প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ১৭ নভেম্বর থেকে     যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিমানের সুনাম বৃদ্ধি করুন : প্রধানমন্ত্রী     পিলখানা বিদ্রোহের সময় খালেদা জিয়া ২৪ ঘণ্টা কোথায় ছিলেন     ২১ আগস্ট নিয়ে উপহাসকারী রিজভীদেরও বিচার হওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রী     ব্রাজিলের আমদানি শুল্ক আরো সহনীয় পর্যায়ে আনার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর     তরুণদের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগানোর কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে : স্পিকার     ময়মনসিংহের ১৫ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ     উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী    

বিলুপ্তির পথে ‘প্রকৃতির ঝাঁড়ুদার’ শকুন

  আগস্ট ১৪, ২০১৯     ১৯     ১০:০১ পূর্বাহ্ন     বিনোদন
--

উত্তরণবার্তা লাইফস্টাইল ডেস্ক : দেশের বিপন্ন পাখি প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপন্নের তালিকায় রয়েছে শকুন। অতীতে শত শত শকুন নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের হাওরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা এবং বড় বড় গাছের মগডালে দেখা গেলেও এখন তেমন একটা দেখা মিলছে না। এক সময় শকুন ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা পাখি। সে সময় পশু বা জীবজানোয়ার মারা গেলে দলবেঁধে হাজির হতো শত শত শকুন। নিমিষেই মৃত পশু বা জীবজানোয়ার খেয়ে সাবাড় করত। তাড়াতে চাইলে কিছু দূরে আবার বসে থাকত। এ পাখিকে ‘প্রকৃতির অলঙ্কার’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। খাদ্য সংকটসহ খাল-বিল, নদী-নালা ভরাট ও উঁচু গাছপালা হারিয়ে যাওয়ায় এদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে।

পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যে পাখি ভালোবাসে না। পাখির গান শুনতে পছন্দ করে না। পাখির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় না। কয়েক দশক আগেও গ্রামবাংলা সবুজ গাছ-গাছালিতে ভরা ছিল। ঝোপ-ঝাড় ছিল। চারপাশ মুখরিত ছিল পাখির কলকাকলিতে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পাল্লা দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বন-জঙ্গল উজাড় হচ্ছে। বিনষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন গাছ-গাছালি। মানুষের প্রয়োজনে বিভিন্ন জেলার বনাঞ্চল থেকে ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করে নির্মাণ করা হচ্ছে সড়ক, স্থাপনা, বাজারসহ জনবসতি। এতে বিপন্ন হয়ে উঠছে প্রকৃতি। প্রকৃতি বিপন্ন হওয়ার কারণেই হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র। এক সময় হাওর এলাকায় ও বড় বড় নদীর খোলা আকাশে বহু উপরে উড়ে বেড়াত ঝাঁকে ঝাঁকে শকুন। একটি শকুনকে নিচে নামতে দেখলেই বাকিগুলো তাকে অনুসরণ করে মরা পশু খেয়ে সাবাড় করে দিত। আকাশে ওড়া শকুন দেখে মানুষ বুঝতে পারতেন ওই আকাশের নিচে কোনো প্রাণী মরেছে। এসব খাবার খেয়ে বড় বড় উঁচু গাছ ও বিশেষ করে শিমুল গাছে ডানা মেলে বসে থাকত শকুন। শকুনই একমাত্র পাখি যারা গবাদিপশুর মৃতদেহ খেতে পারে। মৃত গবাদিপশু খেয়ে শকুন পরিবেশ পরিছন্ন করে রাখত। যার জন্য শকুনকে প্রকৃতির ঝাঁড়ুদার নামেও ডাকা হতো। অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগ-জীবাণু হজম করার ক্ষমতা শকুনের আছে। এখন হাওরে বা নদী পাড়ে শিমুল, তাল, বট, রেইনট্রি, কড়ই কিংবা উঁচু কোনো গাছ অথবা ঝোপ-ঝাঁড় নেই আগের মতো। আর অনেকটা এ কারনেই হারিয়ে গেছে শুকুন।

পরিবেশবিদদের মতে, কল-কারখানার দূষিত বর্জ্যের কারণে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে শকুনসহ নানা প্রজাতির পাখি। এ ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে এখন আগের মতো গণহারে পশু পালন করা হয় না। যে কটি গবাদিপশু আছে এগুলোর দু-একটি মারা গেলে খোলা আকাশের নিচে না ফেলে মাটিতে পুঁতে রাখে। ফলে এদের খাদ্য সংকট দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর এ কারণে শকুন চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে। শস্যক্ষেতে বিষটোপ, খাদ্য সংকট ও গবাদিপশুর চিকিৎসার প্রদাহরোধক ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ব্যবহারে এবং প্রাচীন ও উঁচু গাছ নিধন হওয়ায় শকুন কমে যাচ্ছে। ফলে শকুনের অস্তিত্ব প্রায় শূন্যের কোঠায়। বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলার রেমা ফরেস্টে কিছু বেসরকারী সংগঠন শকুনের বংশবৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। ২০১২ সাল থেকে এরা রেমায় শকুনের অভয়ারন্য গড়ে তোলার চেষ্টা ও গবেষণা করছে। প্রকৃতির সব বণ্যপ্রাণী ও পাখি স্বাভাবিক নিয়মে বেঁচে থাকুক এটাই হোক আমাদের সবার কাম্য।

শকুন হচ্ছে  Accipitridae গোত্রের ৭৫-৮৫ সে.মি. দৈর্ঘ্যের কালচে দেহের গলা ছিলা পাখি। পালকহীন মাথা ও ঘাড় কালচে ধূসর। কোমর সাদা। নিচ থেকে দেখলে সাদাটে গলাবদ্ধ ও ডানার ত্রিকোণ সাদা অংশ ছাড়া সারা দেহ কালো। চোখ বাদামী। পা কালো।

বাংলা নাম: শকুন

ইংরেজি নাম:  white-rumped vulture.

বৈজ্ঞানিক নাম: Gyps bengalensis.

উত্তরণবার্তা/এআর





 



ইসিতে দুই দালাল আটক

  আগস্ট ২২, ২০১৯

ভিসা করতে যা যা জেনে রাখা জরুরি

  আগস্ট ২২, ২০১৯     ১৫৫৯

কোরবানির মাংসের অন্যরকম হাট!

  আগস্ট ১৩, ২০১৯     ১৩৪৯

ভিসা ছাড়াই বিদেশভ্রমণ

  আগস্ট ২২, ২০১৯     ১১১২

নার্স খুনের কারণ জানালেন সহকর্মী

  আগস্ট ২১, ২০১৯     ১০৩১

চুলের যত্নে সরিষার তেল

  আগস্ট ২২, ২০১৯     ৩৯১

পুরনো খবর