ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত     সম্প্রচারের অপেক্ষায় ১১ টিভি চ্যানেল : হাছান মাহমুদ     ১০ বছরে ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী     ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তাণ্ডবে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৯ জেলের লাশ উদ্ধার     পীরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সদস্য সজীব ওয়াজেদ জয়     চার্জার লাইটের ভেতরে ৮ কেজি স্বর্ণ     জাতিসংঘের আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা     আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত    

ব্যাটিং উইকেটে ফায়দা নিতে পারলেন না ব্যাটসম্যানরা

  নভেম্বর ০৭, ২০১৯     ২৫     ২১:৪২     ক্রীড়া
--

উত্তরণবার্তা ক্রীড়া ডেস্ক : যে মাঠে হওয়া দুইটি মাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রথম ইনিংসের গড় রান ১৯৮, সেখানে বুঝতে বাকি থাকে না রাজকোটের সৌরাষ্ট্র স্টেডিয়ামের পিচ শতভাগ ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। টসের আগে পিচ রিপোর্টে সঞ্চালক মুরলি কার্তিককে ঠিক সে কথাই বলেন ক্রিকেট ‘গ্রেট’ সুনিল গাভাস্কার।

জানিয়ে দিলেন, একদম ব্যাটিং বান্ধব উইকেট। প্রচুর রান হবে এখানে। ভারতের ডমিস্টিক ক্রিকেটে এই পিচে চেতেশ্বর পুজারা আর রবিন্দ্র জাদেজার ট্রিপল সেঞ্চুরি আছে, সে তথ্য দিতেও ভুল করলেন না।

ওদিকে টাইগারদের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপেও বলেছিলেন, রাজকোটের পিচ দিল্লির মত হবে না। এখানে পিচ হবে ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ। আর ব্যাটিং উইকেট মানেই ‘হাই স্কোরিং’ ম্যাচ, সেখানে ব্যাটসম্যানদের ভাল খেলা খুব জরুরি।

শুরু দেখে মনে হচ্ছিল,টাইগাররাও ভাল ব্যাটিং করে ১৮০+ রানের একটা চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাবে।বাঁহাতি নাইম শেখ আর লিটন দাসের ব্যাটে ছিল অমন ইঙ্গিত। খুব তেড়েফুঁড়ে শুরু করতে না পারলেও তাদের শুরুটা মন্দ ছিল না।

প্রথম ৭.২ ওভারে ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি মন্দ কী? কিন্তু ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে'র পর সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রান গতি বাড়াতে পারেননি দুজনার কেউই। দুইবার জীবন পাওয়া লিটন দাস ২১ বলে ২৬ রানে ফেরার পর থেকেই আসলে ছন্দপতন। একবার স্টাম্প আর একবার ক্যাচ আউটের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া লিটন রান আউট হন।

প্রথম ওভারে ১৩ রান দিয়ে উইকেট না পেলেও ইয়ুজবেন্দ্র চাহালের গুগলিতে পরাস্ত হয়ে রান আউট হন লিটন। বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে যায় উইকেটকিপার রিশাভ পান্তের হাতে। তার গ্লাভস ফাঁকি দিয়ে বল বুকে লেগে সামনে পড়লে, লিটন দৌড়ে কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে ফিরতে পারেননি। পান্তের থ্রো উইকেট ভেঙে দেয়। রান যেমনই থাকুক না কেন, উদ্বোধনী জুটি থামে ৮ নম্বর ওভারে।

তারপর আরও একটি বড় পার্টনারশিপ খুব দরকার ছিল। যেটা হয়েছিল আগের ম্যাচে। দ্বিতীয় উইকেটে নাইম শেখ আর সৌম্য সরকারের ৪৬ আর তৃতীয় উইকেটে সৌম্য ও মুশফিকের ৬০ রানের পার্টনারশিপে ১৪৮ রান টপকে গিয়েছিল রিয়াদের দল। আজ আর তা হলো না। ৬০ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর ৮৩'তে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। তারপর মোড়ক, ১২৮'এ ৫ উইকেটের পতন।

আর শেষ পর্যন্ত ১৫৩'তে গিয়ে আটকে পড়া। প্রথম উইকেটের পর আর একটি লম্বা জুটিও গড়ে ওঠেনি। ব্যাটসম্যানদের কেউ দীর্ঘ ইনিংসও খেলতে পারেননি। ব্যাটিং সহায়ক পিচে যে চার-ছক্কার ফুলঝুরি খুব জরুরি, সেই সাথে পাওয়ার হিটিংটা অতি দরকারী- এ দুটোর একটিও হয়নি। সেই না হবার যোগফল ১৫০'র ঘরে আটকে থাকা।

সবচেয়ে ক্ষতি হলো নাইম শেখ আউট হবার পর। বয়স কম আর তেড়েফুঁড়ে মারার প্রবণতা বেশি। কিন্তু নাইম শেখকে মনে রাখতে হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবার সব দিন সমান যায় না। যেদিন বল ব্যাটে লাগে, সেদিন লম্বা খেলতে হবে। এই বোধে ঘাটতির কারণে আজও ত্রিশের ঘরে বিদায় নিলেন নাইম। ৩১ বলে ৩৬ রান করে অফস্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ।

সব দিন সমান যায় না। এ কঠিন সত্য আজ হারে হারে টের পেলেন মুশফিক। আগের ম্যাচে ৪৩ বলে ৬০ রান করা হিরো মুশফিক (৬ বলে ৪) এদিন উইকেটে এসে খুব জলদি স্লগ সুইপ করতে গিয়ে লেগস্পিনার চাহালের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেললেন।

তারপর সৌম্য আগের ম্যাচের মত একদিক আগলে রেখে খেললে মিডলঅর্ডারে স্থিতি আসতো। এ বাঁহাতি আগের ম্যাচে দু'দুটি কার্যকর জুটি গড়ার কারিগর। খেলেছিলেন ৩৬ বলে ৩৯ রানের ইনিংসও। কিন্তু আজ তারও মনে হলো একদিক আগলে রাখার চেয়ে মেরে খেলি। আর তাই লেগি চাহালের বলে (২০ বলে ৩০) উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে হলেন স্টাম্পড।

তরুণ আফিফও (৮ বলে ৫) সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি। সঙ্গীর অভাবে একদিকে খানিক লড়াই করা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২১ বলে ৩০) রনে ভঙ্গ দেন ইনিংসের ৯ বল আগেই। এটা দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের স্লো পিচ নয় যে, এই রান নিয়ে লড়াই করা যাবে।

মনে রাখতে হবে, এই মাঠে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর হাই স্কোরিং গেমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারত জয়ী হয়েছিল ৬ উইকেটে। অজিদের ৭ উইকেটে করা ২০১ রানের পিছু ধেয়ে ভারত ২ বল আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছিল।

আর এখানে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছে দু বছর আগে, ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর। ঐ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৪০ রানে হারিয়েছিল বিরাট কোহলির ভারতকে। আগে ব্যাট করে ১৯৬ রানের স্কোর গড়ে ভারতকে হারিয়েছিল কিউরা।

কাজেই টাইগার বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে গেল। অতি নাটকীয় কিছু করতে না পারলে এই রান নিয়ে রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল আর রিশাভ পান্তদের আটকে রাখা হবে খুব কঠিন।
উত্তরণবার্তা/অআ



ক্ষীরের পাটিসাপটা

  নভেম্বর ১১, ২০১৯

পুরনো খবর