প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে বাংলাদেশ ততদিন নিরাপদ থাকবে : পানিসম্পদ উপমন্ত্রী     এবার লাদাখে দল বেঁধে উড়ল যুদ্ধবিমান, মিলিটারি হেলিকপ্টার     হাতিয়ায় পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে থৈ থৈ     তদবির নয়, বদলি হবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে : আইজিপি     যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা বার্ষিকীতে ট্রাম্পকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা     করোনায় সারাদেশে এক কোটি ৬৮ লাখ পরিবার পেয়েছে সরকারি ত্রাণ     করোনায় মৃত্যু ২ হাজার ছুঁই ছুঁই, আক্রান্ত ৩২৮৮     কমেছে যমুনা-বাঙ্গালী নদীর পানি    

কেন দুই বছরে দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ?

  মে ২৮, ২০২০     ২১৬     ২৩:০২     ক্রীড়া
--

উত্তরণবার্তা ক্রীড়া ডেস্ক : আধুনিক ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সবচেয়ে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট। বিশেষ করে বাণিজ্যিকভাবে এ ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে শুরু করে আয়োজকরা।

২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের এই ফরম্যাটের সাথে পরিচিত হয় ক্রীড়ানুরাগীরা। পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে আয়োজিত হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর। পরের তিন বছরের মধ্যে দর্শকদের আরও দুইটি (২০০৯ এ ইংল্যান্ডে ও ২০১০ এ ওয়েস্ট ইন্ডিজে) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপহার দেয় আইসিসি। এরপর থেকে নিয়মিত দুই বছর পর পর আয়োজিত হতে থাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ।

কিন্তু দৃশ্যপট বদলে যায় ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর। আইসিসি পরিকল্পনা করে চার বছর পর পর আয়োজন করবে এই প্রতিযোগিতাটি। সেই পরিকল্পনায় ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে ২০১৯-২০২৩ ক্রিকেটের ভবিষ্যত সূচি আয়োজন করতে গিয়ে সে সিদ্ধান্ত থেকে আবার সরে আসে আইসিসি। তারা পরিকল্পনা করে দুই বছর পর পরই আয়োজন করবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আর ক্রিকেট থেকে বাদ দিয়ে দিবে আট দলের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। কিন্তু ততদিনে ২০২১ এ ভারতে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।

ঠিক ওই মুহূর্তে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বাতিল করা মানে ভারতের বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় থেকে বঞ্চিত হওয়া। পরবর্তীতে ২০১৭ এর অক্টোবরে এই টুর্নামেন্টের পরিবর্তে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দেয় আইসিসি। আইসিসির এমন প্রস্তাবে শুরুতে ভারত ছাড়া বাকী সকল সদস্য ক্রিকেট বোর্ড একমত পোষণ করে। ভারতীয় বোর্ড থেকে বলা হয় তারা আগে আর্থিক লাভের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

পরবর্তীতে ১৬ দলের ৪৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পক্ষে ২০১৮ সালের শুরুতে বোর্ড সভায় সম্মতি দেয় ভারতও। এরপর ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল আইসিসির তখনকার প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ভারতে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বদলে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাঁর ভাষ্যে, ‘২০২১ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে। আর এক্ষেত্রে ভেন্যু পরবির্তন হবে না।’ ফলে ২০২০ এবং ২০২১ সালে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখতে পাবে ক্রিকেটপ্রেমিরা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বাতিল করার কারণ হিসেবে ডেভ রিচার্ডসন বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আসলে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতোই হয়ে যায়। এই দুটোর মাঝে পার্থক্য করা কঠিন। তাহলে আমরা কেন দুটোকে রাখবো? আর ভুলে গেলে চলবে না আমরা ওয়ানডে লিগ চালু করছি। যা ৫০ ওভারের এই ফরম্যাটকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।’

ওয়ানডে লিগ হচ্ছে ১৩ দলের একটি টুর্নামেন্ট। যেখানে মোকাবিলা করবে আইসিসির পূর্ণ সদস্যের ১২টি ওয়ানডে দল ও নেদারল্যান্ডস। যা চলতি বছরের মে থেকে শুরু হয়ে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত হওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি দল যে কোন আট দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। যার চারটি হবে হোমে, চারটি অ্যাওয়ে।

এখান থেকে মোট শীর্ষ আট দল সরাসরি খেলবে ২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। বাকী দলগুলো আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর সাথে বাছাইপর্ব খেলতে হবে। এদিকে ২০২০ সালে পরবর্তী আসরের আয়োজক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া আগেই নির্বাচিত ছিল; এরপরে কেন এক বছরের মধ্যে ভারতে আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন? কেন দ্বিতীয়বারের মতো টানা দুই বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক এই প্রধান নির্বাহী বলেছিলেন, ‘আসলে এক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার ছিল না। আমরা ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে ভেবেছি। কিন্তু ২০২৩ সালে আবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলে আসে। তাই ২০২১ এ এটা আয়োজন করা ছাড়া উপায় নেই।’

ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ক্রিকেট আসর আয়োজনের পরিকল্পনা হিসেবে রিচার্ডসন আরও যোগ করেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা প্রতি দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও চার বছর পর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলবো। এর পাশাপাশি ভুলে গেলে চলবে না প্রতি বিশ্বকাপে খেলার আগে ওয়ানডে লিগ হবে।

উত্তরণবার্তা/এআর



পুরনো খবর