ইডেন টেস্ট, এক দি‌নের সফ‌রে কলকাতা যা‌বেন প্রধানমন্ত্রী     চট্টগ্রামে আয়কর মেলা উদ্বোধন করলেন মেয়র     প্রতিটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী     যুদ্ধাপরাধীরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে থাকতে পারবে না     নির্মাতা হুমায়ূন সাধু আর নেই     শুরুতেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ     টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ     আয়কর মেলা শুরু আজ    

সাপ নয় সাপপাখি

  জুন ২৫, ২০১৯     ৯১৯     ১২:৫৪ অপরাহ্ণ     আরও
--

উত্তরণবার্তা ডেস্ক : সাপপাখি বা গয়ার চিকন দেহ ও লম্বা গলার বড় জলচর পাখি। ঠোঁট লম্বা, সরু ও সুচালো এবং চ্যাপ্টা। দেখতে অবিকল চাকুর মতো। পৃথিবীতে দুই প্রজাতির সাপপাখি দেখা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এক প্রজাতির সাপপাখির বসবাস।

এরা Anthinga melanogaster গোত্রের অন্তর্ভূক্ত ৯০ সে.মি. দৈর্ঘ্যের বড় দেহের জলচর পাখি এবং ওজন ১.৫০০গ্রাম থেকে ১.৭০০গ্রাম। লেজ লম্বা অনেকটা ঝাড়ুর মতো দেখতে। পা খাটো। পায়ের পাতা বড়। সাঁতারের জন্য চারটি আঙুল পর্দাদ্বারা যুক্ত। এদের দেহের তলদেশ জ্বলজ্বলে কালো । ঘাড় মুখমণ্ডল কাপড়ের মতো চকলেট-বাদামি বর্ণের। থুতনি ও গলা সাদা। চোখের পিছন দিক থেকে শুরু করে গলার নিচের দিকে অর্ধেক পর্যন্ত সরু সাদা টান আছে। এদের ঠোঁট দুই রঙের। উপরি ভাগ কালচে-বাদামি ও নিচের অংশ হলুদ। পা ও পায়ের পাতা কালো বর্ণের। এদের মাথা, ঘাড়, কাঁধের উপরি অংশ বাদামি। কিন্তু প্রজননকালে পুরুষপাখির পিঠ কালো, ডানা ও দেহের পিছনে সোনালী-ধূসর লম্বালম্বি দাগ যা পাখিটিকে খুবই আকর্ষণীয় করে তোলে মেয়ে পাখির কাছে। আর পুরুষ পাখির এই সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে মেয়ে পাখির জোড়া বাঁধার স্বাদ জাগে।

সাপপাখির মূল খাবার মাছ। গভীর পানিতে ডুব দিয়ে এরা ছোরার মতো চিকন লম্বা ঠোঁটের আঘাতে শিকার করতে অভ্যস্ত। খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনে ছোট ছোট সাপও খেয়ে থাকে। সাঁতার কাটার সময় এর সরু গলা ও মাথা পানির উপরে ভাসিয়ে রাখে। দেখতে অবিকল সাপের মতো লাগে। যে কারণে এদের ‘সাপপাখি’ নামকরণ হয়েছে। শিকার শেষে নদী বা বিলের ধারে খুঁটিতে বসে বিশ্রাম করে। বিশ্রামের সময় এদিক-ওদিক গলা ঘুড়িয়ে দেখে। এদের গলা অনেক লম্বা ও খাটো করার সামর্থ্য রাখে। শিকার শেষে পানি থেকে উঠে খুঁটির উপর বসে দুই ডানা প্রসারিত করে ভেজা পালক রৌদ্রে শুকায়।

জুন থেকে ডিসেম্বর মাস এদের প্রজনন কাল। এ সময় মেয়ে পাখিকে আকর্ষণ করার জন্য চিগ, চিগ, চিগ শব্দে বারবার ডাকতে থাকে। পানির ধারে বড় বড় গাছে ডালপালা দিয়ে বাসা বানায় এরা। নিজেদের বানানো বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমগুলি সবুজ-নীলাভ হয়। এরা ৩ থেকে ৬টি ডিম পাড়ে।

সাপপাখি সচরাচর নদী, হাওর, বিল, পুকুর ও বড় বড় জলাশয়ে বিচরণ করে। বেশির ভাগ সময় একা থাকে। অনেক সময় জোড়া বা বিচ্ছিন্ন ঝাঁকেও দেখা যায়। যেহেতু বড় বড় মাছের ঘেরে এদের বিচরণ তাই এদের আহারের সামান্য কয়টা মাছ রক্ষার জন্য ঘেরমালিকরা এদের শিকার করে। শিকারীদের অত্যাচারে এদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সাপপাখি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি। আমাদের দেশে এরা সংকটাপন্ন বলে বিবেচিত। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের হাওর বা বিলের পানিতে এদের বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশ ছাড়াও আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, পকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এদের বিচরণ ক্ষেত্র।

বাংলা নাম : সাপগলা, সাপপাখি, গয়ার, রাগা
ইংরেজি নাম : Darter
বৈজ্ঞানিক নাম : Anthinga melanogaster

উত্তরণবার্তা/এআর



নতুন চুল গজাবে যে পাতায়

  নভেম্বর ১৪, ২০১৯     ১৩৪

বিশ্বনাথে বিষমুক্ত লাউয়ের হাট

  নভেম্বর ১৪, ২০১৯     ২০

১৪ নভেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

  নভেম্বর ১৪, ২০১৯     ২০

নির্মাতা হুমায়ূন সাধু আর নেই

  নভেম্বর ১৪, ২০১৯     ১৯

পুরনো খবর