সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র     মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে : তথ্যমন্ত্রী     দৃষ্টিনন্দন হবে শাহবাগ থেকে ঢাকা মেডিকেল: প্রধানমন্ত্রী     দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে শুদ্ধি অভিযান চলছে : ওবায়দুল কাদের     জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী     চট্রগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ সম্মেলনে ০৬ ক্যাটাগরিতে নোয়াখালী জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন     প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন আজ     নিয়মরক্ষার ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে কাল জিততে চায় জিম্বাবুয়ে    

বেড়েছে সাক্ষরতা

  সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯     ২৮     ১০:৫৯     শিক্ষা
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : এক বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের আগেই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া তথ্যে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।

শিক্ষার উন্নয়নে গত এক দশকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলো সরকার। এর মধ্যে অন্যতম ছিল আরো বেশি জনগণকে শিক্ষার আওতায় আনা। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারাদেশে স্বাক্ষরতার হার বাড়াতে কাজ করেছে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেছে বেড়েছে এক শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, বর্তমানে সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালে যা ছিলো ৭২.৯ শতাংশ। যদিও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। কেননা, এক বছরে নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। বেড়েছে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীর হারসহ অন্যান্য সূচক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব আনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৭ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। আর ১৫ বছর বয়সীদের গড় সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ বিষয়ে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ বলেন, বিবিএস থেকে আমরা যে পরিসংখ্যান পেয়েছি সে হিসেবে এ বছর গড় সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। সরকারের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্য হিসেবে এ হার বাড়াতে আমাদের নানা তৎপরতা রয়েছে। আশা করছি সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধারাবাহিক থাকবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, এবার সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহু ভাষায় সাক্ষরতা’। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসকে কেন্দ্র করে ইউনেস্কোর নির্ধারিত ‘লিটারেসি অ্যান্ড মাল্টিলিংগুইজম’ এর সাথে সংগতি রেখে এটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নানামুখী কার্যক্রম ইতোমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন সেখানে দেশের সাক্ষরতার সার্বিক বিষয় তুলে ধরবেন। পাশাপাশি সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে যে সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেসব বিষয়ও জানানো হবে।

তিনি বলেন, দিবসটি উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্তকরণ, ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ, পোস্টার তৈরি, শোভাযাত্রা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ, গোলটেবিল বৈঠক ও টেলিভিশনে টকশোর আয়োজন করা হবে।

প্রতিপাদ্য নির্ধারণ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, যোগাযোগ নির্ভর বর্তমান বিশ্বে বহুভাষায় কথা বলার সক্ষমতা এবং ভাষাগত বিভক্তি সত্ত্বেও যোগাযোগ করতে পারা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। এমনকি অন্য কোন ভাষার আংশিক জ্ঞানও লাভজনক। একাধিক ভাষার দক্ষতা আজকের বিশ্বে নতুন ধরনের সাক্ষরতা। তাই ভাষা শিক্ষার সম্প্রসারণ ছোট-বড় সবার প্রয়োজন। বিশেষ করে আমাদের মত দেশে যেখানে লাখ লাখ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে।

এদিকে সাক্ষরতার হার বাড়াতে নানামুখী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাক্ষরতা কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যালয় বহির্ভূত ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৫ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাক্ষরতার হার আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ৮ সেপ্টেম্বর তারিখকে ঘোষণা করে। ১৯৬৬ সালে বিশ্বে প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়। প্রতিবছর এ দিবসটি উদযাপনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশের সাক্ষরতা এবং বয়স্ক শিক্ষার অবস্থা তুলে ধরা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রথম সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত হয়।

উত্তরণবার্তা/এআর



পুরনো খবর