জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট গাবতলি     এবার গার্মেন্টস খাত অস্থিতিশীল করার খেলায় মেতেছে অশুভ চক্র : সেতুমন্ত্রী     আজ পবিত্র হজ     ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে ৪০৯টি ঈদ জামাত হবে     ঈদে বাড়ি ফিরতে ট্রেনেই আস্থা     সদরঘাটে জনতার ঢল     প্রদর্শনী ম্যাচে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা     ১০ বছর নিষিদ্ধ নাসির জামসেদ    

উদ্বোধনী মাঠেই নিহত হয় ৬৬ জন ফুটবল দর্শক

  জুন ১৪, ২০১৮     ১৪৯     ৯:৫০ অপরাহ্ণ     রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
--

ক্রীড়া  ডেস্ক : শুরু হলো ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ৷ আলো ঝলমলে লুজনিকি স্টেডিয়ামে শুরুতেই মাঠে নামে উদ্বোধনী রাশিয়া ও সৌদি আরব৷

উদ্বোধনের মঞ্চে সেই ম্যাচ দেখেন ৮০ হাজার দর্শক৷ টানটান ৯০ নব্বই মিনিটের শেষে কেউ কেউ হইহই করতে করতে বাড়ির পথ ধরে৷ আবারও কারও কারও সম্বল হয় শুধুই চোখের পানি৷

কিন্তু মস্কো শহরের এই গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনায় এমন একদিন গিয়েছে, যেদিন মাঠ থেকে কেউই হাসিমুখে বের হতে পারেননি৷ বরং কেউ কেউ কোনো মতে বাড়ি ফিরেছিলেন৷ কারো আবার ঠাঁই হয়েছিল হাসপাতালে৷ আর ৬৬ জন মাঠ থেকে আর বেঁচে ফিরতে পারেননি৷ চলে গিয়েছিলেন চিরঘুমে৷

এই ঘটনা ১৯৮২ সালের৷ সেদিন লুজনিকি স্টেডিয়ামে উয়েফা কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচ ছিল৷ রাশিয়ার এফসি স্পার্টাক সেদিন খেলতে নেমেছিল ডাচ ক্লাব এইচএফসি হারলেমের বিরুদ্ধে৷

ম্যাচ যখন একেবারে শেষের পথে তখন গ্যালারি ছাড়তে শুরু করেন দর্শকরা৷ বাড়ি ফেরার জন্য মেট্রো ধরতে ম্যাচ শেষের আগেই দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করছিলেন৷ তাতেই সমস্যা তৈরি হয়৷ শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি৷ মাঠে তখন বরফ পড়ছিল৷ সিঁড়িতে সেই বরফে পা পিছলে একজন পড়ে যান৷ এরপরই পা পিছলে পড়তে থাকেন অনেকেই। হুড়োহুড়িতে অনেকে পদপিষ্ট হন৷ বহু দর্শক আহত হন৷ মৃত্যু হয় ৬৬ জন ফুটবল ভক্তের৷

লুজনিকি স্টেডিয়াম উদ্বোধনের আনন্দে মাতলেও সেদিনের সেই আতঙ্কের স্মৃতি এখনও তরতাজা অনেকের কাছে৷ যদিও এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহ্যও জড়িয়ে রয়েছে৷ ১৯৫৬ সালের ৩১ জুলাই এই স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু৷ তার আগে ১৯৫৫ থেকে ৫৬ সালের মধ্যে টানা সাড়ে চারশো দিন ধরে এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়৷

১৯৫২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে অলিম্পিকে ভালো ফল করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ তার পরই এই স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়৷ এর পর মস্কোতে গড়ে ওঠে একটি গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনা৷ তার ঠিক মধ্যস্থলে এই স্টেডিয়াম অবস্থিত৷ গোড়ার দিকে এটার নাম ছিল সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম৷

১৯৮০ সালে এই স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল মস্কো অলিম্পিক৷ শেষও হয়েছিল এখানে৷ এবারও তাই৷ উদ্বোধনী ম্যাচের মতো এখানেই এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ হবে৷ এছাড়া একটি সেমিফাইনাল, একটি প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল ও তিনটি গ্রুপ লিগের ম্যাচ হবে এই লুজনিকি স্টেডিয়ামে৷

২০১৩ সালের মে মাসে এখানে শেষ ফুটবল ম্যাচটি হয়েছিল৷ তার পর আগস্টে আইএএএফ অ্যাথলেটিক ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়৷ এর পর শুরু হয় বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়াম সাজানোর কাজ৷

২০১৭ সালে শেষ হয় সেই কাজ৷ নতুন ভাবে গড়ে ওঠা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ হয় ওই বছরের ১১ নভেম্বর৷ সেটা একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ছিল৷ সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও রাশিয়া৷

এখন ৮০ হাজার লোক ওই স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারছেন৷ তবে আগে এক সঙ্গে ১ লক্ষ লোক বসে খেলা দেখতে পারতেন৷ কিন্তু ১৯৯০ সালের পর স্টেডিয়াম পুনর্গঠন করে আসন সংখ্যা কমানো হয়৷

উত্তরণবার্তা/এআর
 



যমজ লাল্টু-পল্টুর দাম ২০ লাখ

  আগস্ট ১২, ২০১৮     ৪৪৭৮

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচি

  জুন ০৬, ২০১৮     ৪১১২

পুরনো খবর