মানবতাবিরোধী অপরাধ, গাইবান্ধার রঞ্জু মিয়াসহ পাঁচজনের ফাঁসি     এ মাসেই চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম-মদিনা বিমানের সরাসরি ফ্লাইট     কিশোরগঞ্জের পুরো হাওর এখন পর্যটন এলাকা     মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় ১৪ পুলিশ নিহত     সরকারি সফরে কাতার যাচ্ছেন সেনাবাহিনী প্রধান     লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বেহাত করলে লাইসেন্স বাতিল     আবরার হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ     অনুপ্রবেশকারীদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে বললেন নানক    

পৃথিবীতে মানুষের পরিমাণ মোট জীবের মাত্র ০.০১ শতাংশ

  অক্টোবর ০৯, ২০১৯     ৬৪     ১২:৩৭     শিক্ষা
--

উত্তরণবার্তা তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : আমাদের এই পৃথিবী ব্যাপক রহস্যে ভরপুর এক জায়গা। বড় এক আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীর মোট প্রাণের তুলনায় মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তবে আমাদের সংখ্যা বা পরিমাণ কম হলেও, বিস্তার কিন্তু অনেক বেশি। পৃথিবীতে যত ধরনের জীব আছে তাদের মোট আয়তন হিসাব করার জন্য একদল বিজ্ঞানী চুলচেরা গবেষণা এবং জরিপ পরিচালনা করেন। দেখা যায় যে, পৃথিবীতে অন্যান্য জীবের তুলনায় মানুষের পরিমাণ মাত্র ০.০১ শতাংশ। তবে আমাদের সংখ্যা বা আয়তন কম হলেও সৃষ্টির আদিকাল থেকে পৃথিবীতে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তারকারী প্রাণী একমাত্র আমরাই।

ইসরায়েলে অবস্থিত উইজম্যান বিজ্ঞান গবেষণাগারের জীববিজ্ঞানী রন মিলো ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি মনে করি এই তথ্যের মাধ্যমে পৃথিবীতে মানবজাতির প্রভাব সম্পর্কে সবার একটা ধারণা জন্ম নেবে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আনুপাতিকভাবে পৃথিবীতে মানুষের পরিমাণ কম কিন্তু শক্তি বেশি।’

বিজ্ঞানী রন মিলো এবং তার গবেষকদল তিন বছর ধরে পৃথিবীতে উপস্থিত সকল জীব সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন এবং প্রত্যেকটি জীবের আনুপাতিক পরিমাণ ও জৈবিক আয়তন সম্পর্কে সর্বশেষ বর্ণনামূলক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।

পৃথিবীতে উপস্থিত বিভিন্ন জীবের আনুপাতিক পরিমাণ বা জৈবিক আয়তন জরিপ করার জন্য তাদের দেহে কার্বনের পরিমাণ পরিমাপক হিসেবে ধরা হয়। পানির পরিমাণ এখানে পরিমাপক হিসেবে ধরা সম্ভব নয়; কেননা প্রতিটি জীবের দেহে পানির পরিমাণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। বিজ্ঞানী মিলো এবং তার গবেষকদল কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে জীবদেহে থাকা মোট কার্বনের পরিমাণ প্রায় ৫৫০ গিগাটন।

মোট জীবজ কার্বনের ৮০ শতাংশ রয়েছে উদ্ভিদ প্রজাতিগুলোর দখলে। পৃথিবীতে মোট উদ্ভিজ্জ কার্বনের পরিমাণ ৪৫০ গিগাটন যা যেকোনো জীব প্রজাতির তুলনায় অনেক বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া। মোট কার্বনের ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ৭০ গিগাটন কার্বন বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার দেহে সঞ্চিত থাকে। তার পরের ক্রমে রয়েছে ছত্রাকের অবস্থান। পৃথিবীতে প্রাপ্ত সকল প্রাণীর তুলনায় ছত্রাকের সংখ্যা ছয়গুণ বেশি এবং এদের দেহে সঞ্চিত কার্বনের পরিমাণ ১২ গিগাটন। বিভিন্ন প্রজাতির জীবাশ্ম উদ্ভিদে প্রায় ৭ গিগাটন এবং প্রোটিস্ট প্রজাতিতে রয়েছে ৪ গিগাটন কার্বন।

উল্লেখ্য, পৃথিবীর সমগ্র প্রাণীজগতে সঞ্চিত কার্বনের পরিমাণ মাত্র ২ গিগাটন। এর মধ্যে মানবজাতির সঞ্চিত কার্বনের পরিমাণ খুবই কম। সংখ্যায় কম হলেও সমগ্র প্রাণীজগতের মধ্যে মানুষই সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রাণী। পৃথিবীতে মানুষের জৈবিক আয়তন প্রায় ০.০৬ গিগাটন কার্বনের সমান। বন্য স্তন্যপায়ীদের তুলনায় মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে ১০ গুণ বেশি এবং তাদের জৈবিক আয়তন মাত্র ০.০০৭ গিগাটন কার্বনের সমান। মানুষের দখলদারী থাকা সত্ত্বেও কিছু স্তন্যপায়ী আছে যারা মানুষের চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয় এবং নিরপেক্ষভাবে তাদেরও একটা বড় অবস্থান  তৈরি হয়ে গেছে। এরা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গবাদি পশু। বিভিন্ন প্রজাতির গবাদি পশু এবং শুকর পরিমাণে মোট স্তন্যপায়ীদের প্রায় ৬০ শতাংশ। এদের মোট জৈবিক আয়তন ০.১ গিগাটন কার্বনের সমান। পক্ষীকুলের সংখ্যা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বন্য পাখির তুলনায় গৃহপালিত পাখির সংখ্যা এবং জৈবিক আয়তন প্রায় ৩ গুণ বেশি।

জীবনবিজ্ঞানী মিলো ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে জানান, ‘আমি আমার মেয়েকে যদি খেলনা জীবজন্তু সাজাতে বলি তাহলে সে প্রথমে হাতি, তারপর জিরাফ এবং শেষে গন্ডার রেখে সাজাবে। সাধারণত প্রাকৃতিক ক্রমবিন্যাশ এমনই হওয়া উচিত। কিন্তু আমি যদি তাকে বাস্তবতা বোঝাতে যাই তাহলে ক্রমান্বয়ে তিনটি গরু সাজিয়ে তারপর একটা মুরগির অবস্থান আসবে যা আদৌ কাম্য নয়।’ কৃষির অগ্রগতি, গবাদিপশু পালনের হার বৃদ্ধি এবং শিল্পবিপ্লবের কারণে প্রাণীজগতের জৈবিক আয়তন এবং প্রাণীদের ক্রমবিন্যাশের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশ এতোটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে যে, গবেষকরা প্রাকমানবীয় যুগের প্রাণীদের জৈবিক আয়তন নির্ণয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমানে বন্য স্তন্যপায়ীদের তুলনায় মানুষের জৈবিক আয়তন অনেক বেশি এবং তা মোট স্তন্যপায়ীদের প্রায় ৮৫ শতাংশ। তাছাড়া গাছপালা কাটার ফলে উদ্ভিজ্জ জীবের জৈবিক আয়তন এখন অর্ধেক হয়ে গেছে ফলে সমগ্র জীবমন্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে আমরা জীববিলুপ্তির সন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত হয়েছি।

বর্তমানে মানবসভ্যতার স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মানুষ পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে এবং তা দিনদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। পৃথিবীতে মানুষের পরিমাণ মোট জীবের মাত্র ০.০১ শতাংশ, তবুও পৃথিবী ধ্বংসের জন্য মানুষই দায়ী। গবেষণায় বলা হয়েছে, সভ্যতার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৮৩ শতাংশ বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী ও অর্ধেক সংখ্যক গাছ বিলুপ্তির কারণ মানুষ।

উত্তরণবার্তা/এআর



পুরনো খবর