ফুঁসে উঠেছে তিস্তা     ঢাকাবাসীর জন্য ‘ডিজিটাল হাট’ চালু হচ্ছে শনিবার     সাহারা খাতুনের লাশ আসছে রাতে, শনিবার বনানীতে দাফন     নেপালে ভয়াবহ ভূমিধস, নিহত ১০     দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর     করোনায় ফরিদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লোকমানের মৃত্যু     দেশে করোনায় আরও ৩৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৯৪৯     পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা    

আওয়ামী লীগ : প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে

  জুন ২৪, ২০২০     ৯৪     ১৫:২৩     প্রবন্ধ
--

(..........পরবর্তী দ্বিতীয় অংশ )

আনিস আহামেদ


একুশ শতকের স্বপ্ন 
আজকের বিশ্ব দ্রুততালয়ে পরিবর্তিত হচ্ছে। পুরনো ধ্যান-ধারণা ও বিশ্বাস ভেঙে পড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নততর হওয়ার কারণে জ্ঞান ও মেধার দ্রুত আদান-প্রদান ঘটছে। বিশ্বায়নের এই নতুন অধ্যায়ে গতানুগতিক রাজনীতিতেও পরিবর্তনের হাওয়া সূচিত হচ্ছে। সে কারণে মানুষ সেকেলে রাজনীতিতে সমর্থন জোগাতে চায় না। তীব্র প্রতিযোগিতামূলক সমাজ-ব্যবস্থায় স্লোগানসর্বস্ব রাজনীতি মানুষ মেনে নেবে না। দেশের উন্নয়নে কোন রাজনীতিক দলের কর্মসূচি বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক আজকের দিনে এটাই প্রাধান্য পাচ্ছে। মিটিং-মিছিলে লোক সমাগম করে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও দলের নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ধ্যান-ধারণা এখন অচল হয়ে গেছে। মানুষ স্ব-স্ব পেশায় নিয়োজিত থেকে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চায়। সে কারণে ভবিষ্যতে মিছিল-মিটিংয়ে সমবেত হওয়া, পিকেটিং বা ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কর্মী বা সদস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। কারণ ভবিষ্যতে মানুষ হয়ে পড়বে নির্বাচনমুখী। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মেনোফেস্টো ও তাদের আচার-আচরণই হবে সবচেয়ে মুখ্য বিষয়।
একুশ শতকের উপযোগী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন বা প্রত্যয় শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, একই প্রেক্ষিতে দলকে উদ্বুদ্ধ ও পুনর্গঠনের সম্যক প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। তাই আগামী শতকের উপযোগী করে আওয়ামী লীগকে গড়ে তোলা দরকার।”

আওয়ামী লীগের মূল্যায়ন করে তখন আমার মন্তব্য ছিল
“আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে নতুন দিনের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে। মুসলিম লীগ পাকিস্তান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও যুগোপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করতে না-পারায় দেশের রাজনীতিতে মুসলিম লীগের প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে। বামপন্থি দলগুলোতে মেধাবী লোকজনের সমাবেশ ঘটলেও জনমুখী কর্মসূচি প্রণয়নে ব্যর্থতার কারণে এরা আজ জনবিচ্ছিন্ন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সব সময় যুগোপযোগী কর্মসূচি নিয়ে গেছে। যখন স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজন তখন স্বায়ত্তশাসনের কথা বলেছে, আবার যখন স্বাধীনতার প্রয়োজন তখন বলেছে স্বাধীনতার কথা। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ তার নীতি ও রণকৌশল বারবার পরিবর্তন করেছে। বঙ্গবন্ধুর বাকশাল ও শেখ হাসিনার মুক্তবাজার অর্থনীতির মধ্যে বৈসাদৃশ্য থাকলেও সাদৃশ্য আছে এক জায়গায়, তা হচ্ছে দেশ ও জনগণের প্রয়োজনীয়তা। ১৯৭৫ সালের প্রেক্ষাপটে বাকশাল কর্মসূচি যেমন সঠিক ছিল, আজকের প্রয়োজনে মুক্তবাজার অর্থনীতিও সঠিক ধারণা। আগামীদিনের জন্য যে পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে তা গ্রহণ করার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের শিরা-উপশিরায় নতুন রক্তকণিকা জন্ম নেবে, রক্ত প্রবাহিত হবে।
৫০ বছরের পথপরিক্রমায় দেখা গেছে, যখনই আওয়ামী লীগ পুরনো ধ্যান-ধারণা আঁকড়ে ধরেছে তখনই আওয়ামী লীগের পশ্চাদমুখ হয়েছে। আবার কর্মসূচির পুনর্বিন্যাসে আওয়ামী গতিশীল হয়েছে এবং ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্র ও জনগণের নেতৃত্ব ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আওয়ামী লীগ বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সুবর্ণজয়ন্তীর পথ বেয়ে হীরকজয়ন্তীর আগামীদিনে আওয়ামী লীগ চিরযুবা হয়ে বেঁচে থাক দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজন এ প্রত্যাশা সারা দেশবাসীর ও দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের।”

ফের ছন্দপতন
আন্তর্জাতিক মোড়লদের ষড়যন্ত্র ও তাদের দেশীয় অনুগামীদের হীন প্রচেষ্টায় ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্থূল কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পরাজিত করে দেশে শাসনভার যুথবদ্ধভাবে দখল করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর প্রত্যক্ষ দোসর যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগের নব্যরূপ বিএনপি। ক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে প্রশাসনের নগ্ন ছত্রছায়ায় সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জান-মাল ও ইজ্জতের ওপর হামলে পড়ে জামায়াত-বিএনপি জোট দস্যুরা। দেশে সৃষ্টি করা হয় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। উগ্র সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির উন্মেষ ঘটে সরকারি নীল নকশায়। এদেশে যাতে আর কখনোই প্রগতিশীল শক্তি জেগে উঠতে না পারে সেজন্য ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করা হয়। সবশেষে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গণমানুষের নেতা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হত্যা করতে চালানো হয় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা।
আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২১ নেতাকর্মী এই বর্বরতায় শাহাদাৎবরণ করেন। গ্রেনেডের স্পিন্টারের ক্ষত নিয়ে আহত হয়ে বেছে যান আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী।
জাতির এই দুঃসময়ে ভয়কে জয় করে শেখ হাসিনা জনগণকে সংগঠিত করে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি-জামাত জোট দস্যুদের পতন ঘটে। ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় বিশাল জয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসে।

সোনার বাংলা বিনির্মাণ
আমার প্রবন্ধের ‘নতুন দিনের নেত্রী’, ‘একুশ শতকের স্বপ্ন’ ও ‘তখনকার মূল্যায়ন’ অধ্যায় আশ্চর্যভাবে মিলে যায় ২০০৮ সালে ঘোষিত শেখ হাসিনার দিনবদলের সনদে। এই সনদ এখন বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি। জনমানুষের নেতা শেখ হাসিনা বিগত আট বছর ধরে তার প্রজ্ঞাচিত নেতৃত্বে বাংলাদেশকে পরিণত করেছেন মধ্যম আয়ের দেশে। তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশএ কথাকে দেশবাসী এখন আর অলীক স্বপ্ন মনে করে না। ২০৪১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরিণত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সত্যিকারের সোনার বাংলায়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।” বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছি। আর শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব এবং পরিকল্পনা ও নীতি বাস্তবায়নে বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশ অর্জন করবে অর্থনৈতিক মুক্তি।
দেশ ও জাতির প্রয়োজনে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ও যুগ থেকে যুগান্তরে নেতৃত্ব দেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার মেধা, শ্রম ও প্রজ্ঞাচিত্ত নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

লেখক : গবেষক ও সাংবাদিক



পুরনো খবর