তিনটি উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ     ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া সুপারশপ-শপিংমল পরিচালনা করা যাবে না     ভারতে হাসিনা : এ ডটার’স টেল প্রামাণ্যচিত্রটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে     ঈদে ফেরিতে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান পারাপার বন্ধ থাকবে     যুদ্ধাপরাধে গাইবান্ধার ৫ জনের রায় যে কোনো দিন     ২০২১ সালের বিজয় দিবসে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬ চালু হবে : সেতুমন্ত্রী     প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ     রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি একসঙ্গে অনুসরণ করুন : রাষ্ট্রদূতদের প্রধানমন্ত্রী    

শেষটা রাঙানো হল না

  জুলাই ০৬, ২০১৯     ১৬     ১১:৩১ পূর্বাহ্ন     ক্রীড়া
--

উত্তরণবার্তা ক্রীড়া ডেস্ক : লর্ডসে ক্রিকেট মানেই তো উৎসব। সেই উৎসবে শামিল হতে কে না চায়। জয়-পরাজয় ছাপিয়ে যেখানে ক্রিকেট হয়ে ওঠে উপভোগের উপলক্ষ। ক্রিকেট যে সাহেবদের খেলা সেটা লর্ডসে পা রাখলেই টের পাওয়া যায়।

ক্রিকেট তীর্থে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করতে পারলে অনেক কিছুই ভুলে থাকা সহজ হতে পারত বাংলাদেশের জন্য। সেখানে উল্টো বিষণ্ণতা আরও বেড়ে গেল মাশরাফিদের। ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রেকর্ডরাঙা জয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা।

এরপর উত্থান-পতনের রোলার কোস্টারে চেপে সাত ম্যাচ পর্যন্ত সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মাশরাফিরা। কিন্তু স্বপ্নযাত্রার শেষটা হল বড়ই বিবর্ণ। ভারতের কাছে হেরে সেমির স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার লর্ডসে আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচেও সান্ত্বনার জয় মুঠোবন্দি করতে পারল না বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের কাছে ৯৪ রানে হেরে শেষ হল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের বাজে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নয় উইকেটে পাকিস্তান তুলেছিল ৩১৫ রান। জবাবে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় ৪৪.১ ওভারে আসরে নিজেদের সর্বনিম্ন ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

৩৫ রানে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেন ম্যাচসেরা শাহিন শাহ আফ্রিদি। বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে মোস্তাফিজুর রহমানের পাঁচ উইকেট ও সাকিব আল হাসানের (৬৬) আরেকটি ফিফটি।

নয় ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের সাতে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করল বাংলাদেশ। তবে দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে আট ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬০৬ রান করে বিশ্বকাপে ঠিকই নিজের ছাপ রেখে গেলেন সাকিব। আসরজুড়ে নিজেদের হারিয়ে খোঁজা তামিম ইকবাল (৮) ও সৌম্য সরকার (২২) শেষ ম্যাচেও ব্যর্থ। মুশফিকুর রহিম (১৬) ও লিটন দাসও (৩২) বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি সাকিবকে।

৭৭ বলে ৬৪ রান করে সাকিব বিদায় নিতেই শেষটা রাঙানোর ক্ষীণ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। মাহমুদউল্লাহর ২৯ রানের ইনিংস হারের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছে। শাহিন আফ্রিদির ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে পাকিস্তান অনায়াসে জিতলেও সেমির টিকিট কাটতে পারেনি। নেট রানরেটে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় সমান ১১ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হল সরফরাজ আহমেদদের। ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার পর দলের সুরটা যেন কোথায় কেটে গিয়েছিল। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থাকায় আগেরদিন

টিম ম্যানেজমেন্টকে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে না খেলার কথা জানান মাশরাফি মুর্তজা। সাকিব আল হাসানকে নেতৃত্বের গুরুভার নিতে বলেন তিনি। তবে মাশরাফির কথা কেউ শোনেননি।

অনেক রাত পর্যন্ত এসব নিয়ে টিম হোটেলে চলেছে আলোচনা। সঙ্গে চোটের কারণে মুশফিকুর রহিমের খেলা না খেলা নিয়ে ছিল দ্বিমত। শেষপর্যন্ত মাশরাফি-মুশফিক দু’জনই খেলেছেন। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে শুক্রবার প্রথমবারের মতো লর্ডসে বাংলাদেশ খেলেছে লাল রঙের অ্যাওয়ে জার্সিতে।

দলের এলোমেলো অবস্থা যেন ফুটে উঠল ছন্নছাড়া ফিল্ডিং ও শারীরিক ভাষায়। বোলিংয়ে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও পাকিস্তানকে তিনশ’র নিচে আটকে রাখা যায়নি মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে। আগের ম্যাচে ভারত করেছিল ৩১৪ রান। কাল পাকিস্তান করল নয় উইকেটে ৩১৫ রান। বাজে ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও বিবর্ণ বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ভারত-পাকিস্তানের ইনিংসে যেমন মিল আছে তেমনি মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়েও। ক্যারিয়ারের শুরুর দুই ম্যাচের পর আবারও টানা দু’বার পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসের বিখ্যাত অনার্স বোর্ডে নাম লেখালেন এই বাঁ-হাতি পেসার। পাকিস্তানের বিপক্ষে কাল ৭৫ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। এছাড়া ৭৭ রানে তিন উইকেট পেয়েছেন সাইফউদ্দিন।

এজবাস্টনে রোহিত শর্মা শুরুতে মোস্তাফিজের বলে জীবন পেয়ে থেমেছিলেন সেঞ্চুরি করে। লর্ডসে সেই মোস্তাফিজের বলে ৫৭ রানে ক্যাচ তুলে বেঁচে যান বাবর আজম। আগের ম্যাচে স্কোয়ার লেগে তামিম ইকবাল, এবার পয়েন্টে ফিল্ডার ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। বাবর শেষপর্যন্ত আউট হয়েছেন ৯৬ করে।

তিনি সেঞ্চুরি না পেলেও ওপেনার ইমাম-উল-হক তিন অংক ছুঁয়েছেন। মোস্তাফিজের আগেই তিনি লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুলে ফেলেন। দ্বিতীয় উইকেটে ইমাম ও বাবরের ১৫৭ রানের জুটিতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় পাকিস্তান।

অথচ তাদের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। প্রথম দশ ওভারে পাকিস্তান ফখর জামানের উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে মাত্র ৩৮ রান। মাশরাফি বোলিং শুরু করান অফ-স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়ে। সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাইফউদ্দিন।

শুরুর চাপ ধরে রাখতে না পারার বড় দায় ফিল্ডারদের। এমন কয়েকটা চার ছেড়েছেন সাইফউদ্দিন-সৌম্যরা যেগুলো হতে পারত এক রান। মিরাজের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ নিতে পারলে বাবর ৬৫ রানে দ্বিতীয়বার জীবন পেতেন না। মিস ফিল্ডিংয়ের আফসোস তো আছেই। সঙ্গে ২০-৪০ ওভার পর্যন্ত বোলাররাও ভালো করতে পারেননি। এ সময় দ্রুত রান তুলেছে পাকিস্তান।

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডেথ ওভারে ভালো করতে না পারায় রানের পাহাড়ে চাপা পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে ডেথ ওভারে দারুণভাবে ফিরেছেন বোলাররা।

মোস্তাফিজ বার্মিংহামে পাঁচ উইকেট পূরণ করেছিলেন শেষ ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে। লর্ডসেও শেষ ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট পেলেন। লর্ডসে এর আগে টেস্টে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন বাংলাদেশের শাহাদাত হোসেন। সাদা পোশাকে সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে নাম লেখান তামিম ইকবালও।

এবার লর্ডসে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই সেই কীর্তি গড়লেন মোস্তাফিজ। তুলে নিলেন পাঁচ উইকেট। এবার বিশ্বকাপে আট ইনিংসে তার উইকেট ২০টি। এক বিশ্বকাপে এত উইকেট নেই বাংলাদেশের আর কোনো বোলারের।

বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে আট রান তুলতেই পাকিস্তানের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তার জন্য আর জয়-পরাজয়ের অপেক্ষা করতে হয়নি। তবে বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচটা অন্তত বোলিংয়ে রাঙাতে পারল না বাংলাদেশ।

উত্তরণবার্তা/এআর


 



পুরনো খবর