলডোবা হতে পানি ছেড়ে দেয়ার জেরে  ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টার পর হতে ১২ ঘণ্টায় নদীর পানি ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০) ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অথচ এদিন সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকী কেন্দ্র সূত্র মতে, এর আগে চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি সর্ব প্রথম গত ২০ জুন বিপদসীমার ওপরে ওঠে। যা পরেরদিন ২১ জুন সকালে নেমে যায়। এর ছয় দিনের মাথায় ২৬ জুন তিস্তা নদীর পানি দ্বিতীয় দফায় বিপদসীমা অতিক্রম করে ২০ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে ২৮ জুন সকালে নেমে যায়।

তৃতীয় দফায় ৪ জুলাই সকালে তিস্তার পানি ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ওইদিন সন্ধ্যায় তা নেমে গিয়েছিল। এবার ১০ জুলাই আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে উজানের পানি বেড়ে গেলে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপরে চলে আসে।

তিন ঘণ্টা পর উজানের ঢল আরও ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় আরও বৃদ্ধি পায় ১৩ সেন্টিমিটার। ফলে ১২ ঘণ্টায় পানি ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর (৫২ দশমিক ৮৮) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে উজানের ঢল ধেয়ে আসা অব্যহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এদিকে, ওপারে দোমহনী হতে বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভারত কর্তৃপক্ষ তিস্তা নদীর অরক্ষিত এলাকায় লাল সংকেত জারি করেছে।

উত্তরাঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উজানে ভয়াবহতার কারণে ভারত লাল সংকেত জারি করেছে। অপর দিকে বাংলাদেশ অংশে হলুদ সংকেত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে লাল সংকেত দেয়া হবে। তিস্তা ব্যারাজের কর্মকর্তারা নজরদারীতে মাঠে রয়েছেন।

এদিকে উজানের ঢলে তিস্তায় চতুর্থ দফায় ভয়াবহ বন্যায় তিস্তা অববাহিকায় নতুন করে পাঁচ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। চরবেষ্টিত গ্রামের মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৬ ইউনিয়ন, পূবছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছচাঁপানীর ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, তিস্তায় ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃস্টি করছে। ডিমলার কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর, চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিমখড়িবাড়ি, তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজন গরু ছাগল, বাক্সপোটরা নিয়ে নিরাপদে সরে গেছে।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, পরিস্থিতি ভাল না। উজানের ঢল ভয়ংকরভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এবার ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খগাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, দুপুরের পর থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব‌্যাহত রয়েছে। এতে মানুষজনকে সরিয়ে নিতে কষ্ট পেতে হচ্ছে। ডিমলা উপজেলায় তিস্তা এলাকায় সরকারীভাবে ছয়টি নৌকাসহ অসংখ্য নৌকা বন্যা কবলিত মানুষজনকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে।

ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, ‘আমরা সর্তক রয়েছি। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার চর ও চর গ্রামের পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।’

উত্তরণবার্তা/এআর

 



৫ আগস্ট : হাসতে নেই মানা

  আগস্ট ০৫, ২০২০     ১২৪

প্রাইজবন্ডের ১০০তম ড্র

  আগস্ট ০৫, ২০২০     ৯৯

আজও রয়েছে ঝড়বৃষ্টির আভাস

  আগস্ট ০৫, ২০২০     ৩২

পুরনো খবর