আওয়ামী লীগের জনসভায় মানুষের ঢল     জাতীয় ঐক্য শেষ পর্যন্ত টিকবে কিনা সন্দেহ আছে: সেতুমন্ত্রী     ৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ     আন্দোলনের মুরোদ নেই ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত : ওবায়দুল কাদের     সরকার উৎখাতে দুর্নীতিবাজরা জোট বেঁধেছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা     মিরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত     নিউ ইয়র্কে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী     আফগানদের হারিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ    

কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর কৌশল!

  জুলাই ১১, ২০১৮     ১০৩     ৬:০৬ অপরাহ্ণ     শিক্ষা
--

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্কঃ একটা সময় প্রকৃতির প্রত্যেকটা আচরণই মানুষকে মেনে নিতে হত। সকল ক্ষেত্রেই প্রকৃতি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতো। আস্তে আস্তে মানুষ প্রকৃতিকে বশে আনতে পেরেছে। তেমনি বৃষ্টিও এসে গেছে মানুষের হাতের নাগালে। চাইলেই এখন মানুষ বৃষ্টি তৈরি করতে পারে। বের্গেরসন-ফিনডাইসন প্রক্রিয়া থেকে দেখা যায়, ঘনীভূত মেঘের মধ্যে বরফকণা রেখে দিলে সেখানে বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে এমন দেখা যায় আকাশে অনেক অনেক মেঘ আছে কিন্তু দিনের পর দিন বৃষ্টি হবার নামে নাম নেই। এমনটা হবার কারণ ঐ প্রভাবক-রূপে যার দরকার সেই অতিশীতল বরফ কণার অনুপস্থিতি। এমন অবস্থায় যদি কৃত্রিম ভাবে সেখানে বরফকণা ছিটিয়ে দেয়া যায় তাহলে সেখানে বৃষ্টি নামানো সম্ভব। বরফ কণা তো আর এমন করে সরাসরি আসমানে ছুড়ে দেয়া যায়না। বরফ ছিটিয়ে দেয়া না গেলেও অন্য কোনো শীতল কণা ছিটিয়ে দিলেও কাজটা হয়ে যায়। তবে এখানে সামান্য একটু সমস্যা আছে। যেকোনো ধরণের পদার্থ দিলেই পানি এসে জমাট বাধবে না। যে সকল পদার্থ পানি-প্রেমী বা হাইগ্রোস্কোপিক (hygroscopic) তাদের গায়েই পানির কণা লেগে লেগে জমাট বাধে। এরকম পদার্থ আছে সিলভার আয়োডাইড, ড্রাই আইস, তরল প্রোপেন ইত্যাদি। এর মধ্যে ড্রাই আইস হচ্ছে কঠিনিত কার্বন ডাই-অক্সাইড। বরফের শুকনো অবস্থা বলে মনে করলে দারুণ ভুল হবে! কার্বন ডাই-অক্সাইড হচ্ছে গ্যাসীয় পদার্থ। একে প্রচণ্ড চাপে কঠিন অবস্থায় রূপান্তর করা যায়। ড্রাই আইসের তাপমাত্রা হয়ে থাকে হিমাংকের নিচে ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

ভূমি থেকে কামান দেগে কিংবা বিমানে করে উপরে মেঘের কাছে গিয়ে ড্রাই আইস বা অন্যান্য পানি প্রেমী অতিশীতল কণা ছিটিয়ে দিলে মেঘ জমাট বেধে বৃষ্টির সৃষ্টি করে। সে কী ঝমাঝম বৃষ্টি! এই প্রক্রিয়ায় সিলভার আয়োডাইডের ব্যবহার বেশি জনপ্রিয়।

১৯৪৬ সালে সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী ল্যাংমুর ও শেইফার কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টি তৈরি করতে সক্ষম হন। শেইফার বার্কশায়ার পাহারের উপর থেকে ড্রাই আইসের গুড়ো ছিটিয়ে দিয়ে প্রথম বৃষ্টি তৈরি করতে সক্ষম হন। সেজন্য তাকে কৃত্রিম বৃষ্টির জনক বলা হয়। এই প্রযুক্তির আধুনিক রূপের কথাও শুনা যায়। যেমন এখন চেষ্টা করা হচ্ছে লেজারের সাহায্যে কামান জাতীয় কোনো কিছু কিংবা বিমানের সাহায্য ছাড়াই ভূমিতে বসে বৃষ্টি নামানো। মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক অনেক খেলাই ভেস্তে যায় বৃষ্টির কারণে। কিন্তু এই কৃত্রিম বৃষ্টিপাত প্রয়োগ করে খেলার আগে ভাগেই বৃষ্টি নামিয়ে ফেলে মাঠকে বৃষ্টির আশংকামুক্ত করে ফেলা যায়। বর্তমান কালে FIFA, Olympic গেমস সহ অন্যান্য বড় বড় ইভেন্টে এটি প্রয়োগ করা হয়। ফলে খেলা চলারত অবস্থায় বৃষ্টি নামে না, মাঝপথে খেলা বন্ধ করে দিতে হয়না। তবে এই কৃত্রিম বৃষ্টি নামানো কতটা পরিবেশ বান্ধব কিংবা এই রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার কতটা স্বাস্থ্যকর সেই প্রশ্নও তোলা হয়। মানুষের চেষ্টায় প্রকৃতি থেকে বৃষ্টি নামিয়ে নিলে সেটা বাস্তুসংস্থানের জন্য কতটা আঘাতহানী সেটাও ভেবে দেখার অবকাশ থেকে যায়।
(উত্তরণ/আইস)



নতুন আর্জেন্টিনা পুরনো ব্রাজিল

  সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৮     ৭৮০৭

যমজ লাল্টু-পল্টুর দাম ২০ লাখ

  আগস্ট ১২, ২০১৮     ৪৫৪৩

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি

  জুন ০৬, ২০১৮     ৪২৩৩

পুরনো খবর