সংসদে বঙ্গবন্ধুর মুখে কবিতার লাইন     রেলপথে ট্রানজিট পাচ্ছে নেপাল     শান্তির পথে আফগানিস্তান, ৪০০ তালেবানকে মুক্তির সিদ্ধান্ত     শিশুদের আত্মপ্রত্যয়ী ও মননশীল করে গড়ে তুলতে হবে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী     ভাদ্র মাসের বন্যা নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী     ১০ লাখ গাছের চারা রোপন করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়     ডিসেম্বরের মধ্যে তারের জঞ্জাল থেকে মুক্ত হবে ডিএসসিসি     করোনায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯০৭    

বসন্ত বাতাসে, ভালোবাসার ফাল্গুনে

  ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০     ৮২     ১২:৫১     আরও
--

উত্তরণবার্তা ডেস্ক : এবারে একই দিনে বসন্তের সূচনা আর ভালোবাসা দিবস। তাও আবার তা পড়েছে ছুটির দিন শুক্রবারে। বসন্ত আর ভালোবাসার এই সহযাত্রায় শিমুল আর রক্তপলাশ ফুটেছে প্রেম হয়ে। শহরে মেতে উঠেছে আনন্দে। দিকে দিকে চলছে বসন্ত বরণ।  

কুয়াশার আঁচল সরিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম সূর্য ভরিয়ে দিয়েছে আকাশ। নবীন প্রাণের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে শীতের নিচে চাপা পড়া প্রকৃতিতে। উত্তরের হিমেল হাওয়া থামিয়ে দিয়ে বইছে দখিনা বাতাস। শহরে এসেছে তুমুল বসন্ত।

আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীজুড়ে বসন্ত বরণের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সকাল থেকেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। বকুলতলা সেজেছে বাসন্তী রঙ আর ভালোবাসার সাজে।

সকাল ৭টায় সুস্মিতা দেবনাথ ও তার দলের কণ্ঠে ধ্রুপদী সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সুস্মিতা দেবনাথের পর সম্মিলিত নৃত্য পরিবেশন করেন পূজা সেনগুপ্তা ও তার দল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বকুলতলায় বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। গান, কবিতা আর সম্মিলিত নৃত্যে চলতে থাকে বসন্ত উদযাপন।

উৎসব প্রাঙ্গনে কথা হয় উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইটের সঙ্গে। তিনি বলেন, বসন্ত উৎসব উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য হলো নগরবাসীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন যেন আরও দৃঢ় হয়। সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি আমরা বাঙালি সংস্কৃতির ব্যাপারে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে চাই। তারা যেন শেকড়সন্ধানী হয়ে ওঠে। বসন্ত উদযাপন তো আমাদের অনন্য ঐতিহ্য।

আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দোপাধ্যায় বলেন, ঋতু উৎসবের মধ্যে বসন্ত উৎসবের মর্ম একেবারেই আলাদা। বছরের শেষ ভাগের এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলা বর্ষ উদযাপনের অপেক্ষায় থাকি। নগরে বসন্ত উদযাপন প্রতি বছর নতুন মাত্রা পায় তরুণ-যুবাদের কোলাহলে। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়, বরং একইসাথে ভালোবাসার উৎসব আরও বেশি রঙ ছড়িয়েছে। তবে এই উৎসবে যখন মাটির কাছে ফেরার গান শুনি, তখন ভালো লাগে।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, বসন্ত উৎসব হয়ত অন্য অনেক দেশেই উদযাপিত হবে। কিন্তু ষড়ঋতু সবখানে এতো স্পষ্ট নয়। ঋতু বৈচিত্র্যের দেশে ভালোবাসা আর ঋতু উৎসবে এসে আমরা শপথ নিই, যেন ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এই প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করে আমরা তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারি। সম্প্রীতির বন্ধনে একে অপরকে বেঁধে রাখতে পারি।

নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্তা বলেন, আজ একই সঙ্গে দুটো দিবস। তার সাথে আবার ছুটির দিন শুক্রবার। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে সাক্ষাৎ বসন্ত যেন এই শহরের বুকে নেমে এসেছ। আর বসন্তের সাথে তো আমাদের খুব নিবিড় একটা সংযোগ আছেই। আমাদের ভাষা আন্দোলন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ দুটোই এই বসন্ত ঋতুতে।

বসন্ত মানেই তো রঙ, রঙের খেলা। নিজেদের রঙিন করে উৎসবে যোগ দিয়েছেন সব বয়সের মানুষ। মেয়েরা সেজেছে বাসন্তী শাড়ির সঙ্গে হলুদ গাঁদার ফুলে, আর ছেলেরা সেজেছে আবির রঙের পোশাকে।

রং-রসে ভরা এ বসন্তের প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক ও গৌড়ীয় নৃত্য শিল্পী র্যাচেল প্রিয়াংকা প্যারিস বলেন, বসন্ত মানেই তো রঙ। এই সময়ে হোলি হয়, দোল হয়, বিভিন্ন পূর্ণিমা হয়, তাদের কতো রঙ! এই যে আবিরের ছড়াছড়ি, এটাই তো বসন্ত। এই সময়টা আমাদের সবসময় রঙের মধ্যে রাখে। গাছে রঙ, মনে রঙ, সব জায়গাতে রঙ। আর এটাই তো বসন্তের স্বার্থকতা। এই রঙেই তো আমাদের প্রাণ নেচে ওঠে নতুন সুরে, নতুন ভালোবাসায়। গুঞ্জরিত হয় প্রকৃতির সাথে সাথে।

বসন্ত উদযাপন পরিষদের বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের সকালের পর্বের পর বিকেলেও রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হবে সে পর্ব।

চারুকলা ছাড়াও ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর, উত্তরার রবীন্দ্র সরণি ও বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) মঞ্চে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে বসন্ত বরণ উৎসব।

উত্তরণবার্তা/এআর



পুরনো খবর