রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর     জাপানে মার্কিন নৌঘাঁটি লকডাউন     স্থানীয় সরকারকে ঢেলে সাজানোর চিন্তা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী     একনেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন     অধিদপ্তরের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো সমস্যা নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী     সুফিয়া হায়দার চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক     পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঢাকায় আনা হয়েছে     ভার্চুয়ালি আপিল বিভাগে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম চলবে ১৯ জুলাই থেকে    

চীনের পার্লামেন্টে অনুমোদন পেল বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা বিল

  মে ২৮, ২০২০     ৫৪     ১৬:২৪     বিদেশ
--

উত্তরণবার্তা আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হংকংয়ের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা বিলটি অনুমোদন করেছে চীনের পার্লামেন্ট। অর্থাৎ এই বিলটিকে এখন আইনে পরিণত করতে যাবতীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করবে চীন। হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি ও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার চীনের পার্লামেন্ট বিলটিতে অনুমোদন দেয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীন বলেছে, হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দেশদ্রোহীতা ও বিদেশি হস্তক্ষেপ রোধ করাই হবে আইনটির মূল লক্ষ্য।

তবে বিতর্কিত এই নিরাপত্তা বিলের বিরুদ্ধে হংকংয়ে কয়েক মাসের মধ্যে গত রোববার প্রথম বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। বুধবার ফের বিক্ষোভে ফেটে পড়ে হংকংবাসী। প্রস্তাবিত নিরাপত্তা বিল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এদিন যোগ হয় চীনের জাতীয় সঙ্গীত অবমাননাবিরোধী আরেকটি বিল। এতে বলা হয়েছে, চীনের জাতীয় সঙ্গীতকে কেউ অবমাননা করলে তকে তিন বছরের জেল এবং ৯ হাজার ৭০০ ডলার জরিমানা গুনতে হবে।

বিরোধীরা মনে করেন, দু’টি বিল আইনে পরিণত হলে হংকংয়ের স্বায়ত্ত্বশাসন ক্ষুণ্ণ হবে। এ নিয়ে বুধবার হংকংয়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

গতকাল এ দু’টি বিলের বিরোধীরা বিক্ষোভ শুরু করলে তাতে বাধা দেয় হংকং পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশ ও গণতন্ত্রপন্থিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিনশ’র বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।

তবে হংকংয়ের স্বায়ত্ত্বশাসন টিকিয়ে রাখতে চীনের ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবারও হংকংয়ে শত শত বিক্ষোভকারী বিল দু’টির বিরুদ্ধে সড়কে অবস্থান নেন। তবে এখন পর্যন্ত বুধবারের মতো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

গত বছর চীনের কাছে বন্দি প্রত্যর্পণের বিষয়ে প্রস্তাবিত একটি বিলকে কেন্দ্র করে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয় হংকংয়ে। জুন মাস থেকে শুরু হওয়া সে বিক্ষোভ এক পর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।

নতুন করে চীন সরকারের বিতর্কিত নিরাপত্তা বিলকে কেন্দ্র ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে হংকং। সমালোচকরা মনে করেন, এই বিলটি আইনে পরিণত করার মাধ্যমে বেইজিং আদতে হংকংয়ের ওপর কর্তৃত্ব বাড়াবে। এতে হংকংয়ের সংক্ষিপ্ত সংবিধানে ভূখণ্ডটির যে স্বায়ত্ত্বশাসন দেওয়া হয়েছে তার খর্ব হবে। ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে বেরিয়ে চীনের সঙ্গে যোগ দেয় হংকং। তখন থেকে হংকং ‘এক দেশ, দুই নীতি’ ফর্মুলায় চীনের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বেশি মাত্রায় স্বায়ত্ত্বশাসন পেয়ে আসছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দুই মাস পিছিয়ে চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে শুরু হয় চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বৈঠক। বৃহস্পতিবার হংকং নিরাপত্তা বিলে সমর্থন দেন পার্লামেন্টের দুই হাজার ৮৭৮ জন সদস্য। অনুপস্থিত ছিলেন ছয় জন।

বিলটি আইনে পরিণত হলে এ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। তবে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে হংকংয়ে আইনটির প্রয়োগ শুরু হতে পারে। হংকংয়ের চীনপন্থি প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম বলেছেন, এ আইন হংকংয়ের নাগরিকদের স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে না।

বিশ্বের প্রায় ২০০ শীর্ষ রাজনীতিক এই বিলটির সমালোচনা করেছেন। বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হংকংয়ে এ ধরনের আইনের সম্ভাব্য প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

স্থানীয় সময় বুধবার কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, হংকং আর কোনোভাবেই চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত ভূখণ্ড নয়। সর্বশেষ নিরাপত্তা বিলের মাধ্যমে হংকংয়ের স্বায়ত্ত্বশাসনের কফিনে আরেকটি পেরেক ঠুকে দিয়েছে চীন।

বাণিজ্য যুদ্ধ ও দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে তুমুল দ্বন্দ্ব চলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থান। আর সর্বশেষ হংকংয়ের পরিস্থিতি দুই দেশকে ফের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হংকংয়ের নাগরিকদের ‘অধিকার ক্ষুণ্ণ’ হলে চীনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন। চীন বলেছে, অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে।

উত্তরণবার্তা/সাব্বির



পুরনো খবর