আরো ৭ দেশের সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল শুরু করছে চীন     ব্রাজিলে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়ালো     জুন থেকে কলম্বিয়ায় করোনার বিধিনিষেধ শিথিল     দেশে করোনা চিকিৎসায় প্রয়োগ হচ্ছে রেমডেসিভির     করোনা চিকিৎসায় এবার গাউচার রোগের ওষুধ     লকডাউন শিথিল করা মানে এই নয়, অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করবো : তথ্যমন্ত্রী     দুর্যোগে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থানই বিএনপির রাজনীতি: ওবায়দুল কাদের     বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ৫৩ হাজার    

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ

  মার্চ ০৯, ২০২০     ১৮৩     ০৯:৫২     প্রবন্ধ
--

নূহ-উল-আলম লেনিন : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কি অনিবার্য ছিল? শেখ মুজিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে কি মুক্তিযুদ্ধ বা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্ভব ছিল না? মনে হতে পারে প্রশ্নটি আমি আকস্মিকভাবে উত্থাপন করেছি। কিন্তু যাদের স্মৃতি জাগরূক আছে, তারা জানেন, স্বাধীনতার পর এবং জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনামলে বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকৃতি জানানোর লক্ষ্যে নানা উছিলায়, নানা কায়দায় একদল রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছেন। কেউ বলেছেন, শেখ মুজিব ৬-দফার প্রশ্নে অতটা অনমনীয় না হলে এমন রক্তাক্ত যুদ্ধ হতো না। আবার কোনো কোনো ‘বুজুর্গ’ রাজনীতিবিদ তো বলেই ফেলেছেন শেখ মুজিব নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। জিয়ার পুত্র কুখ্যাত তারেক রহমান তো এই গত বছরও লন্ডন থেকে ফতোয়া দিয়েছেন জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। একজন প্রয়াত জেনারেল শওকত আলী তো তার বিখ্যাত ‘ড্রামতত্ত্ব’ প্রচার করে বলেই ফেলেছিলেন চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে বিদ্রোহ ঘোষণা করে একটি ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। কালুরঘাটের বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেওয়ার আগেই জিয়া ক্যান্টনমেন্টে ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যেহেতু জিয়ার ডাকেই স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সে-কারণে তিনিই হচ্ছেন প্রকৃত ‘জাতির পিতা’।
কেবল প্রচারণায়ই এ-কথা সীমাবদ্ধ ছিল না। বিএনপি-জামাত গোষ্ঠীর ক্ষমতায় থাকাকালে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’র দ্বিতীয় খন্ডের একটি অনুচ্ছেদ, যেখানে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন বলে উল্লেখ ছিল, সেই অনুচ্ছেদটি বাদ দিয়ে জিয়ার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার কথিত উপাখ্যান প্রতিস্ছাপিত করা হয়েছিল। কার্যত এ চক্রটি কেবল বঙ্গবন্ধুকেই নয়, আমাদের গোটা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
আরেকজন প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদ, যিনি দাবি করেন তিনি ৬-দফা প্রণয়নের সাথে, বিশেষত ইংরেজিতে অনুবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই আবুল মনসুর আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র সেকুলার জাতিরাষ্ট্র হয়নি। বরং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ভেতর দিয়ে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের বাস্তবায়ন হয়েছে। তার এই বক্তব্যের দৃঢ় সমর্থক ছিলেন ইত্তেফাকের কলামিস্ট খন্দকার আবদুল হামিদÑ যিনি জিয়ার উপদেষ্টা হয়েছিলেন। এই মন্তব্যের নির্গলিতার্থ কী? যদি বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের ভেতর দিয়ে ‘লাহোর প্রস্তাব’ বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তাহলে শেখ মুজিব কেন জাতির পিতা হবেন? যে ব্যক্তি দ্বিজাতিতত্ত্ব সংবলিত লাহোর প্রস্তাবের প্রকৃত উদ্যোক্তা, সেই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহই তো হতে পারেন বাংলাদেশেরও জাতির পিতা। কারণ বাংলাদেশ তো বেনামে পাকিস্তানই- মুসলিম বাংলা। স্বাধীনতার পর দেশের নামে মুসলিম বাংলা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং জিন্দাবাদ ধ্বনি যারা প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন, যারা সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ ও ১১ অনুচ্ছেদ বাতিল করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল করাকে বৈধ করেছিলেন, যারা সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন, ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল এবং ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলেন, তারা তো দ্বিজাতিতত্ত্ব তথা লাহোর প্রস্তাবই বাস্তবায়ন করেছেন। আর এই সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা তো বলতে পারি-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সমগ্র জীবন দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্য- বাঙলির জাতি-রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন অথবা ধর্মের ভিত্তিতে কোনো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হতে পারেন না।
স্বাধীনতার পর কেবল দক্ষিণপন্থি’ প্রতিক্রিয়াশীলরাই নয়, এমনকি মওলানা ভাসানীও প্রকারান্তরে তার ‘হক কথা’ পত্রিকায় মুসলিম বাংলার ধ্বনি ও তীব্র ভারত বিরোধিতাকেই সামনে এনেছিলেন। অলি আহাদ তো প্রকাশ্যেই মুসলিম বাংলার কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর মওলানা ভাসানী কেবল খুনি মোস্তাককে টেলিগ্রাম করেই স্বাগত জানান নি, পরে ঢাকা পিজি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নতুন সরকারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। ‘জাতির পিতা’ বিতর্কে এক সময় বর্তমানে ১৪-দলের শরিক ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন পর্যন্ত মওলানা ভাসানীকে জাতির পিতার আসনে বসাতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি।
কিন্তু‘ ইতিহাস বড় নির্মম। সে কারও মুখের দিকে তাকিয়ে নয়, কারও ফতোয়া বা তত্ত্ব শুনে নিজেকে অর্থাৎ ইতিহাসকে নির্মাণ করে না। ইতিহাস হচ্ছে সূর্যের মতো। সে কারও আলোর ধার করে না। কারও ইচ্ছেয় উদয় বা অস্ত যায় না, দিক পরিবর্তন করে না। সূর্য চলে নিজস্ব নিয়মে। তেমনি মানব ইতিহাস।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের এবং তার ইতিহাসের প্রকৃত নির্মাতা হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুরের ৬-দফার চেয়েও দৃশ্যত কড়া দাবি জানিয়েছিলেন ১৯৬৭ সালে মওলানা ভাসানী। কাগমারী সম্মেলনে মওলানা পশ্চিম পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানিয়ে বাংলাদেশের স্বাতন্ত্র্যের, পূর্ণ স্বশাসনের কথা বলেছিলেন। এ প্রশ্নে মওলানা আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিও করেছিলেন। মওলানা তখন পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের চ্যাম্পিয়ন। শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বরং ৯৮ শতাংশ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়ে গেছে বলে বাংলাদেশের মানুষের সাথে রসিকতা করেছিলেন। অথচ সেই মওলানা ভাসানীই ১৯৬২ সাল থেকে আইউব খাঁ’র সাথে সমঝোতা করে স্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে কেবল সরেই আসেন নি, তিনি তার পিকিং সফরের পর নতুন তত্ত¡ দিলেন, আইউব খাঁ সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ-বিরোধী হয়ে গেছে। মওলানা এবং তার সহযোগীরা তত্ত্ব দেয়- Don’t desturb Auyb seriously. তারপরের ইতিহাস তো সকলের জানা। মোহগ্রস্ত বামপন্থি’ বুদ্ধিজীবীদের একাংশ এখনও মওলানা ভাসানীকে ‘আইডল’ করার হাস্যকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মজার বিষয়, এহেন মওলানাকে বিএনপি তাদের আইডল ভেবে তার জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে উচ্ছাস প্রকাশ করে থাকে।
মওলানা যদি কাগমারী সম্মেলনের অবস্থানে ঠিক থাকতেন এবং সাহস করে স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মুখোমুখি দাঁড়াতেন, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাসে তার অবস্থান অন্যরকম হতো।
সিরাজ শিকদার নামে এক মাওবাদী-নকশালপন্থি’ তরুণ স্বাধীনতার আগেই ‘সর্বহারা পার্টি’ করেছিলেন। ১৯৭০ সালেই সিরাজ শিকদার ‘পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার’ স্লোগান তুলেছিলেন। তিনি স্বাধীনতার জন্য গোপন সামরিক তৎপরতাও সংগঠিত করেছেন।
সিরাজ শিকদার স্বাধীনতার কথা বললেও মানুষ তার ডাকে সাড়া দেয়নি। তাকে বিশ্বাস করেনি। জনসম্পৃক্তহীন সন্ত্রাসবাদী কায়দায়, হানাদার বাহিনীর কাউকে নয়, সিরাজ শিকদারের টার্গেট ছিল তথাকথিত বাঙালি জোতদার, বুর্জোয়া, পেটি বুর্জোয়া। জাতির প্রধান শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই না করে এই নকশালবাদী তরুণ নিজ স্বদেশবাসীকে টার্গেট করে গোপন হত্যা, ষড়যন্ত্র ও লুটপাটের নীতি-কৌশল গ্রহণ করায় ‘গণশত্রুতে পরিণত হয়। এমনকি স্বাধীনতার পরও সে তার এই তৎপরতা তীব্র করে তোলে, অব্যাহত রাখে।
আবদুল হক, তোয়াহা, মতিন, টিপু বিশ্বাস, নগেন সরকার প্রমুখ মাওবাদী বিপথগামীরা সন্ত্রাসের পথ গ্রহণ করায়, জনগণের চোখে ‘গণশত্রু- সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়।
পক্ষান্তরে শেখ মুজিব যখন ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন, তখন তা সমগ্র বাঙালি জাতির প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়। ৬-দফা যে পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়িত সম্ভব নয়, বাঙালিদের বুঝতে একটু সময় লাগলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সাথে সাথেই বুঝতে পারে। ৬-দফা মেনে নেওয়ার অর্থ পাকিস্তানের সমাধি। ৬-দফায় ছিল এক দেশÑ দুই অর্থনীতি, দুই মুদ্রা, দুই সেনাবাহিনী, যার যার বৈদেশিক বাণিজ্য তার তার, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পুঁজি পাচার বন্ধ। কেন্দ্রের হাতে থাকবে কেবল পররাষ্ট্রনীতি। এতে কি আসে-যায়। এসব দাবি মানলে তো ব¯‘ত আর এক দেশ থাকে না। তবুও এসব বুঝেও শেখ মুজিবই ৬-দফায় কৌশলগত কারণে লিখে দিলেন ‘লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে’... ইত্যাদি। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের প্রকৃত অর্থ ছিল তো উপমহাদেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র। তার মানে কী? মানে হচ্ছে ৬-দফা মেনে নাও, বাংলাদেশকে আলাদা রাষ্ট্র হতে দাও। তারপরও শেখ মুজিব তার স্বাধিকার আন্দোলনের স্লোগান তুললেন- ‘জয় বাংলা’, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’। পাক সার জমিনের জায়গায় জাতীয় সংগীত করলেন রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার বাংলা’। পরিষ্কার হয়ে গেল, লাহোর প্রস্তাবের কথা বললেও শেখ মুজিব চাইছেন ভাষাভিত্তিক বাঙালি অসাম্প্রদায়িক জাতি-রাষ্ট্র। দ্বিজাতিতত্ত্ব তিনি নাকচ করে ধ্বনি তুললেন- ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’। কারও বুঝতে বাকি রইল না, এটা আরেকটা পাকিস্তান না, এটা হতে যাচ্ছে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মিলিত রক্তে বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের প্রথম জাতি-রাষ্ট্র।
সত্যি সত্যি ৬-দফার প্রশ্নে, বাঙালির জাতি-রাষ্ট্রের প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করলে- ’৭১-এর যুদ্ধটা হয়তো এড়ানো যেত। আর তা যদি হতো তাহলে বঙ্গবন্ধুও ৭ মার্চ স্বাধীনতার ডাক দিতেন না, জাতিকে আসন্ন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতেন না। বলতেন না ‘তোমাদের যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু ৬-দফা দিয়ে জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিলেন। আগরতলা মামলার ফাঁসির রজ্জু ছিল তার গলায়। কোনো আপস করেন নি। ভীত হননি। মানুষ তো বীরের পূজারি। বাংলার ইতিহাসে শেখ মুজিবের মতো জনসমর্থনপুষ্ট এত বড় বীর আর কেউ ছিল না।
তার আন্দোলনকে যাতে বহির্বিশ্বের মানুষ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মনে না করে সে-জন্য তিনি ১৯৭০-এর নির্বাচনে ৬-দফার পক্ষে গণভোট চেয়েছেন। নির্বাচনে সারা পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসন ও ভোট পেয়ে তিনি বাঙালির একমাত্র অবিসংবাদিত নেতার আসনে বরিত হয়েছেন। অসহযোগ আন্দোলন করেছেন। সংলাপ করেছেন। আবার জনগণকে যুদ্ধের জন্য প্র¯‘তও করেছেন। অবশেষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের মুখে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরের ইতিহাস সবার জানা।
যে প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেছিলাম, এতক্ষণের আলোচনায় তা আশা করি স্পষ্ট হয়েছে। ৬-দফা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে যেহেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনড় এবং আপসহীন ছিলেন, সে-কারণে মুক্তিযুদ্ধটা অপরিহার্য ছিল। দ্বিতীয়ত, ভাষা সংগ্রাম থেকে স্বাধিকার, ৬-দফা, ’৭০-এর নির্বাচন প্রভৃতির ভেতর দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসম সাহসী ভ‚মিকা, বাংলাদেশের জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থন এবং জীবনবাজি রেখে আন্দোলনে নেতৃত্বদানের ভেতর দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের একক নেতৃত্বের অধিকারী হয়েছিলেন। তার প্রতি জনগণের আবস্থা, ভালোবাসা এবং তার অবিচল গণসমর্থনের কারণে স্বাভাবিকভাবে তিনিই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। তার আহবানে, তার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলে তিনিই বাংলাদেশের প্রশ্নাতীত স্থপতি, বাঙালির ইতিহাসের মহানায়ক এবং জাতির পিতা।


 



‘বেঁচে আছি- এটাই বড় ঈদ’

  মে ২৮, ২০২০     ১২

পুরনো খবর