‘স্বপ্ন’ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে ৮,৯২৮ দরিদ্র নারী     প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা উপলক্ষে যান চলাচল ও পার্কিংয়ে ডিএমপি’র নির্দেশনা     প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা আগামীকাল     জনসমর্থনের ‘জোয়ার’ দেখছেন সেতুমন্ত্রী     জামালপুরে ট্রাক উল্টে নিহত ৩     লঘুচাপের ফলে বাড়ছে গরম, দু-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা     যুক্তরাজ্যে মেডিকেল চেকআপ শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি     তার মুখে দুর্নীতি নিয়ে কথা মানায় না : ওবায়দুল কাদের    

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, ছয় হটস্পটে ৩৩ চ্যালেঞ্জ

  জুলাই ১০, ২০১৮     ১১     ১:০৯ অপরাহ্ণ     জাতীয় সংবাদ
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় ৬টি হটস্পট (পানি ও জলবায়ু উদ্ভূত প্রায় অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চল) চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। আর এসব স্পটে রয়েছে ৩৩ ধরনের চ্যালেঞ্জ।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) থেকে তৈরি করা শত বছরের ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ এর চূড়ান্ত খসড়ায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি খসড়াটি উপস্থাপন করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে। তিনি এটিকে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। শিগগিরই পরিকল্পনাটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন তরা হতে পারে।

হটস্পটগুলো হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খড়াপ্রবণ অঞ্চল, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, নদী ও মোহনা অঞ্চল এবং নগরাঞ্চল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনাটি তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সে অঞ্চলের পানি বিজ্ঞান ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে দেশের আটটি হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মাত্রার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে একই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন জেলাগুলোকে একেকটি গ্রুপের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। যাকে হটস্পট (পানি ও জলবায়ু উদ্ভূত প্রায় অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চল) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা চিহ্নিতই নয়, পাশাপাশি সমস্যা মোকাবেলার উদ্যোগও রয়েছে পরিকল্পনায়।

সূত্র জানায়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনায়, হটস্পটভিত্তিক যে ৩৩টি চ্যালেঞ্জ এবং সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এর মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য চিহ্নিত ৮টি চ্যালেঞ্জ এবং সমস্যা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, নদী ও উপকূলীয় এলাকার ভাঙন, স্বাদু পানি প্রাপ্যতা, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং পরিবেশের অবনমন।

বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য চিহ্নিত ৫টি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- স্বাদু পানির প্রাপ্যতা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পরিবেশের অবনমন। হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য চিহ্নিত ৫টি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- স্বাদু পানির প্রাপ্যতা, আকস্মিক বা মৌসুমি বন্যা, জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন, অপর্যাপ্ত পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পরিবেশের অবনমন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য ৫টি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- স্বাদু পানির স্বল্পতা, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পরিবেশের অবনমন এবং ক্রমহ্রাসমান জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা। নদী এবং মোহনা অঞ্চলের ৫টি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- বন্যা, পানি দূষিত হওয়া, পরিবেশের অবনমন, পলি ব্যবস্থাপনা ও নৌ- পরিবহন এবং নদীগর্ভের পরিবর্তন-ভাঙন ও নতুন চর।

আর নগরাঞ্চলের জন্য ৫টি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ভূমি ক্ষয় ও বন্যা, স্বাদু পানির পর্যাপ্ততা, পরিবেশের অবনমন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

পরিকল্পনায় হটস্পটগুলোর এসব চালেঞ্জ ও সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বন্যার ঝুঁকি কমাতে নদী ও পানি প্রবাহের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা। পানি প্রবাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলোকে স্থিতিশীল রাখা।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ও মানসম্মত স্বাদু পানি সরবরাহ করা। নদীগুলোর পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা। নদীগুলোতে নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যথাযথ পলি ব্যবস্থাপনা করা। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য রক্ষা।

বন্যা ও জলাবদ্ধতাজনিত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস। পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিত করা। হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকায় জলের সঙ্গে মানিয়ে টেকসই জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করা। বন্যা থেকে কৃষি ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীসমূহকে রক্ষা। সুপেয় পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সঠিক নদী ব্যবস্থাপনা।

টেকসই হাওর প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা। সমন্বিত পানি ও ভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপনা। বন্যা ও ঝড়-বৃষ্টি থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শহর রক্ষা। সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।

টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বহুমুখী সম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির বিকাশ। নগর অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নগর এলাকায় বন্যার ঝুঁকি কমানো। পানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি। নগরে কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং সুশাসন গড়ে তোলা।

নতুনভাবে জেগে ওঠা চর এলাকায় নদী ও মোহনা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। জলাভূমি ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ, অক্ষুণ্ণ রাখা এবং তাদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিদ্যমান পোল্ডারের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঝড়বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততা অনুপ্রবেশ মোকাবেলা করা।

পানির জোগান ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে ওঠা নতুন জমি উদ্ধার এবং সুন্দরবন সংরক্ষণ করা।

অন্যদিকে ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় ২০১৭ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ২৩টি প্রকল্পের জন্য ৮৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা, বরেন্দ্র এবং খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৯টি প্রকল্পের আওতায় ১৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৬টি প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য ৮ প্রকল্পের অনুকূলে ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা, নদী এবং মোহনা অঞ্চলে ৭টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা এবং নগরাঞ্চলের জন্য ১২টি প্রকল্পের অনুকূলে ৬৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের পানি সম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার কাজ শুরু করে সরকার। বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ শীর্ষক এ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস।

পরিকল্পনা তৈরির জন্য ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে দেশটি। ২০১৪ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। চলতি বছর সমাপ্ত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ৮৮ কোটি টাকা। নেদারল্যান্ডসের বাইরে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হয়েছে।

উত্তরণবার্তা/এআর



ফের কমল স্বর্ণের দাম

  জুলাই ২০, ২০১৮

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি

  জুন ০৬, ২০১৮     ৩৯৭৬

আমের কেজি ৭ টাকা

  জুন ২৭, ২০১৮     ১৪৭৭

পুরনো খবর