শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় লেখাপড়ার জন্য লাশ হওয়ার জন্য নয়: রাষ্ট্রপতি     সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন     এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কিছু নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী     বঙ্গবন্ধু খুনের দায়ে জিয়ার ফাঁসি হতো     ফাইভ-জি: ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবের মহাসড়ক     হবিগঞ্জে আমন ধান সংগ্রহে লটারি     মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে বয়টকের ডাক     মোস্তাক-জিয়ার মরণোত্তর বিচার করা হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী    

সৌদিতে নারীকর্মী না পাঠানোর দাবি সংসদে

  নভেম্বর ১২, ২০১৯     ৫১     ২২:০০     জাতীয় সংবাদ
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে নারী গৃহকর্মীদের শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় জাতীয় সংসদে হৈ চৈ করার পাশাপাশি অবিলম্বে সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আপনাদের থেকে সরকার বেশি চিন্তিত। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সংক্রান্ত প্রথম প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। এরপর প্রশ্ন করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ও কাজী ফিরোজ রশীদ। আর এই প্রশ্ন উত্থাপনকালে নারী শ্রমিকদের নির্যাতন-নিপীড়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে রীতিমতো বক্তৃতা দিয়ে ফেলেন। এ নিয়ে অধিবেশন কক্ষে স্বল্প সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সুলতান মনসুর প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের মান-মর্যাদা-ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে নারী শ্রমিক না পাঠিয়ে পুরুষ শ্রমিককে পাঠান। তাহলে ভালো হবে, দেশের মানও বাঁচবে আমাদের মান-ইজ্জতও বাঁচবে। পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর থাকবে। দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে, না হলে আমরা দাসত্বের বাংলাদেশে পরিণত হব।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু যেভাবে চিন্তা করা হয়, সেভাবে হয় না। সৌদি, মালয়েশিয়া যেখানেই বলেন শ্রমবাজার অনুযায়ী ওনারা যেভাবে চায়, ওই হিসেবেই তো পাঠাতে হবে। না হলে পাঠানোর দরকার নেই। যখন বলা হয় মানুষ পাঠাও, মানুষ চাইলে তো মানুষ পাঠাব। না চাইলে ওখানে ঠেলে তো মানুষ পাঠাতে পারব না। আমরা চেষ্টা করব নারীরা যেন সম্মানজনকভাবে ওখানে চাকরি করতে পারে, আর যদি একেবারেই না করতে পারে তাহলে দেখব, চিন্তা করব না পাঠাতে।

এরপর মুজিবুল হক চুন্নু নারী কর্মীদের ইজ্জত রক্ষার জন্য কোনোরকম উদ্যোগ নিয়েছেন কী না জানতে চাইলে জবাবে মন্ত্রী বলেন, গৃহকর্মীর ব্যাপারে আপনারা যত চিন্তিত এরচেয়ে বেশি কিন্তু সরকারই চিন্তিত। সেই ব্যাপারে অনেক পদক্ষেপ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগেই এখানে সৌদি আরবের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ারর্স ওনাকে আমার অফিসে ডেকেছিলাম। বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়েছে। রিয়াদে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে, ওখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়গুলো উত্থাপনের জন্য। আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর সৌদি আরবে যৌথসভা হবে, সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ক্লেইম যে আছে, নির্যাতনের ক্লেইম যেটা আছে, কেন নির্যাতিত হয় এবং এখান থেকে যে সব নারীকে পাঠাই কোনো ব্রিফিং না দিয়ে কোনো ট্রেনিং না দিয়ে, কিছু না দিয়ে আমরা গৃহকর্মী বলে রিক্রুটিং এজেন্টরা পাঠিয়ে দেয়। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি এরপর গৃহকর্মী যারা যাবে তাদের কমপক্ষে এক মাসের ট্রেনিং দিতে হবে। যাতে ওখানে গিয়ে নির্যাতিত না হয়। ওদের হক এবং ওদের সুরক্ষার জন্য আইনি ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ ওনারা নিতে পারেন।

এর আগে কাজী ফিরোজ রশীদ প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ নিয়ে বলেন, আমাদের ঘরে মা-বোন নেই, কেন তাদের কয়েকটা টাকার জন্য পাঠাব? নারীদের সৌদি আরব যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। আমাদের দূতাবাস কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মন্ত্রী কোনো খবর রাখেন না, দালালরা পাঠাইছেন ওনি (মন্ত্রী) খালাস। তারা যে ধরনের অন্যায়-অত্যাচার করে। দালালরা তাদের নিয়ে ছেড়ে দেয় বেচাকেনা হচ্ছে রীতিমতো। সেখানে মেয়েদের হাট বসে, কে কত দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাবেন। এভাবে কেনা-বেচা হয়। অবিলম্বে বন্ধ করবেন কিনা। এই টাকার আমাদের প্রয়োজন নেই। এটা বন্ধ করবেন কিনা, আমি জানতে চাই।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাঠের বক্তৃতা সুন্দরই শুনলাম। মন্ত্রী যে কিছু জানেন না, কিছু করেন না এটা মাঠের বক্তৃতার মতোই। বিভিন্ন নারী যারা ওখান থেকে লাশ হয়ে আসছেন, যারা নির্যাতিত হয়ে আসছেন। গত কয়েক মাসে ১৬০ ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছি। এরই মধ্যে তিনটি লাইসেন্স বাতিলও করেছি। যারা অনিয়ম করেছে তাদের জরিমানাও করেছি। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। যে এজেন্ট এখান থেকে পাঠায়, ওদের আইন করে দিচ্ছি, যারা পাঠাবে ওদের কাউন্টার পার্ট। যারা ওখানে আছে তাদের সম্পূর্ণ বিস্তারিত আমাদের দিতে হবে। দরকার হলে ওদের ওপর মামলা করতে পারি।

উত্তরণবার্তা/এআর
 



পুরনো খবর