যুক্তরাজ্যে মেডিকেল চেকআপ শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি     তার মুখে দুর্নীতি নিয়ে কথা মানায় না : ওবায়দুল কাদের     নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম : প্রধানমন্ত্রী     ফ্রান্সে আনন্দ-উৎসব চলছেই     উচ্চতর ডিগ্রির আসা জাগালো কারিগরির ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী     এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন যেভাবে     দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় মিষ্টি কুমড়া     বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও তার ব্যবহার    

ফাইনালের টিকিট ফ্রান্স না বেলজিয়ামের

  জুলাই ১০, ২০১৮     ২৪     ১১:০৩ পূর্বাহ্ন     রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
--

উত্তরণবার্তা ক্রীড়া ডেস্ক : স্মৃতিতে চিরকাল অমলিন থেকে যেতে পারে- ঠিক তেমন একটি ম্যাচ আজ মঙ্গলবার। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে একদিকে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের ফুটবলবাহিনী। প্রতিপক্ষ নবজাগরণের ফ্রান্স। এই ম্যাচ জয়ী দলে এবারের ট্রফির বাজি ধরেছেন অনেকেই। ফুটবলবোদ্ধা একবাক্যে বলে দিচ্ছিন সমানে-সমানে দু’দলের শক্তি। তবে মাঠের সেরা দলটাই জিতবে- এমনটা চোখকানা অন্ধও বলে দেবে। রাত ১২টা সেন্ট পিটার্সবার্গের সঙ্গে জেগে থাকবে ফুটবলপ্রেমীরা।

বেলজিয়াম এখন দুরন্ত ফর্মে আছে। পাশাপাশি ওদের সাপোর্ট স্টাফের তালিকায় রয়েছে ধুরন্ধর কোচ রবের্তো মার্তিনেস আর সহকারী কোচ থিয়েরি অঁরি। ভাগ্যটাও যে সঙ্গে আছে বেলজিয়ামের, সেটা তো কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচেই বোঝা গিয়েছে। অনেকেই মনে করেছিলেন- বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল খেলবে ব্রাজিলই। কিন্তু সেটা হয়নি। কী আর করা যাবে। জীবনটাই যে এমন। আপনাকে মেনে নিতেই হবে। তবে এটাও বলতে হবে, বেলজিয়ামকে সত্যিই অপ্রতিরোধ্য দেখিয়েছে এই বিশ্বকাপে। ফ্রান্সকেও তাই। দু’টো দলের মধ্যে পার্থক্যটা কিন্তু খুবই কম। দু’টো দলের তুলনা শুরু করছি ‘হট সিট’-এ বসে থাকা দু’দলের কোচ—রবার্তো মার্টিনেজ এবং দিদিয়ে দেশম।

নিজের ফুটবল জীবনে দেশম এক জন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ছিলেন। মার্সেই, জুভেন্তাস, চেলসি, ভ্যালেন্সিয়ার মতো ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোয় খেলেছেন। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে দক্ষ ছিলেন দেশঁ। খেলেছেন এরিক কঁতোনা, জিনেদিন জিদান এবং পরে অঁরির সঙ্গেও। তাই আমি নিশ্চিত, মার্তিনেস এবং অঁরির জন্য লুকোনো কিছু তাস এই ম্যাচে ঠিক বার করবেন দেশম।

পাঠকরা ভুলে যাবেন না, এই মানুষটার কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা আছে ফ্রান্সের হয়ে। দেশম নিশ্চয়ই চাইবেন, কোচ হিসেবেও বিশ্বকাপজয়ীদের তালিকায় নাম তুলতে। অধিনায়ক এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা আছে ব্রাজিলের মারিয়ো জাগালো এবং জার্মানির ফ্রান বেকেনবাউয়ারের। যাঁদের সঙ্গে একাসনে বসার এই সুযোগটা নিশ্চয়ই ছাড়তে চাইবেন না দেশম।

রবার্তো মার্টিনেজও ওঁর ফুটবল জীবনে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ছিলেন। কিন্তু এখানে অঁরিকে পাশে পেয়ে ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন না। এই বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ম্যাচের স্কোরগুলোর ওপর চোখ বোলালে সেটা বোঝা যাচ্ছে। ৫ ম্যাচে ১৪ গোল কিন্তু বেলজিয়াম আক্রমণের শক্তিটাই দেখিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু বেলজিয়ামের রক্ষণে একটু ফোঁকফোকর দেখা যাচ্ছে। আমি নিশ্চিত, দেশম এই দুর্বলতার ফায়দা তুলতে চাইবেন। রক্ষণে বেলজিয়াম তিন জনকে কাজে লাগাচ্ছে— ভার্তোমেন, কোম্পানি এবং আল্দারওয়েল্দ। কিন্তু গ্রিজ়ম্যান, দেম্বেলে এবং এমবাপেকে সামলানোর ক্ষমতা বেলজিয়াম ত্রয়ীর আছে কি না, সেটাই দেখার।

ফরাসিরা ৪-১-২-১-২ ছকে খেলবে যেখানে উমতিতি এবং ভারান সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের ভূমিকায় নামবে। মানে বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের অভাবনীয় জুটি। এদের সঙ্গে সামনে থেকে কঁতে। অ্যাজারের গতি সামলানোর জন্য কঁতে হয়তো একটু ডান দিকে চেপে খেলবে। মাঝখানে পগবার সঙ্গে থাকবে মাতুইদি। মাঝমাঠ এবং স্ট্রাইকারের মধ্যে যোগসূত্র হবে গ্রিজ়ম্যান। ওর কাজ হবে আক্রমণে বল জোগানো। উপরে এমবাপে এবং দেম্বেলে ডান দিক-বাঁ দিক করে খেলবে।

বেলজিয়ামের ছক সম্ভবত হবে ৩-২-২-৩। প্রতি-আক্রমণে ফরাসি দুর্গে হানা দেওয়ার চেষ্টা করবে ওরা। যে প্রতি-আক্রমণে গতিই হবে বেলজিয়ামের বড় অস্ত্র। আরও একবার দে ব্রুইনকে দেখা যাবে লুকাকু এবং অ্যাজারকে বল বাড়াতে। একটু পিছনে থাকবে ফেলাইনি এবং উইতসেল। মাঝমাঠের একটা লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছি। পগবা, মাতুইদি, গ্রিজম্যান, কঁতে বনাম ফেলাইনি, উইতসেল, দে ব্রুইন, অ্যাজারের লড়াই। অ্যাজারকে মাঝে মাঝে নেমে আসতে হবে। না হলে বেলজিয়ানরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে ওপরে একা হয়ে পড়বে লুকাকু। মনে হচ্ছে ওরা মাঝমাঠে সংখ্যার লড়াইয়ে তিন-পাঁচ পিছিয়ে পড়বে। বেলজিয়ামের ৩ ফুটবলারের মোকাবিলায় ফ্রান্সের ৫ জন থাকবে। তাই মনে হয়, বেলজিয়াম দুই প্রান্তে খেলাটা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। যেটা আটকাতে কঁতের ভূমিকাটা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অবাক হবেন না, যদি দেখেন দে ব্রুইন এবং কোম্পানি বাঁ দিক থেকে শুরু করছে। শাদলির কাজটা হবে দে ব্রুইনকে বাঁ দিক থেকে আক্রমণে উঠতে সাহায্য করা। রবার্তো মার্টিনেজ কী রণনীতি নেন, সেটা দেখার জন্য অনেকেই মুখিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে- দু’প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করে বেলজিয়াম চাইবে ফ্রান্সের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডকে চাপে ফেলতে। ফরাসি গোলকিপার হুগো লরিসকে তৈরি থাকতে হবে বিষাক্ত সব ক্রস সামলানোর জন্য। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার ফুটবলের একটা চরম দ্বৈরথ দেখবে ফুটবলবিশ্ব। দেখা যাক, কে কার ওপর শাসন চালায় মাঠে।
উত্তরণবার্তা/আসো



রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি

  জুন ০৬, ২০১৮     ৩৯৭১

আমের কেজি ৭ টাকা

  জুন ২৭, ২০১৮     ১৪৭৬

পুরনো খবর